আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চাই সত‍্য জ্ঞান —————————————-

ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী —————————————-

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আমরা এখন একুশ শতকে সূর্য উদয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়। এ যুগ প্রচণ্ড জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তির ক্ষমতার বিকশিতের যুগ। প্রতিযোগিতার যুগ। আগে প্রতিযোগিতা হতো দেশের একটি অঞ্চলে।সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা হতো জাতীয় পর্যায়ে।এ যুগে কেউ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সারা পৃথিবীর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে। কারণ জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তি অর্থনীতির বাজার বিশ্বে মাত্র একটি, দুটি নেই।

এখনো আমরা বুঝতে চাই না,পরীক্ষার খাতার প্রতিযোগিতায় বেশি নাম্বার পেলাম কিন্তু জীবনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে সফল বলা যাবে না। আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফার্স্টবয়দের নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি হয় কিন্তু জীবনের পরীক্ষায় যাঁরা সফল হয়েছে তাদের নিয়ে তেমন কিছু হয় না। নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনকেও এ বিষয়টি পীড়া দিয়েছে। যা তিনি তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ‘দ্য কান্ট্রি অব ফাস্ট বয়েজ’ এ উল্লেখ করেছেন। ফাস্ট বয় কিন্তু অমর্ত্য সেন কখনো হয়নি। পরীক্ষায় পাস করা আর জীবনের পরীক্ষা পাস হওয়া এক বিষয় নয়।

পাঠ পরবর্তী জীবন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ‍্যায়। সে সময় সম্পর্কে যে উদাসীন সে ব‍্যক্তি সফল মানুষ হতে পারে না। আজকাল পত্রিকায় দেখতে পাই, পরীক্ষার নাম্বারের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের জঘন্য সিদ্ধান্ত ‘আত্মহত্যা’র পথ পর্যন্ত গ্রহণ করছে।
বিশ্বের সেরা ধনী বিল গেটস বলেছেন, ক্লাসের যে ছেলেটি ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে প্রথম হতো সে আমার মাইক্রোসফ্ট কোম্পানীর ভাইস প্রেসিডেন্ট। আর যে ছেলেটি (বিল গেটস) এ সবের অত্যাচারে পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছিল সেই ছেলেটি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।

বিল গেটস কিন্তু হার্ভার্ডে কয়েকটি বিষয়ে ফেল করেছিল। যারা পাস করে তাদের অনেকই আজ তাঁর প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত। আমাদের মনে রাখতে হবে বিল গেটস কিন্তু ধন কুবের হওয়ার জন্য সফটওয়ার আবিষ্কার করেনি। পৃথিবীটাকে সহজ করার জন্য তিনি কাজটি করেছিলেন। সে কাজটিই তাঁকে পৃথিবীর সেরা ধনীতে পরিণত করেন।

সাহিত্যিক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, ‘সফলতা নয়, জীবনকে সার্থক করো। ফুলের রং সফলতা, সৌরভ হলো সার্থকতা, অনেক জীবন শিক্ষার অর্থে সফল হতে দেখি কিন্তু সার্থক হয় না। কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেছেন, ‘কুমড়া ফুল থেকে ফল হয়, এটা হলো সফলতা, আর গোলাপ ফুল থেকে ফল হয় না, বীজ হয় না, কিন্তু তার আছে সৌন্দর্য ও সৌরভ। এটা হলো সার্থকতা।

বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ছিলো,হয়তো ভবিষ‍্যতে এগিয়ে যাওয়ার কাতারে যাবে।একসময় এদেশের মানুষের মাথাপিছু আরো বাড়তে পারে।বহু উন্নয়ন একদিন ঘটতে পারে।সে উন্নতিকে প্রকৃত উন্নতিতে রূপ দিতে না পারলে আমরা জাতি হিসেবে টিকে থাকবো কী ভাবে! আমরা পৃথিবীতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ অনকে দেশ দেখেছি। বর্তমান যুদ্ধরত সিরিয়া, লেবানন, ইরাক, লিবিয়ার মাথাপিছু আয় অনেক বেশি ছিল।

আজ কিন্তু রাষ্ট্রগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত।আমাদেরও একই অবস্থা হবে কিনা তা বলা যায় না।আমাদের উন্নতিকে মানসিকতার উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে না পারলে, পিছিয়ে যেতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সাথে মানসিক ও মানব সম্পদ উন্নয়ন জরুরি। মানবসম্পদ উন্নয়ন করতে হলে মানবিক মূল্যবোধের উন্নতি করতে হবে। দৃষ্টি রাখতে হবে বাহ‍্যিক উন্নতিকে যেন মনুষ্যত্বের অবনতির দিকে নিয়ে না যায়।

আজ শিক্ষার অভাব নেই,দীক্ষার অভাব আছে। শিক্ষার সাথে দীক্ষার সমন্বয় না ঘটলে জীবন সফল হয় না।
শিক্ষা গতি আনে, দীক্ষা আদর্শ শিখায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে প্রচুর কিন্তু দীক্ষাগুরুর আছে অভাব। মানুষ গড়ার শিল্পী আজ কয়জন আছে।এই শিল্পীরা আজ ছাত্র কতৃক অপমানিত হয়।আমাদের আর বাকি থাকলো কী!
আধুনিক যুগের সেরা বিজ্ঞানী আলভার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, জীবনটা শিক্ষার জন্য, যে দিন কিছু শিখতে পারি না সেটা আমার জীবনের অংশ নয়।

মহানবী হয়রত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগেই বলেছিলেন, এমন কোনদিন নেই যেদিন আমি নতুন কিছু শিখিনি। একব্যক্তি হযরত ইমাম আবু হানিফা (রহ.)’র নিকট জানতে চাইলেন, আপনার বয়স কত? তিনি জানালেন, দুই বছর। তাঁর কাছে জানতে চাইলেন, কেন আপনি মিথ্যা বলেছেন? জবাবে ঈমাম সাহেব বললেন, আমি ঈমাম জাফর সাদিক (রা.)’র সান্নিধ্যে এসেছি দুই বছর। এই দুই বছর আমার জীবন, বাকী সময় আমার জীবন নয়।

প্রকৃত শিক্ষা আত্মার,আধ্যাত্মিকতার। তিনি তা জাফর সাদিক (রা.)’র নিকট পেয়েছিলেন। মহাকবি মিল্টন বলেছিলেন, ‘প্রকৃত শিক্ষা শরীর, মন, আত্মার সমন্বিত উন্নত করে’।প্রকৃত পক্ষে যে শিক্ষা, শরীর, মন, আত্মার উন্নতি করে না তা জাতিকে উন্নত করতে পারে না।যে মেধাবীদের কারণে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয় সেটি কুশিক্ষা।কোন অশিক্ষিত মানুষের কারণে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়নি। পৃথিবীর কোথাও হয় না।

প্রকৃত আধ্যাত্মিক আলোকিত শিক্ষা যাদের নেই, তাদের কারণেই দেশ বিপদগ্রস্ত হয়।রাজপথের আন্দোলনে পরিবর্তন আনে।তার সাথে দরকার ভিতরের পরিবর্তন ।ভিতরটা পরিবর্তন করে দিলে বাইরেরটা পরিবর্তন হয়ে যাবে। মন হলো ‘পাওয়ার পয়েন্ট’। এই পাওয়ার পয়েন্ট পরিবর্তন করলে সমাজ পরিবর্তন হবে।

মহানবী হযরত মোহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘শরীরের মধ্যে এমন একটি অংশ আছে যা পরিশুদ্ধ হলে পুরো মানব শরীর পরিশুদ্ধ হয়ে যায়’। গৌতম বুদ্ধ বলেছেন, ‘চিত্ত (মন) হতে চেতনা, চেতনা হতে কর্ম’। চিত্ত যদি পরিশুদ্ধ না হয় সুস্থ চেতনা জাগ্রত হবে না।

সুস্থ চেতনায় সুন্দর কাজ সম্পাদন হয়। সুন্দর কাজ সমাজ ও দেশ সুন্দর করে। কথায় বলা হয়, ‘শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে বিপ্লব, বিপ্লব আনে মুক্তি’। প্রকৃত পক্ষে আত্মার শিক্ষাই পরিশুদ্ধ সমাজ বিনির্মাণ করতে পারে। আমরা পরিবর্তন চাইলে আগে নিজের মনের পরিবর্তন করতে হবে। মনের পরিবর্তন ছাড়া সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়। এ পৃথিবী নামক গ্রহটি তারাই পরিবর্তন করেছে যা আগে নিজকেই পরিবর্তন করেছে।

আমরা পরিবর্তনের জন্য কেমন শিক্ষা চাই। প্রাণের শিক্ষা, হৃদয়ের শিক্ষা। মনীষী শরৎচন্দ্র বলেছেনে, ‘শিক্ষা মানে লেখাপড়া জানা নয়, জ্ঞানের প্রসার হৃদয়ের কালচার’। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘আমাদের শিক্ষা যেন তথ্য না দেয় সত্যও’। সত্য জ্ঞান আলোকিত জ্ঞান। যে জ্ঞানই আনতে পারে প্রকৃত মুক্তি।
লেখক: কলাম লেখক, রাজনীতিক

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভাঙ্গুড়ায় ন্যায্য মূল্যে কৃষকের ধান সংগ্রহের সময় শেষ, সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়ে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করেছে খাদ্য বিভাগ।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় কর্তৃক তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্য থেকে আগে আসলে আগে বিক্রয় ভিত্তিতে ধান ক্রয় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি বিভাগের নিবন্ধিত কৃষকরা কৃষি কার্ড ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পান। সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান গ্রহণের পর মূল্য সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমেছে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেয়েছেন।
উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ নিবন্ধিত কৃষকের কৃষি কার্ড ও কৃষক হিসাব রয়েছে। ধান বিক্রি করা অনেক কৃষক জানান, বাজারমূল্যের তুলনায় সরকারি মূল্য বেশি হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে অতিরিক্ত আয় করতে পারায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ জানায়, ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। কৃষকদের পরিচয়, কৃষি কার্ড এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরই ধান গ্রহণ করা হয়েছে। সব অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে।ভাঙ্গুড়া খাদ্যগুদামের উপ-পরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করে ধান গ্রহণ করা হয়েছে এবং কৃষকদের নিজস্ব হিসাবেই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানান, সরকার চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে গত ৩ মে থেকে সারাদেশে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করে। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নির্ধারিত ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান ইতোমধ্যে সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে ধানের দাম কিছুটা কম থাকায় কৃষকরা প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হয়েছেন। ফলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ বর্ম্মন বলেন, ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের কৃষি কার্ড ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পরই বিল অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের আশা, আগামী মৌসুমেও সরকার একইভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে। এতে কৃষকরা উৎপাদনে আরও উৎসাহিত হবেন এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ