পূর্ব রেলের সরঞ্জাম দপ্তর নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন কাল্পনিক ও ভুয়া

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জুয়েলের প্রতিবাদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম: পূর্ব রেলওয়ের পাহাড়তলীস্থ সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) দপ্তরের সহকারী কর্মকর্তা (এএও) পদে কর্মরত আমিনুল ইসলাম জুয়েল সম্প্রতি প্রকাশিত “সরঞ্জাম ক্রয়ে জোচ্চুরি” শিরোনামের সংবাদকে সম্পূর্ণ ভুয়া, ভিত্তিহীন ও মনগড়া দাবি করেছেন। তিনি বলেন, সংবাদটি শুধু তার ব্যক্তিগত সম্মানহানি নয়, সরকারি দপ্তরের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা।

জুয়েল জানিয়েছেন, তার কর্মস্থল জেনারেল শাখা, যেখানে কোনো বড় ধরনের সরঞ্জাম ক্রয়, টেন্ডার বা মালামাল সরবরাহ হয় না। তিনি বলেন— “আমার দপ্তর থেকে কোনো বড়সর ক্রয় হয় না। মাসিক ইনপ্রেস বরাদ্দ দিয়ে শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় অফিস সামগ্রী কেনা হয়—কলম, পেন্সিল, কলিং বেল, পত্রিকার বিল, ব্যাটারি, সাবান, সিলের স্ট্যাপলার পিন, বিভিন্ন ফুল–ছলা ঝাড়ু ইত্যাদি। এর বাইরে কোনো সরঞ্জাম ক্রয়ের প্রশ্নই আসে না।”

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুয়েলের বিরুদ্ধে “এক বছরের অনিয়ম” রয়েছে। কিন্তু তিনি যোগদান করেছেন মাত্র ৬ মাস আগে। জুয়েল প্রশ্ন তুলেছেন—“আমি তখন দপ্তরে ছিলামই না। এই সময়ের অনিয়ম আমাকে কীভাবে চাপানো হলো? এটি স্পষ্টভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য।”

জুয়েল আরও জানান, যাচাই–বাছাই ছাড়া এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব লঙ্ঘন। তিনি বলেন—“সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। তারা চাইলে কাউকে সম্মানিত করতে পারেন, আবার ভুল তথ্য দিয়ে অসন্মানও করতে পারেন। ব্যক্তিগত স্বার্থে মনগড়া তথ্য ছড়ানো গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো সরকারি দপ্তরকে অস্থির করে তোলে। প্রয়োজনে আমি আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।”

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, প্রধান সহকারী জগদীশ চাকমা নাকি সাংবাদিকের সামনে ঘুষের টাকা জুয়েলের কাছে বুঝিয়ে দেন। জুয়েল কিছুই না জানার ভান করেন এবং পরে টাকা টেবিলে রেখে জগদীশ চলে যান।

এই বিষয়ে জগদীশ চাকমা সাংবাদিকদের বলেন— “আমি ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম সিআরবি সোনালী ব্যাংক থেকে ৪,৫৩৭ টাকা উত্তোলন করে নিয়ম অনুযায়ী সহকারী কর্মকর্তা জুয়েলের কাছে হস্তান্তর করেছি। এটিকে ঘুষ হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও দু:খজনক। এগুলো অফিসের টাকা, ইনপ্রেস বিলের নিয়মিত বরাদ্দের অংশ।”

তিনি আরও বলেন, সংবাদে ঘটনাটি যেমন দেখানো হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সরকারি দপ্তরের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা।যাচাই–বাছাইয়ে দেখা গেছে, যেসব স্টক–রেকর্ড ও রিক্যুইজিশন ফাইলের উল্লেখ রয়েছে, তা বড় ক্রয় নয়, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় ইনপ্রেস সামগ্রীর হিসাব। যেহেতু জুয়েল এই পদে মাত্র ছয় মাস কর্মরত, তাই এক বছরের অনিয়মের অভিযোগ তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

পূর্ব রেলের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জুয়েল জোর দিয়ে বলেছেন— আমি নির্দোষ। সত্য যাচাই করলেই প্রমাণিত হবে—সংবাদটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন।উভয় কর্মকর্তা—জুয়েল ও জগদীশ চাকমা—সংবাদটিকে মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে সত্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছেন।

এদিকে, সূত্রে জানা গেছে, এর আগে পাহাড়তলীতে অবস্থিত রেলওয়ের বিভাগীয় ভুসম্পত্তি দপ্তরে এএও হিসেবে কর্মরত অবস্থায় জুয়েল লীজের নামে রেলের জায়গা বেচে খাওয়ার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর দৈনিক ঈশান-এর অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত শেষে রেলওয়ে ভুসম্পত্তি দপ্তর থেকে তাকে ওএসডি করা হয়। পরে তাকে পাহাড়তলীতে অবস্থিত সিসিএস দপ্তরের জেনারেল সেকশনে এএও পদে পদায়ন করা হয়।

জুয়েল বলেন, সংবাদে তাকে পুনরায় ওএসডি বা অতীতে ঘটানো অন্য কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দেখানো সম্পূর্ণ মনগড়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই ধরনের কোনো ঘটনা আমার চাকরি জীবনে ঘটেনি। তিনি জানিয়েছেন, এটি সরকারি দপ্তরের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যপূর্ণ প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীর প্রথম শহিদ এখলাছুর রহমানের ৫৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর শ্রদ্ধা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১৯৫৬ সালের ২০ শে মে তিনি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের আকুবদনডী গ্রামে অকুতোভয় বীরোচিত আত্মত্যাগী এখলাছ। মরহুম সৈয়দ জামাল উদ্দীনের ঔরষে মরহুমা সৈয়দা মছুদা খাতুনের গর্ভে জন্ম গ্রহণ করেন এই ক্ষন জন্মা ব্যাক্তিত্ব।মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসে বীর বিক্রমে

কধুরখীলের খোকার দোকান এলাকায় পাকবাহিনীর ওপর গ্রেনেড ছুড়ে মেরেছিলেন এ শহিদ এখলাছ। ওইদিন পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন তিনি। সেই সংগ্রামী বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭১ সালের ৪ আগস্ট পাকবাহিনীর হাতে শহীদ হন। (তথ্য সূত্র দৈনিক পাকিস্তান, পূর্বদেশ,ইওেফাক ১৯৭১)।

স্বাধীনতা সংগ্রামের উজ্জ্বল নক্ষত্র শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এখলাছুর রহমান ক্যাপ্টেন করিমের গড়া বাহিনী ও ৬৯এর ছাত্র মিছিলে অগ্রনীভূমিকা পালন করেছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কধুরখীল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।সরাসরি যুক্ত ছিলেন তৎকালীন প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে।বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল নোমান সাহেব এখলাছের সহযোদ্ধা।

উল্লেখ্য তৎকালীন স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজের অধ্যাপক দিলীপ চৌধুরী গ্রুপের অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীন শিক্ষাবিদ রফিক আহমদ শহীদ এখলাছের ভগ্নিপতি। সাধারণ মানুষের উপর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নির্মমতা ও এদেশীয় সহযোগীদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে গ্রেনেড ছুড়ে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এ সম্মুখ যোদ্ধা।

দেশ স্বাধীনের পর তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বিদ্যাপীঠ কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনকে নামকরণ করা হয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এখলাছ মিলনায়তন। ইকবাল পার্কের নাম পরিবর্তন এনে করা হয়েছিল শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এখলাছ পার্ক। এছাড়া একটি সড়কের নামকরণ করা হয় এই মহান বীর শহীদের নামে।তবে কিছু ঐতিহাসিক স্মৃতি এখন বিস্মৃতির আড়ালে।

ইতিহাসের বৃহৎ অংশে বোয়ালখালী উপজেলা সদরের স্মৃতি সৌধে এ মহান বীর শহীদের নাম রয়েছে কাজেই দেশমাতৃকার অতুলনীয় আত্মত্যাগের জন্য লাল সবুজের পতাকা জুড়ে ও স্মৃতির দর্পনে চির উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন।

সাংবাদিকের কাজ ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা -কাদের গনি চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন- রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার কাজ। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।২ আগস্ট রোববার দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব বলেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ