আজঃ শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬

আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে: চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই হবে আগামীর বাংলাদেশের দিশারি। তাদের মেধা, মনন ও নেতৃত্বগুণেই গড়ে উঠবে এক উন্নত, মানবিক ও জ্ঞাননির্ভর সমাজ।তিনি মঙ্গলবার কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা। এসময় মেয়র বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে হবে। বিতর্ক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ ঘটায়। আমি জেনে আনন্দিত যে, কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বিতর্ক, ক্যারাটে ও অন্যান্য প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চীনে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ ও ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে— যা চট্টগ্রামের জন্য গর্বের।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চসিকের গৃহীত উদ্যোগ তুলে ধরে মেয়র বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে আমরা ‘স্কুল হেলথ স্কিম’ চালু করেছি। এর আওতায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সেবা পাবে। পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশনের সব স্কুল ও কলেজকে এই স্কিমের আওতায় আনা হবে। একটি সুস্থ মন গড়ে ওঠে সুস্থ দেহে। তাই শিক্ষার্থীদের সকালে নাস্তা খেয়ে বিদ্যালয়ে আসা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে আমরা ড্রেনেজ ও খাল খনন কার্যক্রম জোরদার করেছি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শিশুদের টাইফয়েড ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে এবং নারীদের সার্ভিক্যাল ও ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে টিকাদান ও সচেতনতা কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
মেয়র আরো বলেন, আমরা চট্টগ্রামকে ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করেছি। বর্তমানে প্রতিদিন ২২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই ১০০ শতাংশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। সংগৃহীত বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে, যা চট্টগ্রামকে একটি পরিবেশবান্ধব শহরে রূপান্তরিত করবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে বর্তমানে প্রায় ৭৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ২৪টি কলেজ রয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি এখন চসিকের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা চাই এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মানবিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠা যোগ্য নাগরিক তৈরি হোক, যারা আগামীতে দেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে। মানুষের মতো মানুষ হওয়াই জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য। মানবতার পথে নিজেকে নিবেদিত করতে হবে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন, কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মোঃ আবুল কাশেম, গভর্নিং বডির শিক্ষানুরাগী সদস্য মোঃ রফিক উদ্দিন চৌধুরী, অভিভাবক সদস্য মোঃ শাহেদ আকবর, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ী মনজুর আলম চৌধুরী প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কুতুবদিয়ায় ঈদ উপলক্ষে বাতিঘর সী-বীচে প্যাডেল বোট ও কায়াকিং বোটের শুভ উদ্বোধন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাতিঘর সী-বীচে প্যাডেল বোট ও কায়াকিং বোটের শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় দক্ষিণ ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ। ২০ মার্চ, বিকালে জনসাধারণ নিয়ে উদ্বোধন করেন। এ উদ্যোগে স্থানীয় পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সমুদ্র উপকূলে পর্যটকদের জন্য নতুন এই বিনোদন সুবিধা চালুর প্রশংসা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউপি সদস্য মো: ফোরকান, কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসান কুতুবী, সাংবাদিক ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় দক্ষিণ ধূরুং ইউপির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, এই উদ্যোগের ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে এবং কুতুবদিয়ার পর্যটন খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কুতুবদিয়ার বাতিঘর সী-বীচ ইতোমধ্যে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নতুন এই বোট সার্ভিস চালুর মাধ্যমে এলাকাটির আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনের পরপরই পর্যটকরা প্যাডেল বোট ও কায়াকিং বোটে চড়ে সাগরের মনোরম পরিবেশ উপভোগ করেন। আয়োজকরা জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পরে ইফতার ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা ঈদুল ফিতরের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা ঈদুল ফিতরের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন। কারা কতৃপক্ষ জানিয়েছেন -বন্দিদের ঈদের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। এর পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ খাওয়া দাওয়ার আয়োজন।এছাড়া বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খাওয়ার সুযোগ মিলছে বলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিবছরের মত এবারও ঈদের দিন সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের দিন সকালে বন্দিদের জন্য থাকছে পায়েস ও মুড়ি। আর দুপুরে থাকবে পোলাও, গরু অথবা খাসি, সালাদ, মিষ্টি, পান-সুপারি। আর রাতের বেলায় সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছের আয়োজন করা হয়েছে।

জেলার শাহ্ শরীফ আরো জানান-এছাড়া ঈদের পরদিন বন্দিরা বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খাওয়ার সুযোগ পাবেন। ঈদের দিন থেকে তিন দিন বন্দিরা স্বজনদের সাথে পাঁচ মিনিট করে টেলিফোনে এবং একবার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবেন।

সাধারণ সময়ে হাজতিরা মাসে দুই বার এবং কয়েদীরা মাসে একবার করে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও ঈদের সময় বিশেষ ভাবে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন।একই ভাবে ১০ টাকার বিনিময়ে মাসে দুই বার স্বজনদের সাথে টেলিফোনে ১০ মিনিট কথা বলার সুযোগ পান বন্দীরা। তবে ঈদে বিনামূল্যে পাঁচ মিনিট করে কথা বলার সুযোগ পাবেন।বর্তমানে কারাগারে হাজতি ও কয়েদী মিলে পাঁচ হাজার ৮৫৮ জন বন্দি রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ