আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

৫ হাজার ৬৭৬টি বোটের আহরিত মৎস্য খালাস হয় চট্টগ্রামে ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার নেই, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য আহরণকারীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে সরকারীভাবে কোনো ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার না থাকায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৎস্য আহরণকারীরা। চট্টগ্রাম মহানগরের ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় বেসরকারিভাবে একটি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার থাকলেও সেটি আধুনিকমানের নয়।

নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। এদিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে একদিকে যেমন মাছের গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। দেশের উপক‚লীয় ১৬ জেলার ৭৫ উপজেলায় সাগরে মৎস্য আহরণের জন্য অনুমোদিত ফিশিং বোট রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। এর মধ্যে ৫ হাজার ৬৭৬টি বোট সাগরে আহরিত মৎস্য খালাস করে চট্টগ্রামে।

সামুদ্রিক মৎস্যের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরের দক্ষিণ কাট্টলী রাসমনিঘাট এলাকার বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে সরকারি জায়গা। সেখানে প্রতিদিন সাগর থেকে আহরিত প্রচুর পরিমাণের সামুদ্রিক মাছ খালাস করা হয় ফিশিং বোট থেকে। কিন্তু সেখানে ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার না থাকায় খালাসের সময় প্রচুর মাছ নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া সেখানে নেই কোন বরফকল। তাতে অনেক মাছ পচে যায়। এ অবস্থায় সেখানে প্রকল্প থেকে একটি ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ থাকলেও কার্যত সেটিও বাতিল হয়ে যায়।

জানা গেছে, দেশে সরকার অনুমোদিত বাণিজ্যিক ট্রলার রয়েছে ২৬৮টি। এর মধ্যে সাগরে নিয়মিত মৎস্য আহরণ করে ২৩৫টি। আহরণকৃত বাণিজ্যিক ট্রলারের মধ্যে মাত্র ৫টি উপক‚লীয় জেলা খুলনায় মৎস্য খালাস করে। অবশিষ্ট ২৩০টি মৎস্য খালাস করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। একই চিত্র দেখা গেছে আর্টিসানাল বোটের ক্ষেত্রেও। কিন্তু সরকারিভাবে চট্টগ্রামে কোনো ফিশ ল্যাল্ডিং সেন্টার না থাকায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৎস্য আহরণকারীরা।

সূত্র জানায়, দেশে বছরে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ হয় প্রায় ৭ লাখ মেট্রিকটন। আহরিত এসব সামুুদ্রিক মৎস্য দেশের উপক‚লীয় বিভিন্ন পয়েন্টে খালাস করা হয়। এর মধ্যে বেশিভাগ মাছ বিপণনের জন্য ফিশিং বোট ও ট্রলার থেকে খালাস করা হয় চট্টগ্রামে।

অথচ এখানে সরকারিভাবে নির্মাণ করা হয়নি আধুনিকমানের ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার। নগরের ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় বেসরকারিভাবে একটি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার থাকলেও সেটি আধুনিকমানের নয়। নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সামুদ্রিক মৎস্য খাতে উন্নয়নের জন্য সরকার দেশের উপক‚লীয় ১৬ জেলার ৭৫ উপজেলায় সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে।

একই প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ১৮টি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার ও ফিশ হারবার নির্মাণের অনুমোদন ছিল। এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য অনুমোদন ছিল ৪টি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টারের। এগুলো দক্ষিণ কাট্টলীর রাসমনি ঘাট এলাকায়, পতেঙ্গায়, সীতাকুÐের কুমিরায় ও বাঁশখালী উপজেলায় নির্মাণের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ভূমি সংক্রান্ত জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে চট্টগ্রামে একটিও ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার নির্মাণ হয়নি।

উপ-প্রকল্প পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন, গবেষণা, মনিটরিংসহ যাবতীয় কর্মকাÐ পরিচালনার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিশাল এই প্রকল্প গ্রহণ করে। এটি বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দেশের উপক‚লীয় ১৬টি জেলার ৭৫ উপজেলার ৭৫০টি ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটির কাজ আগামী নভেম্বরে শেষ হবে।

কিন্তু প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রামে চারটি ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত থাকলেও ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে একটিও তৈরি হয়নি। তবে এ প্রকল্পের আঙ্গিকে আরো একটি প্রকল্প গ্রহণ করছে সরকার। বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পের অর্থায়ন করতে পারে। এ প্রকল্পের অধীনে বর্তমান প্রকল্প থেকে যেসব বিষয় বাদ গেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ