পদক্ষেপ বাংলাদেশ এর বিজয় মাসের প্রথম প্রভাত ।

রিপন শান #

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পদক্ষেপ বাংলাদেশ-এর আয়োজন, কর্মসূচী ব্যতিক্রম ও বৈচিত্র্যময়। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকার পরিবাগস্থ সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের উন্মুক্ত মঞ্চে জাতীয় সংগঠন ও শিল্পীদের অংশগ্রহণে ‘বিজয় মাসের প্রথম প্রভাত’ শীর্ষক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ১ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাংস্কৃতিক পর্ব—দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে : শিল্পবৃত্ত, পদক্ষেপ বাংলাদেশ। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে : কথা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র, শিল্পবৃত্ত, ঢাকা স্বরকল্পন, মুক্তধারা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র। একক আবৃত্তি করেন : মীর বরকত, নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলি। কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন : গোবিন্দলাল সরকার, মো: তাজুল ইসলাম, খাইরুল আলম।

উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন আবৃত্তিশিল্পী মীর বরকত, জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জেবুন্নেসা জেবা, উদয়ন স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষক সবিতা সাহা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পদক্ষেপ বাংলাদেশ-এর সভাপতি বাদল চৌধুরী। স্বাগব বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল্লাহ সাঈদ। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী মতিয়ারা মুক্তা।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়- বহু ত্যাগ, সংগ্রাম আর প্রত্যাশার ফসল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এ শুধু পতাকা আর জাতীয় সঙ্গীত বদল নয়, খোল-নলচে সব পাল্টে নতুন এক আদর্শকে রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্নের নবযাত্রা। এই স্বপ্নের প্রধান এবং একমাত্র উপজীব্য মানুষ। মানুষের কল্যাণ, মানুষের মুক্তি, মানুষের মর্যাদা এবং মানুষের স্বাধীন ভূমিই শেষ কথা। কত মাতা, কত ভগ্নি, কত জানা-অজানা নারী তাঁর সম্ভ্রম হারিয়েছে শুধু এই মানুষকে মানুষের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। মানুষ কল্পনাবিলাসী কিন্তু নিজেতো সে কাল্পনিক নয়Ñএ ভূমিতেই তার সৃষ্টি, বেড়ে ওঠা, ভালো-মন্দের স্বাদ নেয়া, অতঃপর ভূমিতেই মিলিয়ে যাওয়া। এ ভূমির প্রতি তার প্রচ- ভালোবাসা।

মাতৃক্রোড়ে যেমনিভাবে শিশু বেড়ে ওঠে; একইভাবে কাদা-মাটি গায়ে মেখে আলো-বাতাসে অবগাহন করে এই ভূমিকেই মাতৃক্রোড় ভেবে একদিন চিরবিদায় নেয় প্রতিটি মানবশিশু। জন্ম আর মৃত্যুতে যে ভূমিকে কখনো আলাদা করা যায় নাÑতারই অমার্যাদা করবে ভিনদেশী তস্কর! তা কি করে মেনে নেয় ধুলো-বালি গায়ে মেখে বেড়ে ওঠা এ জনপদের মানুষেরা। এ ভূমিরই সাহসী-ত্যাগী- পোড়খাওয়া এক নামÑশেখ মুজিব। মাটি আর মানুষের সাথে ছিলো যাঁর আজন্ম সখ্য, ভিনদেশী হায়েনার হিংস্র থাবায় বারবার ক্ষতবিক্ষত হয়েছে তাঁর হৃদপি-; তবুও ভূমি আর মানুষের স্বাধীনতায় অবিচল থেকেছেন তিনি।

তাঁরই অঙ্গুলী হেলনে সাড়ে সাত কোটি মানুষ পরিণত হয়েছে এক একজন নেতাজী সুভাষ বসু, ক্ষুদিরাম, সূর্যসেন, প্রীতিলতা, তিতুমীর, বাঘাযতিন, লক্ষ্মীবাই, ভগৎসিং, রফিক, শফিক, সালাম, জব্বার, সালাউদ্দিন, বরকত, আসাদ, মনুমিয়া’য়। এ গাঙ্গেয় বদ্বীপের তেরোশত নদীর জোয়ার আর পাখিদের কলতানে উচ্চারিত হয়েছে ভিনদেশী হায়েনার বিনাশ- ধ্বনি। লাঙলের ফলা থেকে তৈরি উর্বর মাটির প্রতিটি চাকা পরিণত হয়েছে শত্রুবিনাশী আনবিক বোমায়। বাঁশঝাড় উজাড় করে তৈরি হয়েছে চকচকে বেয়নেট।

নিঃশঙ্ক চিত্তে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার অগ্নিপুরুষ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সঞ্চারিত হয়েছে সাড়ে সাত কোটি মানুষের প্রতিটি রক্ত কণিকায়Ñবিজয় অর্জিত হয়েছে মানুষের সংগ্রাম আর আত্মদানের। বিজয় মাসের সূচনালগ্নে আমরা নতুন করে উদ্দীপ্ত হতে চাইÑমাটি আর মানুষের কল্যাণ কামনায়। আমরা বিনাশ চাই সেই নরপশুদের যারা মাটির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ভিনদেশী হায়েনাদের সঙ্গী হয়েছিলো মনুষত্বের বিনাশ সাধনে। সেই সাথে চাই আজকের এই দিনটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা দিবস’-এর সরকারি স্বীকৃতি। মাটি আর মানুষের জয় হোক, জয় হোক শুভ চিন্তা আর আদর্শের।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে আগুনে ৭ দোকান ভস্মীভূত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়ার তুলাতুলিতে একটি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে ৭টি দোকান পুড়ে গেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তুলাতলীর জামাই বাজার এলাকার আলী মার্কেটে আগুনের এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, দুপুর ১টা ৫ মিনিটে তারা আগুন লাগার খবর পায়। আগুন নির্বাপণে চারটি ইউনিট অংশ নেয়।

বেলা পৌনে ৩টার দিকে আগুন নির্বাপণ সম্ভব হয়। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শাহ ইমরান জানায়, আগুনে মার্কেটটির ৫ থেকে ৭ টি দোকান পুড়ে গেছে। আগুন নেভানোর পর ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে।

ছেলেকে হত্যার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করায় ক্ষুদ্ধ স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাবা ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে, এমন অভিযোগে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।নাঈম (১৪)লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরজঙ্গালিয়া গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের ছেলে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনায় নিহতের মা ফাতেমা আক্তার সুমি বাদী হয়ে নিহতের বাবাকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে, গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামের একটি ধানখেতের পাশ থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নাঈমের নানা এবায়েদ উল্যাহ বলেন, সোমবার রাতে নাঈম আমার বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিল। ভোরে ফজরের নামাজের সময় আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি, ঘরের দরজা খোলা এবং নাঈম শয়নকক্ষে নেই। পরে সকাল ৭টার দিকে সার আনতে যাওয়ার পথে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানখেতের পাশে রাস্তার ওপর নাঈমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পাই।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে তার মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়। এরপর নাঈম নানার বাড়িতে থেকে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত। সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর রাতের খাবার খেয়ে নানার বসত ঘরেই ঘুমিয়ে ছিল নাঈম। সকালে। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানক্ষেতের পাশে পাওয়া যায় তার মরদেহ। গত ২০-২৫ দিন আগে নাঈমের মা সুমি আক্তার দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিল সাবেক স্ত্রী সুমির ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে।

পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিলেন। ছেলের আয়-রোজগার খেয়ে কীভাবে মা খায়, তা দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পরপরই নাঈমের মা সুমি তার সাবেক স্বামী খলিলকে সন্দেহ করেন। সকালে নাঈমের মৃত্যুর খবর জানাতে খলিলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি। পরে তিনি নিজে ফোন করলে ছেলের মৃত্যুর খবর তাকে জানানো হয়। সুমি দ্বিতীয় বিয়ে করায় খলিল তার ছেলেকে শ্বশুরের ঘর থেকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার বলেন, বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত বাবাকে আটক করা হয়। থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ছেলের হত্যাকান্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। শুক্রবার বিকেলে তাকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ