আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

রুটি খাওয়াও নিম্ম আয়ের মানুষের জন্য কঠিন, আটার বাজার অস্তির

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সকালে প্রতিদিন আটার রুটি আর আলু ভাজি খাই। কারণ এই দুটো বাজারে সস্তা। কিন্তু কদিন আগে আটা কিনতে গিয়ে দেখি দাম বেড়ে গেছে। এখন আটার রুটি খাওয়াও মনে হয় আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। রোববার সকালে কথাগুলো বলেছেন বহদ্দারহাটের খাঁজা রোডের রিকসাচালক সাহাব উদ্দিন।

এদিকে সরকারের দুর্বল তদারকির কারণে গুটিকয়েক কোম্পানি ভোক্তাকে জিম্মি করে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছেন খুব দ্রুত। এখন বিশ্ববাজারে গমের দাম কমেছে। কিন্তু দেশে আটার দাম কমানোর বেলায় তারা চুপ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সমন্বয় করছেন না। গম সস্তা হলেও দেশে আটার দাম বাড়তি রয়ে গেছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি ভিন্ন। তাদের কথা, গমের দাম কমলেও ডলার ও পরিবহন খরচ বেড়েছে, ফলে দাম কমানো যাচ্ছে না।
জানা গেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা কাটিয়ে গমের দাম এখন বিশ্ববাজারে তিন বছরের মধ্যে প্রায় অর্ধেক। কিন্তু এর তেমন প্রভাব নেই বাজারে। উল্টো খোলা ও মোড়কজাত-দুই ধরনের আটার দাম বেড়েছে। ২০২২ সালে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে গমের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছিল। স্থানীয় বাজারেও তার আঁচ লেগে আটা হয়ে উঠেছিল ‘দামী খাদ্য। কিন্তু এরপর তিন বছর ধরে বিশ্ববাজারে গমের দাম কমলেও দেশে সেই অনুপাতে কমেনি আটা। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ।

চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন খুচরা দোকানে ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে যে মোড়কজাত আটা (দুই কেজি) কেনা যেত ১০৫-১১০ টাকায় সেটি এখন বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। আর খোলা আটার কেজি ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০-৫২ টাকা পর্যন্ত। এর আগে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে আটার দাম এক দফা বেড়েছিল। তখন দুই কেজির মোড়কজাত আটা ৯০-৯৫ থেকে বেড়ে ১১০ টাকা হয়েছিল। খোলা আটার দাম বেড়ে হয়েছিল ৪৫-৪৮ টাকা। মাঝে আটার দাম ২-৩ টাকা ওঠানামা করে। কিন্তু এখন হঠাৎ করে মোড়কজাত ও খোলাবাজারে আটা ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবে, ২০২২ সালের ২০ অক্টোবর দেশে প্রতি কেজি খোলা আটার দাম ৫৫-৫৮ এবং প্যাকেট আটার দাম ৫৮-৬০ টাকা ছিল। কিন্তু তিন বছরের ব্যবধানে গমের দাম অনেক কমলেও আটার দাম কমেছে খুব কম।
একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করে বলেন, বিশ্ববাজারে দাম কমলেও ডলারের দাম বাড়ার কারণে আমাদের খরচ বেড়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে ডলারের দাম ছিল প্রায় ১০৬ টাকা। কিন্তু বর্তমানে প্রতি ডলারের দাম প্রায় ১২২ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি ডলারের দর বেড়েছে ১৬ টাকা। সেজন্য গমের আমদানি খরচও বেড়েছে। এখন আবার পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। সবমিলিয়ে বিশ^বাজারে কমলেও আমরা সেভাবে কমাতে পারি না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ