আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

বোয়ালখালীতে লাউ চাষে সফল কৃষক সাজ্জাদ

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ৫ নং সারোয়াতলী ইউনিয়নের খিতাপচর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মো.সাজ্জাদ হোসেন ৪০ শতক জমিতে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড লাউ চাষ করে সফল হয়েছেন তিনি । সাজ্জাদ হোসেন জানান , ছোটবেলা থেকে কৃষি কাজে জড়িত। কোন সময়ে কোন ধরনের সবজি আবাদ করলে ফলন ভালো হবে এবং বাজারে আগাম সবজি হিসেবে দামও ভালো পাওয়া যাবে সেটা বিবেচনা করে এবার উচ্চ ফলনশীল লাউ বীজ সংগ্রহ করে ৪০ শতক জমিতে লাগিয়েছি।

গত ৩ মাস আগে উপজেলার পশ্চিম খিতাপচর এলাকার দক্ষিণ বিলে এ লাউ চাষে তার খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে মাদা তৈরি, মাচা, সার ও মজুরী রয়েছে।এখন সাজ্জাদের আবাদকৃত ক্ষেতে প্রচুর লাউ। বাজারজাত করছেন। সপ্তাহে ২ বার লাউ সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিটি লাউ পাইকারি ৩০ টাকা এবং খুচরা ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি করেছি।

এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার টাকা মতো বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি। সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরো ২ মাস ফলন পাওয়া যাবে। আরও ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি। খরচ বাদে তার সম্ভাব্য লাভের পরিমাণ ১ লাখ টাকার আশা করছেন তিনি। মাত্র দুই মাসের মধ্যে লাউ চাষে অভাবনীয় ফলন পেয়ে খুশি হয়েছেন তিনি। কম খরচ ও অল্প সময়ে এমন লাভের হিসাব দেখে লাউ চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের।

গতকাল কৃষক সাজ্জাদ হোসেনের লাউ ক্ষেতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের মাচায় ঝুলছে লম্বা সবুজ রঙের অসংখ্য লাউ। ক্ষেতের চারদিকে শুধু লাউ আর লাউ। বাগানের এসব ঝুলন্ত সবুজ কচি লাউ দেখলে যে কারো চোখ জুড়িয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, একজন সফল ধান ও কচু চাষি হিসেবেও কৃষক সাজ্জাদ হোসেনের এলাকায় বেশ সুনাম রয়েছে। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। এলাকায় বিষমুক্ত সবজি, নানা রকম ফসল ফলিয়ে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাজারেও বিক্রি করে সংসারের খরচ চালান তিনি। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে কৃষিতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। তবে একটি কালভার্টের অভাবে বিপাকে রয়েছেন ঐ এলাকার অন্তত ৭০-৮০ জন কৃষক।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, “হাইব্রিড” একটি উচ্চ ফলনশীন লাউ জাত। এটি অতি শীত ব্যতীত সারা বছরই চাষ করা যায়। এ জাতের লাউ বীজ বপনের ৪০-৪৫ দিন পর থেকে লাউ সংগ্রহের উপযোগী হয়। এছাড়া প্রচলিত জাতের তুলনায় ২.৫-৩.০ গুণ ফলন বেশি হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ( অতিরিক্ত দায়িত্ব) কৃষিবিদ কল্পনা রহমান জানান, লাউ সাধারণত শীতকালে বেশি চাষ হলেও এখন সারা বছরই লাউ চাষ হয়। “নাইস গ্রীণ” অত্যন্ত একটি ভালো জাত। বাজারে লাউয়ের চাহিদা থাকায় ও ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পেরে লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। যা প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ মে: টন উৎপাদন করা যায় । এ লাউ দেখতে সুন্দর ও তরতাজা, খেতেও সুস্বাদু। এ ছাড়া বাজারে চাহিদা ও ফলন বেশি হওয়ায় এ লাউ চাষে কৃষকের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ