আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

নবায়নযোগ্য জ্বালানী নীতিতে কৃষিবিদ্যুৎ অন্তর্ভুক্তির দাবি, চট্টগ্রামে প্রচারাভিযান।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালায় অ্যাগ্রিভোলটাইকস বা কৃষিবিদ্যুৎ অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে আইএসডিই বাংলাদেশ, কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট চান্দগাঁও চট্টগ্রামে সোমবার প্রচারাভিযানের আয়োজন করা হয়। প্রচারাভিযানে বক্তরা বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য শক্তি নীতিতে অ্যাগ্রিভোলটাইকস ব্যবহার বৃদ্ধি করা এবং ওঊচগচ তে-অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

অ্যাগ্রিভোলটাইকস ব্যবস্থায় একই জমিতে কৃষি ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন একসাথে করা সম্ভব, ফলে কৃষকরা একদিকে ফসল উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারেন, অন্যদিকে সৌরবিদ্যুৎ বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। এতে কৃষকদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি জমির উৎপাদনশীলতা ও পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে গ্রামীণ কৃষকরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের অংশীদার হতে পারবেন।

পাশাপাশি নেট মিটারিং নীতিতে অ্যাগ্রিভোলটাইকস অন্তর্ভুক্ত হলে কৃষকরা নিজেদের ব্যবহারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় ও অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন।
ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানী নীতিতে কৃষিবিদ্যুৎ এর অন্তর্ভুক্তি দেশের শক্তি নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাগ্রিভোলটাইকস ব্যবস্থায় সৌর প্যানেলের নিচে ছায়ায় আর্দ্রতা কিছুটা বেশি থাকে, যা অনেক ফসলের উৎপাদনে সহায়ক।

এটি জমির গরম হওয়া কমায়, মাটির পানি ধরে রাখে, এবং তাপপ্রবাহের ক্ষতি থেকে ফসলকে রক্ষা করে। ফলে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ দু’দিকেই লাভবান হয়। অ্যাগ্রিভোলটাইকস ব্যবস্থা পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই। এটি মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে, ফসলকে তাপ ও অতিরিক্ত সূর্যের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং কার্বন নিঃসরণ কমায়। কৃষি ও বিদ্যুতের এই সমন্বয় বাংলাদেশে সবুজ, টেকসই এবং লাভজনক কৃষি ব্যবস্থার পথ খুলে দিচ্ছে, যা কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের নবায়নযোগ্য শক্তির সম্ভাবনাকেও বাড়াবে।

প্রচারাভিযানে অন্যান্যদের মধ্যে এডাব চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেলস এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন এর কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদের যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্মদ জানে আলম, অধিকার চট্টগ্রামের সমন্বয়ক ওসমান জাহাঙ্গীর, যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের আবরারুল করিম নেহাল, সিরাতুল মুনতাহা, প্রমুখ সংহতি প্রকাশ করেন। অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিজ্ঞা প্রচারাভিযানকে আরও শক্তিশালী করে তোলে এবং ভবিষ্যতে জলবায়ু সুবিচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ