আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামের ১৬ আসন স্ব-স্ব নির্বাচনী এলাকায় ব্যস্ত সময় পার জামায়াতের, বিএনপিতে কোন্দল প্রকাশ্য।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের দশটি আসনে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করলেও ৮টিতে অসন্তোষ এখন তীব্র। বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ, কর্মীদের মধ্যে বিভাজন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করছে। এ কারণে দলের কোন্দল এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে এদের বিপরীতে সুসংগঠিত হচ্ছে জামায়াত।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের সবগুলোতে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। প্রার্থীরা এখন স্ব-স্ব নির্বাচনী এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সাংগঠনিক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী মাঠে বিএনপির অসন্তোষ ও বিভক্তির মাঝে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে আগেভাগেই প্রচারে মাঠে নেমে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী। অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা করছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছেন দলটির প্রার্থীসহ নেতাকর্মীরা। এমন কী চট্টগ্রামের প্রতিটি আসনে ভোটারদের মন জয় করতে নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডও করছে জামায়াত।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মাঠে প্রচার-প্রচারণায় থাকা জামায়াতের প্রার্থীরা হলেন- চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে এডভোকেট সাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন শিকদার, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আনোয়ারুল আলম সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) অধ্যাপক আবদুল মালেক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) শাহজাহান মঞ্জুর, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) ডা. এটিএম রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) ডা. আবু নাসের, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) ডা. ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ (খুলশী-পাহাড়তলী-হালিশহর) অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) শফিউল আলম, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) ডা. ফরিদুল আলম, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) ডা. শাহাদাত হোসাইন, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে নগর জামায়াতের সাবেক আমীর আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা জহিরুল ইসলাম। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ৩ নভেম্বর সারাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ঘোষণা করা হয় দশটি আসনের।

কিন্তু প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) ও চট্টগ্রাম- ৮ (চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসন দুটি ছাড়া অবশিষ্ট ৮টিতে বিএনপির মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম-১০ আসনে মনোনয়ন পান বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অপরদিকে চট্টগ্রাম- ৮ (চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ এরশাদ উল্লাহ। বর্তমানে এসব আসনে বিএনপির মধ্যে কোনো ধরনের অসন্তোষ দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামে অসন্তোষ দেখা দেওয়া ৮টি আসন হচ্ছে- চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই), চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া), চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)। বিএনপির বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রে তৃণমূলকে গুরুত্ব দেয়নি কেন্দ্র। এ কারণে নির্বাচনী মাঠে এত অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এদিকে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনের কারণে কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি। এ কারণে অবশিষ্ট আসনগুলোতে প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রে সময় নিচ্ছে দলটি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের রয়েছে ৬টি আসন।

আসনগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া), চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট), চট্টগ্রাম- ১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) এবং চট্টগ্রাম- ১৫ (সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া)। তবে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনটি বিএনপির শরিক এলডিপি-কে ছেড়ে দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম-৪ আসনে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে প্রার্থী ঘোষণার পরদিনই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীর সমর্থকেরা। তারা সীতাকুণ্ডের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার ঘণ্টা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে অংশ নেওয়ায় আসলামপন্থী স্থানীয় চার নেতাকে পরে বহিষ্কার করে দল। এরপর আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা গত ২১ ও ২২ নভেম্বর দুই দফা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ মানববন্ধন করেছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনেও। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে দলের একাংশ। এমন কী চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে গত ১৩ নভেম্বর লিখিত চিঠি দিয়েছেন ওই আসনের তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এরা হলেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস ও কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম মামুন মিয়া।একই দিন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুল আমিন চেয়ারম্যানকে পুনর্বিবেচনার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানিয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ১১ বিএনপি নেতা।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক) আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হককে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের দাবিতে গত ২১ নভেম্বর অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়ক অবরোধ করেছেন তার সমর্থকেরা। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিএনপির একাংশের অসন্তোষ চলে আসছে বাঁশখালী, পটিয়া, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া আসনেও।

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বঞ্চিতদের এমন বিক্ষোভকে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, একটি বড় দলে এ ধরনের প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুবই স্বাভাবিক। তবে এ ধরনের ক্ষোভ-বিক্ষোভ খুব বেশি আসনে হবে না। আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ