আজঃ বুধবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

চট্টগ্রামের ১৬ আসন স্ব-স্ব নির্বাচনী এলাকায় ব্যস্ত সময় পার জামায়াতের, বিএনপিতে কোন্দল প্রকাশ্য।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের দশটি আসনে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করলেও ৮টিতে অসন্তোষ এখন তীব্র। বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ, কর্মীদের মধ্যে বিভাজন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করছে। এ কারণে দলের কোন্দল এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে এদের বিপরীতে সুসংগঠিত হচ্ছে জামায়াত।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের সবগুলোতে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। প্রার্থীরা এখন স্ব-স্ব নির্বাচনী এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সাংগঠনিক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী মাঠে বিএনপির অসন্তোষ ও বিভক্তির মাঝে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে আগেভাগেই প্রচারে মাঠে নেমে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী। অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা করছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছেন দলটির প্রার্থীসহ নেতাকর্মীরা। এমন কী চট্টগ্রামের প্রতিটি আসনে ভোটারদের মন জয় করতে নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডও করছে জামায়াত।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মাঠে প্রচার-প্রচারণায় থাকা জামায়াতের প্রার্থীরা হলেন- চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে এডভোকেট সাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন শিকদার, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আনোয়ারুল আলম সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) অধ্যাপক আবদুল মালেক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) শাহজাহান মঞ্জুর, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) ডা. এটিএম রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) ডা. আবু নাসের, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) ডা. ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ (খুলশী-পাহাড়তলী-হালিশহর) অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) শফিউল আলম, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) ডা. ফরিদুল আলম, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) ডা. শাহাদাত হোসাইন, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে নগর জামায়াতের সাবেক আমীর আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা জহিরুল ইসলাম। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ৩ নভেম্বর সারাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ঘোষণা করা হয় দশটি আসনের।

কিন্তু প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) ও চট্টগ্রাম- ৮ (চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসন দুটি ছাড়া অবশিষ্ট ৮টিতে বিএনপির মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম-১০ আসনে মনোনয়ন পান বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অপরদিকে চট্টগ্রাম- ৮ (চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ এরশাদ উল্লাহ। বর্তমানে এসব আসনে বিএনপির মধ্যে কোনো ধরনের অসন্তোষ দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামে অসন্তোষ দেখা দেওয়া ৮টি আসন হচ্ছে- চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া), চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)। বিএনপির বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রে তৃণমূলকে গুরুত্ব দেয়নি কেন্দ্র। এ কারণে নির্বাচনী মাঠে এত অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এদিকে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনের কারণে কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি। এ কারণে অবশিষ্ট আসনগুলোতে প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রে সময় নিচ্ছে দলটি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের রয়েছে ৬টি আসন।

আসনগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া), চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট), চট্টগ্রাম- ১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) এবং চট্টগ্রাম- ১৫ (সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া)। তবে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনটি বিএনপির শরিক এলডিপি-কে ছেড়ে দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম-৪ আসনে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে প্রার্থী ঘোষণার পরদিনই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীর সমর্থকেরা। তারা সীতাকুণ্ডের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার ঘণ্টা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে অংশ নেওয়ায় আসলামপন্থী স্থানীয় চার নেতাকে পরে বহিষ্কার করে দল। এরপর আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা গত ২১ ও ২২ নভেম্বর দুই দফা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ মানববন্ধন করেছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনেও। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে দলের একাংশ। এমন কী চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে গত ১৩ নভেম্বর লিখিত চিঠি দিয়েছেন ওই আসনের তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এরা হলেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস ও কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম মামুন মিয়া।একই দিন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুল আমিন চেয়ারম্যানকে পুনর্বিবেচনার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানিয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ১১ বিএনপি নেতা।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক) আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হককে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের দাবিতে গত ২১ নভেম্বর অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়ক অবরোধ করেছেন তার সমর্থকেরা। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিএনপির একাংশের অসন্তোষ চলে আসছে বাঁশখালী, পটিয়া, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া আসনেও।

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বঞ্চিতদের এমন বিক্ষোভকে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, একটি বড় দলে এ ধরনের প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুবই স্বাভাবিক। তবে এ ধরনের ক্ষোভ-বিক্ষোভ খুব বেশি আসনে হবে না। আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের দুই আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দুই দফায় চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। দুই আসনে প্রার্থী ঘোষণা দেয়নি দলটি। এ দুই আসনের প্রার্থী নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। আসন দুটি হচ্ছে- চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট) এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া-আংশিক)।শেষ মুহূর্তে চট্টগ্রামের এই দুই আসনে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে কী চমক অপেক্ষা করছে- এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই রাজনৈতিক অঙ্গনে। এদিকে আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যে যেকোন সময় বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা হতে পারে এ দুই নির্বাচনী আসনে। এ নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষণ চলছে। হিসাব মেলাতে ব্যস্তসময় পার করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারাও।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গত ৩ নভেম্বর ২৩৬টি এবং ৪ ডিসেম্বর ৩৬টিসহ দুই ধাপে ২৭২ আসনে সম্ভাব্য একক প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১০টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৪টি মিলে মোট ১৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি।ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন- চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) কাজী সালাউদ্দিন, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ) ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ-আংশিক) এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১৫

(সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) নাজমুল মোস্তাফা আমিন এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।
বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট) আসনটি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নিজের আসন। তবে তিনি এবার মনোনয়ন পান চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) আসনে। তাই এবার এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন- বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু ও নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান। তাছাড়া চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া-আংশিক) আসনটি বিএনপির শরিক এলডিপিকে ছেড়ে দিতে পারে বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে এলডিপির প্রার্থী হতে পারেন এলডিপির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম অথবা তার ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক। তিনি এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য। তবে এ আসন থেকে বিএনপির

মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন বেশ কয়েকজন। তারা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মহসিন জিল্লুর করিম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এবং বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম রাহী।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে আইএইচআরসিজি’র আলোচনা সভা ————

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস.এম. নসরুল কদির বলেছেন-বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করেছে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এখনও পর্যন্ত মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার রক্ষায় সংগ্রাম করে যাচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে সরকার আসুক না কেন, তাদেরকে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দিকে অধিক মনোযোগী হতে হবে। এবং এ কাজে মানববাধিকার সংগঠনগুলোকে মানবাধিকার রক্ষায় দেশী-বিদেশী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গণমূখী কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। তিনি বুধবার ৭৭তম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আইএইচআরসিজি বাংলাদেশ’র উদ্যোগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইএইচআরসিজি বাংলাদেশ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: আমির হোসেন খাঁন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে আইএইচআরসিজি বাংলাদেশ’র জেনারেল সেক্রেটারী সৈয়দ মোস্তফা আলম বলেন, মানবাধিকার সংগঠনের নামে বাংলাদেশের কোন জায়গায় চাঁদাবাজী দখলবাজী, মামলা বাজী করে জনগণকে হয়রানী করা যাবে না। যারা এ কাজে জড়িত থাকবেন তাদেরকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। এবং আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জনমুখী এবং স্বাধীনতা রক্ষায় যে দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে তাদেরকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আইএইচআরসিজি’র নির্বাহী পরিচালক নুরুল আবসার তৌহিদ বলেন, মানবাধিকার সংগঠনকে বাংলাদেশে প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌছে দেওয়ার জন্য সকল জেলায় সৎ ও যোগ্য মানুষকে সংগঠনের নেতৃত্বে আসার আহ্বান জানান। আইএইচআরসিজি চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব খান সম্রাট, নেত্রী নাহিদা আক্তার নাজু ও চম্পা রানী নন্দীর যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মাঈন উদ্দীন আহমদ, সংঠনের নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদিকা তাহেরা শারমীন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবু তৈয়ব, সংগঠনের বিভাগীয় নেতা মোঃ আব্দুর রহিম, পটিয়া উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নারী নেত্রী আফরোজা বেগম জলি, অপকার নির্বাহী পরিচালক মোঃ আলমগীর, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউনুচ তালুকদার, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ওহাব, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ডা. জামাল উদ্দিন, আর্ন্তাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন, সীতাকুন্ড উপজেলার সভাপতি মোঃ মুসলিম উদ্দিন ভূইয়া, মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাবেদ চৌধুরী, সংগঠনের নারী নেত্রী জান্নাতুল মাওয়া মারুফা, শারমীন সরকার, জোহরা সেলিম, সীতাকুন্ড পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মাসুদা বেগম, নারী উদ্যোক্তা মনিরা দিলশাদ তানসি, সংগঠনের নেতা যথাক্রমে-হাজী নুরুল ইসলাম, তাহেরা মহরম, ফাহমিনা আলম, ইঞ্জি: কাজী মিজান, এনাম হোসেন, মোঃ আলাউদ্দিন, আব্দুল কাদের চৌধুরী, মোঃ ইয়াছিন, মোঃ রাজু চৌধুরী, তৌহিদুল আলম তালুদার, মোঃ ইকরাম, ইব্রাহিম লালন, সঙ্গীত শিল্পী এস.বি সুমি, মোঃ ইমাম উদ্দিন, মোঃ আজহারুল ইসলাম তামিম, শান্ত দে, ফয়জুল হক, আসিফ রোহান, মোঃ ইয়াছিন প্রিন্স, তাহমিনা আক্তার প্রমুখ। ৭৭তম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে কেক কেটে এবং অনুষ্ঠান শেষে বিগত কর্মকাণ্ডের উপর সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের কাছে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ