আজঃ রবিবার ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

প্রবাসীদের স্বার্থ–উন্নয়নে আলহাজ্ব ইয়াকুব সুনিকের নতুন উদ্যোগ : চট্টগ্রামে সাংবাদিক–নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

দুবাই প্রবাসীদের গর্ব, মানবিকতার ফেরিওয়ালা ও সফল উদ্যোক্তা আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইয়াকুব সুনিক চট্টগ্রামে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। গত ২৮ নভেম্বর শুক্রবার চট্টগ্রামের সাম্পান রেস্টুরেন্ট ও পার্টি হাউসে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় প্রবাসীদের কল্যাণে চলমান উদ্যোগ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশ–দুবাই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইয়াকুব সুনিক দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি বর্তমানে—চট্টগ্রাম উন্নয়ন পরিষদ (UAE)-এর প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন দুবাইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ বিজনেস এসোসিয়েশন দুবাইয়ের সাধারণ সম্পাদক, ফিউচার হোমস রিয়েল এস্টেটের চেয়ারম্যান এবং কে বি এন সুপার মার্কেটের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রবাসীদের সংকটে পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহায়তা, করোনাকালে অসংখ্য মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দেশে স্কুল–মাদ্রাসা ও গরিব–দুঃস্থদের সহায়তায় তার অবদান প্রবাসী সমাজে তাকে বিশেষভাবে পরিচিত করেছে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি, ৭১ টিভির ব্যুরো চীফ সাইফুল ইসলাম শিল্পী, এশিয়ান হেলথ কেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. লায়ন সালাহউদ্দিন আলী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক এজাজ মাহমুদ, আজকের বিজনেস বাংলাদেশের ব্যুরো চীফ জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল্লাহ, এনামুল হকসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন মিডিয়া প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন সাইফুল ইসলাম শিল্পী ও জাহাঙ্গীর আলম।

সভায় আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইয়াকুব সুনিক তার বক্তব্যে প্রবাসীদের প্রতি দায়বদ্ধতা ও মানবিক দায়িত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
“চট্টগ্রাম আমার আত্মার শহর, বাংলাদেশ আমার প্রাণ, আর দুবাই আমাদের সংগ্রামের গল্প। প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠায় না—তারা তাদের ঘাম, পরিশ্রম আর স্বপ্ন পাঠায়। প্রবাসীদের নিরাপত্তা, সম্মান এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাস থেকেই আমি সবসময় প্রবাসীদের পাশে থাকার চেষ্টা করি।”

তিনি আরও বলেন,“বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। নতুন প্রজন্মের প্রবাসী উদ্যোক্তাদের সহায়তা, ব্যবসা সম্প্রসারণ, আইনি সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা—এসব বিষয়ে আমাদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সাংবাদিকরা আমাদের পথ দেখান, তাই আপনাদের সহযোগিতা প্রবাসীদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

জাহিদুল করিম কচি বলেন, প্রবাসীদের ত্যাগ দেশের উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি—তাদের জন্য সাংবাদিক সমাজ সবসময় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সভায় ‘এশিয়ান হেলথ কেয়ার গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান ড. সালাহউদ্দিন আলী জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও প্রবাসী কর্মীদের জন্য শিগগিরই ‘প্রবাসী স্বাস্থ্যসেবা’ নামে একটি মাল্টি-স্পেশালাইজড টেলিমেডিসিন অ্যাপ চালু হচ্ছে। অ্যাপটির মাধ্যমে প্রবাসীরা যেকোনো দেশ থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারবেন। কম খরচে, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য এই সেবা প্রবাসীদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


মতবিনিময় সভায় উপস্থিত অতিথিরা প্রবাসীদের দেশপ্রেম, মানবিক ভূমিকা এবং দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইয়াকুব সুনিকের মতো প্রবাসী নেতৃবৃন্দের নিরলস কাজ দেশের ভাবমূর্তি ও প্রবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সার্বিকভাবে, চট্টগ্রামের এই মতবিনিময় সভা প্রবাসী সমাজের উন্নয়ন, মানবিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ–দুবাই সম্পর্ক আরও অগ্রসর করার এক কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে লাগেজে মিলল ৯০ লাখ টাকার সিগারেট

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মালিকানাহীন ছয়টি লাগেজ থেকে ৮০০ কার্টন মন্ড ব্র্যান্ডের সিগারেট জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকাল ১১টার দিকে বিমানবন্দরের এরাইভাল হলের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড কর্নারের পাশ থেকে এসব লাগেজ উদ্ধার করা হয়। জব্দ হওয়া সিগারেট প্রতি কার্টন ১১ হাজার ২৫০ টাকা মূল্য ধরে মোট ৯০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, লাগেজগুলোর সঙ্গে কোনো যাত্রীর নাম, ট্যাগ বা মালিকানার কাগজপত্র ছিল না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কেউ লাগেজের দাবি না করায় সেগুলোকে কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে লাগেজ খুলে ৮০০ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায় এবং তা জব্দ করা হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, লাগেজগুলো দীর্ঘ সময় ধরে মালিকবিহীন অবস্থায় ছিল। কেউ দায়িত্ব না নেওয়ায় সেগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে জব্দ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে চোরাচালান ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।

সিএমপির ১৬ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ১৬ থানার সব ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একযোগে বদলি করা হয়েছে। শনিবার সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

চিঠি সূত্রে জানা গেছে, কোতোয়ালী থানার ওসি আব্দুর রহিমকে পাঁচলাইশে, সদরঘাট থানার মো. আব্দুর রহিমকে বন্দর থানায়, বাকলিয়া থানার মো. আফতাব উদ্দীনকে কোতোয়ালীতে, পাঁচলাইশ থানার ওসি মো. সোলায়মানকে বাকলিয়া থানায়, বায়েজিদ থানার ওসি জসিম উদ্দীনকে চান্দগাঁও থানায়, চান্দগাঁও থানার জাহেদুল কবিরকে বায়েজিদ থানায়,

খুলশী থানার শাহীনুল আমিনকে কর্ণফুলী থানায়, ডবলমুরিং থানার বাবুল আজাদকে চকবাজার থানায়, হালিশহর থানার নুরুল আবছারকে পাহাড়তলী থানায়, আকবরশাহ থানার মো. আরিফুর রহমানকে সদরঘাট থানায়, পাহাড়তলী থানার মো. জমির হোসেন মোহাম্মদ জিয়াকে ডবলমুরিং থানায়, কর্ণফুলী থানার জাহেদুল ইসলামকে খুলশী থানায়, বন্দর থানার ওসি মোস্তফা আহম্মেদক পতেঙ্গা থানায়, পতেঙ্গা থানার ওসি কাজী মোহাম্মদ সুলতার আহসান উদ্দীনকে হালিশহর থানায়, ইপিজেড থানার কামরুজ্জামানকে আকবরশাহ থানায়, চকবাজার থানায় শফিকুল ইসলামকে সিটিএসবিতে বদলী করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ