আজঃ মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

রিপন শান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

ঊনিশ শতকের ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানরা ছিল সকল পক্ষের দ্বারা শোষিত এক সম্প্রদায়। উপমহাদেশের এক সময়কার শাসকরা ব্রিটিশদের কাছে তাদের শাসন ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি তাদের সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অবস্থাকেও হারিয়ে বসেছিল। ব্রিটিশদের প্রতি তাদের বিরাগ ও তাদের প্রতি ব্রিটিশদের সন্দেহপ্রবণতা পাশাপাশি ব্রিটিশদের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিবেশি সম্প্রদায়সমূহের মধ্য থেকে নতুন গড়ে ওঠা পুঁজিপতিরা মুসলমানদের জন্য সামগ্রিক পরিস্থিতিকে প্রতিকূল করে তোলে। এরমধ্যে বাংলার মুসলমানদের অবস্থা ছিল সর্বাধিক শোচনীয়।

এই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে মুসলমানদের বের করে আনার জন্য যে সকল মহাপুরুষ অগ্রসর হন, মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ তাদের মধ্যে অন্যতম। সাংবাদিকতার জগতে বাঙালী মুসলমানের অবস্থান তৈরি এবং তাদের বক্তব্যকে প্রচারের কাজে তিনি অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেন।

১৮৬৮ সালের ৭ই জুন বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বশিরহাট মহকুমার হাকিমপুর গ্রামে এই মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাওলানা আবদুল বারী খাঁ ছিলেন সাইয়েদ আহমদ ব্রেলভীর জিহাদ আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য। এমন পিতার সন্তান হিসেবে মাওলানা আকরম খাঁ শৈশব থেকেই ছিলেন বিপ্লবী মানসিকতার মানুষ।
শৈশবেই তিনি তার পিতা-মাতাকে হারান। কিন্তু তাতে হতাশ না হয়ে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। ১৯০০ সালে তিনি কলকাতা আলীয়া মাদরাসা থেকে এফ. এম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

অল্প বয়সেই মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সাথে জড়িত হন। সাংবাদিকতার শুরুতে তিনি ‘আহল-ই-হাদীস’ ও ‘মোহাম্মদী আখবার’ পত্রিকায় কাজ করেন। পরবর্তীতে কলকাতার বিখ্যাত মুসলমান ব্যবসায়ী হা্জী আলতাফের সহযোগিতায় ১৯১০ সালে তিনি ‘সাপ্তাহিক মোহাম্মদী’ নামে এক পত্রিকার প্রকাশ শুরু করেন।

মাওলানা আকরাম খাঁর সম্পাদনায় পত্রিকাটি বাংলা, আসাম সহ ভারত ও বার্মার অন্যান্য স্থানের বাংলাভাষী মুসলমানদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সমালোচনা ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তুর্কি ওসমানী খেলাফতের প্রতি সমর্থন পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকারের ক্রোধের শিকার হয়। ফলে সরকারী আদেশে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

১৯১৩ সালে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর উদ্যোগে বাংলার আলেমদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার মানসে “আঞ্জুমানে ওলামায়ে বাঙ্গালা” নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাওলানা আকরাম খাঁ এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। পাশাপাশি ১৯১৫ সালে সংগঠনটির মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হওয়া ‘মাসিক আল-এসলাম’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯১৯ সালে তুর্কি ওসমানী খেলাফতের সমর্থনে ভারতে সৃষ্ট খিলাফত-অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯২০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় খিলাফত কমিটির মহাসম্মেলনে তিনি কমিটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। একই বছর তিনি উর্দু দৈনিক ‘জামানা’ ও পরের বছর ১৯২১ সালে বাংলা দৈনিক ‘সেবক’ প্রকাশ করেন এবং এই পত্রিকা দুটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। খিলাফত-অসহযোগ আন্দোলনের মুখপত্র হিসেবে এই দুটি পত্রিকা ভূমিকা পালন করে। ১৯২৩ সালের ১০ ডিসেম্বরে দৈনিক সেবকে “অগ্রসর! অগ্রসর!” শিরোনামে এক সম্পাদকীয় লেখার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে। ব্রিটিশ রাজবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে বিচারে তাকে এক বছরের কারাদন্ড প্রদান করা হয় এবং দৈনিক সেবক পত্রিকার প্রকাশনার অনুমতি বাতিল করা হয়।

১৯২৭ সালে মাসিক হিসেবে ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকা নতুন করে প্রকাশিত হয়। মুসলিম সমাজের চিন্তাজগতে সংস্কার সাধন ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রচারে মাসিক মোহাম্মদী ভূমিকা পালন করে । এই সময়ে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে সাম্প্রদায়িকতাপূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ ও ভারতের জাতীয় প্রতীক হিসেবে হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ‘শ্রীপদ্ম’কে নির্ধারন করার জন্য ভারতীয় হিন্দু নেতৃবৃন্দ দাবী করলে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হয় । এ নিয়ে মাওলানা আকরাম খাঁ মাসিক মোহাম্মদীতে তার লেখার মাধ্যমে মুসলমানদের বিরোধীতার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। মূলত মাসিক মোহাম্মদীতে তার লিখনী মুসলমানদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সচেতনতার জন্ম দেয় । এই সচেতনতার প্রেক্ষিতে তারা ভারতীয় উপমহাদেশে নিজেদের আলাদা আবাসভূমি গড়ে তোলার দিকে অগ্রসর হয়।

১৯৩৬ সালে মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মুসলিম লীগে যোগদান করেন। একই বছর ৩১ অক্টোবর, ‘আজাদ’ নামে কলকাতা থেকে একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকার প্রকাশ শুরু করেন। বাংলা ও আসামের বাঙালি মুসলমানের মুখপত্র হিসেবে পত্রিকাটি বিপুল জনপ্রিয় হয়।

১৯৩৭ সালে তিনি মুসলিম লীগের বাংলা প্রদেশের প্রাদেশিক সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। একই বছর অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের নির্বাচনে পরিষদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। মূলত এসময় তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও মুসলমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের কণ্ঠস্বরকে প্রকাশের জন্য সংগ্রাম করেন। একদিকে দৈনিক আজাদের মাধ্যমে তিনি মুসলমানদেরকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য উদ্বুদ্ধ করছিলেন, অপরদিকে প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি ও বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য হিসেবে বাঙালি মুসলমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করছিলেন। ১৯৪০ এর দশকে তার নেতৃত্বেই বাঙালি মুসলমানরা ভারতে তাদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র ‘পাকিস্তান’ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করলে তিনি ভারতের অধীনস্থ কলকাতা ছেড়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায় চলে আসেন। একইসাথে ১৯৪৮ সালের দিকে কলকাতা থেকে দৈনিক আজাদ ও মাসিক মোহাম্মদীকে ঢাকায় নিয়ে আসেন।

১৯৫৪ সালে স্বাস্থ্যগত কারনে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন । তবুও দৈনিক আজাদ ও মাসিক মোহাম্মদীর মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধ প্রচার ও প্রতিষ্ঠা এবং বাঙালি মুসলমানদের মাঝে সাংস্কৃতিক সচেতনতা তৈরির জন্য মাওলানা আকরাম খাঁ কাজ করে গেছেন।

শুধু সাংবাদিকতা ও রাজনীতিই নয়, মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ ছিলেন একজন সুসাহিত্যিক । ছাত্রজীবনে বাংলা, ফারসী ও উর্দু ভাষায় তিনি কাব্যচর্চা করতেন। তার রচিত বিভিন্ন গ্রন্থের মধ্যে রাসূল (সা.)-এর সীরাতগ্রন্থ ‘মোস্তফা-চরিত’, ‘মোছলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস’, ‘সমস্যা ও সমাধান’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বাংলায় পাঁচ খন্ডে কুরআনের তাফসীর ‘তাফসীরুল কুরআন’ রচনা করেন।

১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকার বংশালে আহলে হাদীস মসজিদে নামাজরত অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মসজিদ প্রাঙ্গনেই তাকে দাফন করা হয়।মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁর হাত ধরেই বাঙালি মুসলমানের সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি । ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তানি আমলের অনেক প্রথিতযশা মুসলিম সাংবাদিক মাওলানা আকরাম খাঁর তত্ত্বাবধানেই সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ।

সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের বক্তব্যকে প্রচারের ক্ষেত্রে তিনিই প্রথম অগ্রসর হন । সাফকথায়, সাংবাদিকতায় বাঙালি মুসলমানদের পথনির্দেশনা দানে আলোকবর্তিকা হিসেবে যিনি প্রথম এগিয়ে এসেছিলেন ; তিনিই বহুমাত্রিক বাঙালি মুসলিম সমাজচিন্তক মনীষী মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চবি প্রশাসনিক ভবনে তালা প্রো-ভিসির ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তব্যের জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানের পদত্যাগ দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন। সোমবার বেলা ১২টার দিকে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে চবি উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে সংহতি জানিয়ে এসময় গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির, প্রচার সম্পাদক মুশরেফুল হক রাকিব, সদস্য ও অতীশ দীপংকর হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদ শাহরিয়ার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক চন্দনা রানী, ছাত্র ইউনিয়নের দফতর সম্পাদক শেখ জুনায়েদ কবির ও নারী অঙ্গনের সংগঠক সুমাইয়া শিকদার উপস্থিত ছিলেন।

ভবনে তালা লাগানো শেষে চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চলে সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। জামাতিদের টাকায় নয়। বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনায় সভায় উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খান স্যার পাকিস্তানিদের যোদ্ধা বলেছে। অথচ এই পাকিস্তানি বাহিনী এদেশের জনগণকে হত্যা করেছে। আমাদের মা বোনদের ইজ্জত নষ্ট করেছে। তার এ বক্তব্যর জন্য ক্ষমা চেয়ে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগ ছাড়া আমরা তালা খুলব না।

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, শামীম স্যারের বক্তব্যকে আমরা ঘৃণাভরের প্রত্যাখ্যান করেছি। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বুঝা যায় তিনি ১৯৭১ সালে যদি তিনি থাকতেন, তাহলে রাজাকারের ভূমিকায় পালন করতেন। আমরা অবশ্যই তার পদত্যাগ দাবি করছি।

এর আগে, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে গত রোববার চবি প্রশাসনের আলোচনা সভায় অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের দিন নির্ধারিত ছিল। তারা (পাকিস্তান সেনাবাহিনী) ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা জীবিত না মৃত অবস্থায় ফিরবে- সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা ছিল না।

এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে- এই ধারণা রীতিমতো অবান্তর। এটি একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। এই দেশকে অন্য একটি দেশের করদরাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্যেই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এখনও সক্রিয় রয়েছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশি-বিদেশি অপশক্তি অতীতের মতো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এখনও সক্রিয় রয়েছে। ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে দলীয় আলোচনা সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একথা বলেন।

আমাদের সবার সতর্ক থাকতে হবে। , বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশি-বিদেশি অপশক্তি আগে যেমন সক্রিয় ছিল, এখনো সক্রিয় রয়েছে। সময়ের সাথে সাথে ষড়যন্ত্রকারীদের রং-রূপ-চেহারা হয়তো পাল্টেছে, চরিত্র কিন্তু পাল্টায়নি।

শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ইতিহাস বিকৃত করেছে। দলীয় স্বার্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতি করেছে। স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয় ইতিহাসে পরিণত করার অপরিণামদর্শী অপচেষ্টার কারণেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত একটি চক্র ‘বিজয়ে’র নতুন ইতিহাস রচনার অপচেষ্টা করছে।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ