আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

এ পি জে আবদুল কালামের স্বপ্নের অসাধারণ কথামালা ————

ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী ———

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম একজন স্বপ্নের ফেরীওয়ালা। ভালোবাসতেন নিজকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতে। দক্ষিণ ভারতের মাদ্রাজে রামনাথ স্বামী জেলার রামেশ্বরমে ছিল তাঁর বসবাস। বাবা ছিল নৌকার মাঝি। তিনি বাবাকে দেখতেন নৌকা নিয়ে এ দ্বীপ থেকে অন্য দীপে প্রতিদিন যাত্রী পারাপার করতে। এ পেশার আয়ে তাদের জীবন চলতো না বলে রেলস্টেশন থেকে খবরের কাগজের যে সব বান্ডিল চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া হতো সেগুলো কুড়িয়ে শহরে পৌঁছে দেয়ার কাজ করেছেন বহুদিন। এ কাজে তেমন অর্থ উপাজন না হওয়ায় তিনি ভাবলেন,বাবা যে নৌকা চালান তাতে যদি একটি যন্ত্র সংযোজন করে দেওয়া যায় তবে উপার্জন বৃদ্ধি হবে। এই যন্ত্র সংযোজন করতে গিয়ে গতিবৃদ্ধির স্বপ্ন পেয়ে বসে। সে স্বপ্নের অনুশীলনের মাধ্যমে বিমান প্রযুক্তির ভাবনা পেয়ে বসে। গতিবৃদ্ধি করতে গিয়ে একদিন হয়ে উঠেন মিসাইলম্যান। নৌকা তৈরীর মিস্ত্রীরা নৌকাই তৈরী করে সারা জীবন। কিন্তু ব্যতিক্রম হয় আবদুল কালাম। কারণ

আবদুল কালাম স্বপ্ন দেখেন এগিয়ে যাওয়ার। মাঝির ছেলে মাঝি হতে চাননি, স্বপ্ন দেখলেন বিজ্ঞানী হবেন। শুধু বড় বিজ্ঞানীই হলেন না, রাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন। কারণ তিনি দেখেছিলেন বড় হওয়ার স্বপ্ন। তিনি বিশ্ববাসীকে জানালেন, ‘আমরা যা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখি তা স্বপ্ন নয়, যে স্বপ্ন ঘুমাতে দেয় না তাই স্বপ্ন।’
মানুষ কত বড়? প্রতিটি মানুষ তার স্বপ্নের চেয়ে অনেক বড়। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ১৮ অক্টোবর ২০১৪ সালে ঢাকার বুকে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন, ‘বড় স্বপ্ন দেখ, ছোট স্বপ্ন দেখা অপরাধ’। বড় স্বপ্ন মানুষকে বড় করে।স্কুল জীবনে বারাক ওবামার শিক্ষক জানতে চেয়েছিলেন, বড় হলে কী হতে চাও? তিনি বলেছিলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। এ কথা শুনে সবাই হেসেছিলেন। কী ভাবে সম্ভব ! একজন বিদেশি, বিধর্মী, কৃষ্ণাঙ্গ সাদা ঘরে (হোয়াইট হাউস) প্রবেশ করবে! তিনি তাঁর বড় স্বপ্ন পুরণের জিদ ধরেন।প্রমাণ করলেন, চেষ্টা করলে আমেরিকার প্রেসিডেন্টও হওয়া যায়।

আবদুল কালাম বলেছেন, ‘স্বপ্নের একটি বাধা আছে, শত্রু আছে। সে শত্রুকে চিনতে পারলে পরাজিত করতে পারবে। তার পরাজয় মানে জীবনের জয়। সে শত্রুটি হলো ‘হতাশা’। স্বপ্ন মানে আশা তার বিপরীত হতাশা’।
আমরা জানি আশা আর ভালোবাসা চলেগেলে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না। আত্মহত্যা করে। বেঁচে থেকেও অনেক মানুষ মৃত। যাদের স্বপ্নের মৃত্যু হয়েছে তারা মৃত।স্বপ্নের মৃত্যুর চেয়ে মানুষের জীবনে বড় ট্রাজেডী নেই। প্রিয়জনের মৃত্যুও ট্রাজেডী। কিন্তু এই ঘটনায় মানুষের ভূমিকা গৌণ। স্বপ্নের মৃত্যুর জন্য মানুষই দায়ী। রাষ্ট্রপতি বিজ্ঞানী আবদুল কালামের স্বপ্ন দেখাই ছিল তার বড় মহত্ব এবং বিশালত্ব। জীবন ব্যাপী সমগ্র জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন আত্মজয়ের, ভারতের বিশ্বজয়ের, মহাকাশ জয়ের। স্বপ্ন দেখতেন মানুষের অসীম শক্তির বিকাশ সাধনের।

বাংলাদেশ সফরকালে বিজ্ঞানী আবদুল কালাম ঢাকায় মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ১৭ অক্টোবর ২০১৪ সালে এক অনুষ্ঠানে বললেন, ‘তোমাদের স্বপ্ন বাংলাদেশের স্বপ্ন। তোমাদের চিন্তা বাংলাদেশের চিন্তা। আজ আমি সত্যিই আনন্দিত কারণ তোমাদের মত মেধাবী তরুণ আমার মত ৮৩ বছরের একজন বৃদ্ধের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে এসেছো। এই রুমে আলো জ্বলছে, আলোর ঝলকে বর্ণিল হয়ে উঠেছে সব জায়গা।

এই বাতি আবিষ্কার করেছিল থমাস আলভা এডিসন। এই বাতি যতদিন জ্বলবে ততদিন আমরা তাঁকে মনে রাখবো। আমাদের পকেটে সেলফোন আছে, এটি আবিষ্কার করেছিল আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল। তাঁকে সবাই ভালোভাবে মনে রেখেছে। জীবনে তোমরা এমন কিছু করবে যাতে সবাই স্মরণ করে। স্বপ্ন দেখ, বড় স্বপ্ন দেখ। স্বপ্ন দেখতে হলে আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল, থমাস আলভা এডিসন, জগদ্বীশ চন্দ্র বসুর মতই দেখ।… ব্যর্থগুলো প্রতিহত করার যোগ্যতাই প্রকৃত নেতৃত্ব।
বাংলাদেশে এসে তিনি সফলতার গল্প শুনালেন। তিনি পি এইচ ডি ডিগ্রীধারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, দার্শনিক বা বিজ্ঞানীর কথা আমাদের শুনালেন না, শুনালেন একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কথা। সফলতার শিক্ষা যে প্রাথমিক শিক্ষক হতে পেয়েছেন তা তিনি নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন এবং শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যে শিক্ষককে।

সফলতার পাহাড় শৃঙ্গে যিনি উঠেছেন তার পক্ষে ৭৫ বছর পূর্বের এক অখ্যাত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে স্মরণ করার কী প্রয়োজন ছিল? তিনি আমাদের শিখিয়ে গেলেন, যিনি স্বপ্ন দেখান, ভিতরে ভিতরে নির্মাণ করেন,তাঁকে ভুলে যাওয়া অন্যায়।
আবদুল কালাম মনে করতেন, মানুষের মধ্যে আছে অসাধারণ শক্তি। যে শক্তি বিকাশের কথা বলতেন গুরুত্বের সাথে। তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেক মানুষই কিছু না কিছু আগুন নিয়ে জন্মায়, মানুষের উচিৎ সে আগুন বিকশিত করে ছড়িয়ে দেয়া’। তাই তিনি তাঁর বিখ্যাত বইয়ের নাম দিয়েছেন, ‘উয়িংস অব ফায়ার’। আগুনের ডানা। যে ডানা আপনাকে পুড়তে হবে’। সে ডানা প্রসার করতে পারলে অনেক ওপরে উঠতে পারে, উড়তে পারে আকাশে, মহাকাশে। তিনি আরো বলেছেন, ‘সূর্য্যের ন্যায় উজ্জ্বল আলো ছড়াতে চাইলে সূর্য্যের ন্যায় আপনাকে পুড়তে হবে’।

জীবনে তিনি হতে চেয়েছিলেন বিমান চালক। ক্লাসের আট জন নির্বাচিত হয়েছিলেন বিমান চালক। আবদুল কালাম হয়েছিলেন নবম। বিমান চালক হতে পারেনি তাতে কি। একটি পথ বন্ধ হলেও কত পথ খোলা আছে তা তিনি জানতেন। নিজের অদম্য চেষ্টায় হয়ে উঠেন ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু বিজ্ঞানের প্রাণ পুরুষ এবং রাষ্ট্রপতি। তিনি কর্মজীবনে শুধু মাত্র দুইদিন ছুটি নিয়েছিলেন। মায়ের আর বাবার মৃত্যুদিনে। মৃত্যুর পূর্বে বলে গিয়েছিলেন, ‘আমার মৃত্যুতে ছুটি ঘোষণা করো না। আমাকে যদি ভালোবাস, মন দিয়ে কাজ করো সেদিন। আমার মৃত‍্যুর কারণে যেন ভারত একদিন পিছিয়ে না যায। আসলে এটি ছিল দেশপ্রেম। মহামতি প্লেটোর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, দেশপ্রেম কি? তিনি জানিয়েছিলেন, ‘প্রত্যেকই নিজের দায়িত্বটাকে সুচারুরূপে পালন করাই সর্বোচ্চ দেশপ্রেম।

এ পি জে আবদুল কালাম রাষ্ট্রপতি হয়েও ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সময় কাটাতেন বেশি। তার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলতেন, ‘যেখানে বসে আছে আগামী দিনের ভারত শাসক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিকগণ সেখানে সময় কাটানোর চেয়ে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসে সময় কাটানোর আমার কাছে গুরুত্ব অধিক নয়’। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের বলতেন ‘চাকুরীপ্রার্থী নয় চাকুরীদাতা হও’।
তাঁর বড় হওয়ার পিছনে তাঁর বাবার একটি কথা জীবনে রেখাপাত করেছিল। তাঁর বাবা বলতেন, ‘তোমার সন্তান তোমার নয়, তারা প্রবাহমান জীবনের অংশ। তারা তোমাদের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে মাত্র’।
এ পি জে আবদুল কালামের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাড়া জাগানোর উক্তি উল্লেখ করার লোভ সংবরণ করতে পারলাম।

(১) যে অন্যকে জানে সে শিক্ষিত কিন্তু জ্ঞানি হলো সেই ব্যক্তি যে নিজকে জানে। জ্ঞান ছাড়া শিক্ষা কোন কাজে আসে না।
(২) স্বপ্ন দেখ, কারণ স্বপ্ন চিন্তায় পরিণত হয়। চিন্তা মানুষকে কর্মে অনুপ্রাণিত করে।
(৩) একটি ভালো বই একশত বন্ধুর সমান আর একজন ভালো বন্ধু একটি লাইব্রেরীর
সমতুল্য।
(৪) হাসতে হবে প্রাণখুলে। জীবনে হাসতে পারাটা খুব দরকার। হাসি জীবনকে সহজ করে। কঠিন সময় পার করতে সহায়তা করে।
(৫) প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন কাজ আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সম্মতি দেওয়া। আমি মনে করি পারিবাশ্বিক অবস্থার কারণে মানুষ অপরাধ করে। অপরাধের জন্য দায়ী সমাজ বা অর্থনৈতিক অবস্থা। কিন্তু সে ব্যবস্থাকে
আমরা শাস্তি দিতে পারি না। শাস্তি দিই ব্যবস্থার স্বীকার মানুষদের।
(৬) যুব সমাজের প্রজ্বলিত মন পৃথিবীর ওপর গভীর শক্তিশালী মূলধন।
(৭) তুমি সমস্যার অধিনায়ক হও, সমস্যাকে পরাজিত কর।
(৮) তোমাদের প্রশ্ন করতে চাই কী জন্য মানুষ তোমাকে মনে রাখলে খুশি হবে।
(৯) ফুলকে দেখ, কী অকৃপণ ভাবে সুগন্ধ আর মধুদান করে। কিন্তু যখন তার কাজ শেষ হয়ে যায়, নিঃশব্দে ঝরে পড়ে।

আবদুল কালাম মেঘালয়ের তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতারত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে নিচে পড়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই হয় তাঁর মহাপ্রয়াণ। সারা জীবন ছাত্রদের মাঝে আলো বিতরণ করতে করতে ছাত্রদের কোলাহলেই বিদায় নিলেন। অসাধারণ কর্মের মাধ্যমে তিনি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করলেন। সামরিক বাহিনীতে কর্মের মধ্যে মৃত্যুবরণ করলে বলা হয়, To die with boots on. ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় সৈনিকের মৃত্যু। আবদুল কালামের মৃত্যু যেন আলোকিত মানুষের আলো বিতরণরত মহান এক সৈনিকের মহাপ্রয়াণ।মহান আল্লাহ পাক তাঁকে জান্নাত নসিম করুন।
লেখক: কলাম লেখক, রাজনীতিক

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিশুরাই আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। যে শিক্ষা মানুষকে মানুষ হতে সাহায্য করে না, তা কুশিক্ষা। জে.এম সেন হল প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত বিবেকানন্দ বিদ্যানিকেতন ও বিবেকানন্দ সঙ্গীত নিকেতনের বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন।

তারা আরো বলেন, শিক্ষার বিস্তার ও সংস্কৃতির প্রসার একটি জাতিকে সভ্য জাতিতে পরিনত করে। বিবেকানন্দ বিদ্যানিকেতন ও সঙ্গীত নিকেতন এই গুরু দায়িত্ব পালন করছে। স্কুল পরিচালনা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দুলাল কান্তি মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক চট্টগ্রাম রামকৃষ্ণ মিশন ও সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী শক্তিনাথানন্দজী মহারাজ, প্রধান অতিথি বিশিষ্ট সমাজসেবী অজয়কৃষ্ণ দাশ মজুমদার, বিশেষ অতিথি শিক্ষাবিদ প্রফেসর রীতা দত্ত, শিক্ষানুরাগী মিহির কান্তি নাথ।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান সম্পাদক তাপস হোড়, অন্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নারায়ন চৌধুরী। প্রিয়ম কৃষ্ণ দে’র উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক অনুষ্ঠানের কর্মসূচিতে ছিল চিত্রপ্রদর্শনী, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও শিশু শিল্পীদের পরিবেশিত সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে অংশ নিল ৩৪৫ শিক্ষার্থী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: তৃতীয়বারের মতো দেশব্যাপী লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। এরই ধারাবাহিকতায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো এই প্রতিযোগিতা। শনিবার চট্টগ্রামের জামালখানের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বর্ণাঢ্য এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।পরবর্তীকালে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড চট্টগ্রাম অঞ্চল পর্বের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক, মাতৃভাষা গবেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) আবুল কালাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের সদস্যসচিব ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর ড. খিলফাত জাহান যুবাইরাহ্। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক হাবিবুর রহমান ও ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহেদা আক্তার।

এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম অঞ্চল ষষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি (ক) ক্যাটাগরিতে ২৩৩ জন এবং দশম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (খ) ক্যাটাগরিতে ১১২ জন শিক্ষার্থী এবং সর্বমোট ৩৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড-এর মূল্যায়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফলাফল ঘোষণা পর্বে ভাষাবিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, মাতৃভাষা চর্চার মধ্য দিয়েই একটি জনগোষ্ঠী তার মনন, মেধা ও চিন্তা প্রকাশ করে। পৃথিবীতে অনেক মাতৃভাষা বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে এসব ভাষা সঠিকভাবে চর্চা না করলে তা মৃত্যুমুখে পতিত হবে। মাতৃভাষা হারিয়ে যাওয়া মানে ওই ভাষার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সভ্যতা বিলীন হয়ে যাওয়া। কাজেই বিপন্ন ভাষা চর্চা, অনুশীলন, পুনরুজ্জীবন, নথিবদ্ধকরণ আবশ্যক। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এ কাজটি করে যাচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীবৃন্দ ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তরপর্বে অংশগ্রহণ করে। আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে ফলাফল ঘোষণা করেন এবং সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ২০২৪ সালে প্রথমবার লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড আয়োজন করে। লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড দুটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয় ক-ক্যাটাগরি: ষষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি এবং খ-ক্যাটাগরি: ১০ম থেকে ১২শ শ্রেণি। লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড-২০২৬ অংশগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইট িি.িরসষর.মড়া.নফ-এ প্রবেশ করে লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড ২০২৬ সেবাবক্স থেকে রেজিস্ট্রেশন লিংকে ক্লিক করে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে।

এ বছর লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা অঞ্চলসহ মোট ১০টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি অঞ্চল থেকে ক-ক্যাটাগরিতে ১০ জন করে মোট ১০০ জন এবং খ-ক্যাটাগরিতে ১০ জন করে মোট ১০০ জন চূড়ান্ত পর্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকায় অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। চূড়ান্ত পর্বে ২ ক্যাটাগরিতে ৩ জন করে মোট ৬ জন প্রধান উপদেষ্টার নিকট থেকে একুশের অনুষ্ঠানমালায় পুরস্কার গ্রহণ করবে এবং ক ও খ ক্যাটাগরি থেকে প্রথম স্থান অধিকারী ২ জন এ বছর অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ