আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

রিপন শান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

ঊনিশ শতকের ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানরা ছিল সকল পক্ষের দ্বারা শোষিত এক সম্প্রদায়। উপমহাদেশের এক সময়কার শাসকরা ব্রিটিশদের কাছে তাদের শাসন ক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি তাদের সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অবস্থাকেও হারিয়ে বসেছিল। ব্রিটিশদের প্রতি তাদের বিরাগ ও তাদের প্রতি ব্রিটিশদের সন্দেহপ্রবণতা পাশাপাশি ব্রিটিশদের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিবেশি সম্প্রদায়সমূহের মধ্য থেকে নতুন গড়ে ওঠা পুঁজিপতিরা মুসলমানদের জন্য সামগ্রিক পরিস্থিতিকে প্রতিকূল করে তোলে। এরমধ্যে বাংলার মুসলমানদের অবস্থা ছিল সর্বাধিক শোচনীয়।

এই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে মুসলমানদের বের করে আনার জন্য যে সকল মহাপুরুষ অগ্রসর হন, মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ তাদের মধ্যে অন্যতম। সাংবাদিকতার জগতে বাঙালী মুসলমানের অবস্থান তৈরি এবং তাদের বক্তব্যকে প্রচারের কাজে তিনি অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেন।

১৮৬৮ সালের ৭ই জুন বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বশিরহাট মহকুমার হাকিমপুর গ্রামে এই মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাওলানা আবদুল বারী খাঁ ছিলেন সাইয়েদ আহমদ ব্রেলভীর জিহাদ আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য। এমন পিতার সন্তান হিসেবে মাওলানা আকরম খাঁ শৈশব থেকেই ছিলেন বিপ্লবী মানসিকতার মানুষ।
শৈশবেই তিনি তার পিতা-মাতাকে হারান। কিন্তু তাতে হতাশ না হয়ে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। ১৯০০ সালে তিনি কলকাতা আলীয়া মাদরাসা থেকে এফ. এম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

অল্প বয়সেই মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সাথে জড়িত হন। সাংবাদিকতার শুরুতে তিনি ‘আহল-ই-হাদীস’ ও ‘মোহাম্মদী আখবার’ পত্রিকায় কাজ করেন। পরবর্তীতে কলকাতার বিখ্যাত মুসলমান ব্যবসায়ী হা্জী আলতাফের সহযোগিতায় ১৯১০ সালে তিনি ‘সাপ্তাহিক মোহাম্মদী’ নামে এক পত্রিকার প্রকাশ শুরু করেন।

মাওলানা আকরাম খাঁর সম্পাদনায় পত্রিকাটি বাংলা, আসাম সহ ভারত ও বার্মার অন্যান্য স্থানের বাংলাভাষী মুসলমানদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সমালোচনা ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তুর্কি ওসমানী খেলাফতের প্রতি সমর্থন পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকারের ক্রোধের শিকার হয়। ফলে সরকারী আদেশে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

১৯১৩ সালে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর উদ্যোগে বাংলার আলেমদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার মানসে “আঞ্জুমানে ওলামায়ে বাঙ্গালা” নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাওলানা আকরাম খাঁ এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। পাশাপাশি ১৯১৫ সালে সংগঠনটির মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হওয়া ‘মাসিক আল-এসলাম’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯১৯ সালে তুর্কি ওসমানী খেলাফতের সমর্থনে ভারতে সৃষ্ট খিলাফত-অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯২০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় খিলাফত কমিটির মহাসম্মেলনে তিনি কমিটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। একই বছর তিনি উর্দু দৈনিক ‘জামানা’ ও পরের বছর ১৯২১ সালে বাংলা দৈনিক ‘সেবক’ প্রকাশ করেন এবং এই পত্রিকা দুটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। খিলাফত-অসহযোগ আন্দোলনের মুখপত্র হিসেবে এই দুটি পত্রিকা ভূমিকা পালন করে। ১৯২৩ সালের ১০ ডিসেম্বরে দৈনিক সেবকে “অগ্রসর! অগ্রসর!” শিরোনামে এক সম্পাদকীয় লেখার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে। ব্রিটিশ রাজবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে বিচারে তাকে এক বছরের কারাদন্ড প্রদান করা হয় এবং দৈনিক সেবক পত্রিকার প্রকাশনার অনুমতি বাতিল করা হয়।

১৯২৭ সালে মাসিক হিসেবে ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকা নতুন করে প্রকাশিত হয়। মুসলিম সমাজের চিন্তাজগতে সংস্কার সাধন ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রচারে মাসিক মোহাম্মদী ভূমিকা পালন করে । এই সময়ে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে সাম্প্রদায়িকতাপূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ ও ভারতের জাতীয় প্রতীক হিসেবে হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ‘শ্রীপদ্ম’কে নির্ধারন করার জন্য ভারতীয় হিন্দু নেতৃবৃন্দ দাবী করলে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হয় । এ নিয়ে মাওলানা আকরাম খাঁ মাসিক মোহাম্মদীতে তার লেখার মাধ্যমে মুসলমানদের বিরোধীতার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। মূলত মাসিক মোহাম্মদীতে তার লিখনী মুসলমানদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সচেতনতার জন্ম দেয় । এই সচেতনতার প্রেক্ষিতে তারা ভারতীয় উপমহাদেশে নিজেদের আলাদা আবাসভূমি গড়ে তোলার দিকে অগ্রসর হয়।

১৯৩৬ সালে মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মুসলিম লীগে যোগদান করেন। একই বছর ৩১ অক্টোবর, ‘আজাদ’ নামে কলকাতা থেকে একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকার প্রকাশ শুরু করেন। বাংলা ও আসামের বাঙালি মুসলমানের মুখপত্র হিসেবে পত্রিকাটি বিপুল জনপ্রিয় হয়।

১৯৩৭ সালে তিনি মুসলিম লীগের বাংলা প্রদেশের প্রাদেশিক সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। একই বছর অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের নির্বাচনে পরিষদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। মূলত এসময় তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও মুসলমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের কণ্ঠস্বরকে প্রকাশের জন্য সংগ্রাম করেন। একদিকে দৈনিক আজাদের মাধ্যমে তিনি মুসলমানদেরকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য উদ্বুদ্ধ করছিলেন, অপরদিকে প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি ও বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য হিসেবে বাঙালি মুসলমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করছিলেন। ১৯৪০ এর দশকে তার নেতৃত্বেই বাঙালি মুসলমানরা ভারতে তাদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্র ‘পাকিস্তান’ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করলে তিনি ভারতের অধীনস্থ কলকাতা ছেড়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায় চলে আসেন। একইসাথে ১৯৪৮ সালের দিকে কলকাতা থেকে দৈনিক আজাদ ও মাসিক মোহাম্মদীকে ঢাকায় নিয়ে আসেন।

১৯৫৪ সালে স্বাস্থ্যগত কারনে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন । তবুও দৈনিক আজাদ ও মাসিক মোহাম্মদীর মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধ প্রচার ও প্রতিষ্ঠা এবং বাঙালি মুসলমানদের মাঝে সাংস্কৃতিক সচেতনতা তৈরির জন্য মাওলানা আকরাম খাঁ কাজ করে গেছেন।

শুধু সাংবাদিকতা ও রাজনীতিই নয়, মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ ছিলেন একজন সুসাহিত্যিক । ছাত্রজীবনে বাংলা, ফারসী ও উর্দু ভাষায় তিনি কাব্যচর্চা করতেন। তার রচিত বিভিন্ন গ্রন্থের মধ্যে রাসূল (সা.)-এর সীরাতগ্রন্থ ‘মোস্তফা-চরিত’, ‘মোছলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস’, ‘সমস্যা ও সমাধান’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বাংলায় পাঁচ খন্ডে কুরআনের তাফসীর ‘তাফসীরুল কুরআন’ রচনা করেন।

১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকার বংশালে আহলে হাদীস মসজিদে নামাজরত অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মসজিদ প্রাঙ্গনেই তাকে দাফন করা হয়।মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁর হাত ধরেই বাঙালি মুসলমানের সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি । ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তানি আমলের অনেক প্রথিতযশা মুসলিম সাংবাদিক মাওলানা আকরাম খাঁর তত্ত্বাবধানেই সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ।

সাংবাদিকতার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের বক্তব্যকে প্রচারের ক্ষেত্রে তিনিই প্রথম অগ্রসর হন । সাফকথায়, সাংবাদিকতায় বাঙালি মুসলমানদের পথনির্দেশনা দানে আলোকবর্তিকা হিসেবে যিনি প্রথম এগিয়ে এসেছিলেন ; তিনিই বহুমাত্রিক বাঙালি মুসলিম সমাজচিন্তক মনীষী মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্মরণে বরণে  ভোলার বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ। 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

 

 

রিপন শান #

পলিমাটির জনপদ দ্বীপজেলা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ৪ নং কাচিয়া ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ’র নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১২ মার্চ ২০২৬ । বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ ১৯৪৪ সালের ২৭ এপ্রিল ভোলার বোরহানউদ্দিনে নিজ গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আব্দুল হাই, মাতা শামর্থ ভানু।

ভোলা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও পারিবারিক সুত্র থেকে জানা যায় : তারুণ্যে পদার্পণ করেই তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। অকুতোভয় এ সাহসী সৈনিক তাঁর কর্মজীবনে নানা প্রতিকুলতার মাঝেও রেজিমেন্টের বিভিন্ন ইভেন্টে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। এরমধ্যে, ২৯ বার হেলিকপ্টার হতে প্যারাসুট জাম্প ও দীর্ঘ দৌড়ে শীর্ষ স্থান অর্জন করেন । কর্মজীবনে তিনি পাকিস্তান, রাওয়ালপিন্ডি, পেশোয়ার, করাচি এবং দেশের বিভিন্নস্থানে দক্ষতা ও আনুগত্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি যশোর সেনানিবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় বিদ্রোহ করেন এবং, মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্সের অধীন যশোর অঞ্চলে তিনি যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ বিজয়ের শেষদিকে সাথী যোদ্ধাদের বাঁচাতে গিয়ে ডান হাতে পাঁচটি গুলিবিদ্ধ হন। এসময় শত্রু পক্ষের অনেকেই ঘটনাস্থলে মারা যান। অতঃপর বহু প্রতিকুল পথ পেরিয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। তিনিই প্রথম ভোলা জেলার মুক্তিযোদ্ধা ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি কর্ণেল এমএজি ওসমানীর সান্নিধ্য পান।

বীরযোদ্ধা আব্দুর রউফের নিজ এলাকা কাচিয়া ইউনিয়নে তিনি ছিলেন দলমতের উর্ধ্বে একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিত্ব। এ প্রসংগে বীরমুক্তিযোদ্ধার সাথী বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদার জানান : “১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ সকাল ৮ টার সময় যশোর ক্যান্টম্যান্টের ১ম ইস্ট বেংগল রেজিমেন্টের ওপর তিনদিক থেকে পাকহানাদার বাহিনী (নাইন ভেলুস) হামলা চালায়। সেই যুদ্ধে নায়েক গাজী আব্দুর রউফ নিজের জীবনকে বিপন্ন জেনেও এমএমজি (মিডিয়াম মেশিন গান) দিয়ে হানাদার বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।এসময় পাকবাহিনীর অনেকে হতাহত হন। সেদিন, রউফ সাহেব এগিয়ে এসে যে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা আমরা কোনোদিন ভুলবো না। ”

একজন রাষ্ট্রস্বীকৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মু্ক্তিযুদ্ধের ওয়েবসাইটের লাল মুক্তিবার্তায় ক্রমিক নং ০৬০৪০৬০০০৩৮/২০০১, বেসামরিক গেজেট ৩৩৫/১৭এপ্রিল২০০৫, সামরিক গেজেট সেনা ৩২১২ নথিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ ২০১৭ সালের ১২ মার্চ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁকে ভোলার নিজ বাড়ি০৪ নং কাচিয়া ইউনিয়নের ফুলকাচিয়া ০৫ নং ওয়ার্ডে সেনাবাহিনীর গার্ড অব রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন তৌহিদের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। মরহুমের প্রথম জানাজা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মসজিদ মাঠে এবং দ্বিতীয় জানাজা নিজ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

তাঁর জানাজায় যশোর ক্যান্টমেন্টের সেনাবাহিনীর একটি টিম, বীর মুক্তিযোদ্ধাগন, সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, এবং স্থানীয় সকল শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী আছিয়া বেগম, ৫ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে যান। তাঁর বড় পুত্র সাংবাদিক ও লেখক ডা. গাজী মো. তাহেরুল আলম লিটন, ছোট সন্তান গাজী মো. হাসান ও কন্যা রূপজান বেগম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক, গাজী মো. হোসেন অব. সেনা সৈনিক, গাজী মোক্তাদির ও গাজী মো. রানা সম্মানজনক পেশায় কর্মরত ।

দেশ ও জাতির কৃতি সন্তান এ বীরসেনানীর মৃত্যুতে নিজ এলাকার সামাজিক ও আদর্শিক উন্নয়নকর্মে তাঁর শুন্যতা আজীবন থাকবে। যতোদিন রবে মেঘনা তেতুলিয়া ইলিশা বঙ্গোপসার বহমান থাকবে; যতোদিন স্বাধীনতার লালসবুজ পতাকা পতপত করেউড়বে বাংলার আকাশে, ততোদিন দ্বীপজেলা ভোলার বীরসন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম গাজী আব্দুর রউফের নাম ও জীবনস্মৃতি অক্ষয় হয়ে থাকবে।

বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ : এক সাহসী দেশপ্রেমিকের জীবনকথা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অসংখ্য বীর সন্তানের আত্মত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। সেইসব গৌরবোজ্জ্বল নামের ধারাবাহিকতায় বীর চট্টলার এক কৃতী সন্তান হলেন বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ। তিনি শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধাই নন, বরং একজন সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে সমাজে বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর জীবন সংগ্রাম, চিন্তা-চেতনা ও কর্মধারা দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মহান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এ তিনি সরাসরি গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। দুঃসাহসিক অভিযান, অদম্য মনোবল ও দেশমাতৃকার প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের এক সাহসী সৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যুদ্ধের সময় তিনি শত্রুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গেরিলা অভিযানে অংশ নিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সেই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা আজও দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয়।

ফজল আহমদ একজন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সুবক্তা হিসেবেও পরিচিত। সমাজ, রাষ্ট্র, ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে তাঁর চিন্তা ও লেখনী পাঠকের কাছে গভীর অনুপ্রেরণা জাগায়। তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজের উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। একজন সংগঠক হিসেবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন রত্নগর্ভ পিতা ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ। তাঁর পরিবার ও সমাজজীবনে সততা, আদর্শ ও নৈতিকতার প্রতিফলন দেখা যায়। মানবকল্যাণ ও সমাজসেবামূলক কাজে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে একজন আলোকিত নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তিনি আজীবন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ধারণ করেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান-এর প্রতি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর জীবনদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই আদর্শকে ধারণ করেই তিনি সমাজে ন্যায়, মানবতা ও দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের গর্বিত সন্তান হিসেবে ফজল আহমদের অবদান স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সাহসী বক্তব্য, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বগুণ তাঁকে সময়ের একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ তাঁর সততা, সাহস ও দেশপ্রেমের জন্য তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার চোখে দেখেন।

সংগ্রাম, আদর্শ ও দেশপ্রেমে ভাস্বর এই মানুষটি আমাদের জাতীয় জীবনের এক মূল্যবান সম্পদ। বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদের জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর মতো দেশপ্রেমিক মানুষের অবদানই বাংলাদেশের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ ও গৌরবান্বিত করেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ