আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-আকবরশাহ) আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ চুড়ান্ত হয়েছে। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শেষদিনের বৈঠকে এ আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে ডাকা হয়েছে লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীকে। বৈঠকে ডাকার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-আকবরশাহ) আসনে বিএনপির লায়ন আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন চূড়ান্ত হলো বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে বিএনপি প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করেছে। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে ভার্চুয়ালি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নানা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

সাংগঠনিক সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-আকবরশাহ) আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন হয়েছে। এ আসনে গত ৩ নভেম্বর প্রথম দফায় ঘোষিত বিএনপির প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে এবার লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে দল।
এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ এর পক্ষে রিটার্নিং কমকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছে নেতৃবৃন্দরা। রোববার সকালে

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা ডাঃ কমল কদর, মোঃ জহুরুল আলম জহুর, মোহাম্মদ মোরসালিন, জাকির হোসেন, সালেহ আহম্মদ সলু, আব্দুস সাত্তার সেলিম, মাইনুদ্দিন চৌধুরী, রেহান উদ্দিন প্রধান, রফিক আহম্মদ, মাহবুবুল আলম, মোহাম্মদ সেলিম, মোজাহের উদ্দিন আশরাফ, নুরুল আনোয়ার চেয়ারম্যান, ফজলুল করিম চৌধুরী, সাহাব উদ্দিন রাজু, সোলায়মান রাজ, হেলাল উদ্দিন বাবর, মোঃ সাহাব উদ্দিন, মোঃ ইব্রাহিম, এডভোকেট নাছিমা আক্তার ডলি, এডভোকেট আইনুল কামাল, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, অমলেন্দু কনক, আসলাম উদ্দিন, মোঃ জিয়া উদ্দিন, মোঃ বখতিয়ার উদ্দিন, মোঃ শাহেদ, মোঃ ইসমাইল, মোঃ কামরুল ইসলাম বাবলু প্রমূখ।

এ সময় নেতৃবন্দ উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আসলাম চৌধুরী সীতাকুন্ড তথা চট্টগ্রাম-৪ আসনের মাঠি ও মানুষের জনপ্রিয় নেতা। পরিচ্ছন্ন ও মানবিক মানুষ হিসেবে তিনি জনপ্রিয়তার অনন্য চূড়ায় অবস্থান করছেন। এ আসনের মানুষ তাকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবে ইনশাল্লাহ। এখানে কোনো ভেদাভেদ বা কোন্দল নেই। সীতাকুন্ড তথা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি আসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।

জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর প্রথম দফায় ২৩৬টি আসনে এবং ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। ফলে মোট ২৭২টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দলটি। গত বুধবার থেকে ধারাবাহিকভাবে তিনদিন সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নানা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। গত শনিবার ছিল এই বৈঠকের শেষদিন।

এদিকে, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট) এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া-আংশিক) আসন দুটিতে এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। দুই দফায় চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী ঘোষণা করলেও এ দুই আসনে প্রার্থী ঘোষণা দেয়নি দলটি। এ দুই আসনের প্রার্থিতা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তাতে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঘুম হারাম অবস্থা এখন। এ দুই নির্বাচনী আসনে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা হতে পারে। তাতেই অপেক্ষা করছে চমকের। এ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। হিসাব মেলাতে ব্যস্তসময় পার করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারাও।

বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট) আসনটি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নিজ আসন। তবে তিনি এবার মনোনয়ন পান চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) আসনে। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছাড়াও চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের পুত্র তরুণ রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাঈদ আল নোমান এবং মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় বর্তমানে চট্টগ্রাম-১১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন দুই বিএনপি নেতা। তারা হলেন- বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু ও নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান। তাছাড়া চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া-আংশিক) আসনটি নিজেদের শরিক এলডিপিকে ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি। এক্ষেত্রে এলডিপি’র প্রার্থী হতে পারেন দলটির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের পুত্র অধ্যাপক ওমর ফারুক।

তিনি এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য। এর আগে ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম নিজে আর নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাই বিএনপি আসনটি এলডিপিকে ছেড়ে দিলে সেখানে অধ্যাপক ওমর ফারুকের নির্বাচন করার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। তবে এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন বেশ কয়েকজন। তারা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মহসিন জিল্লুর করিম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এবং বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম রাহী সিআইপি।

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুই দফায় ইতোপূর্বে বিএনপির ১৪ আসনের ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন- চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-আকবরশাহ) কাজী সালাউদ্দিন, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ) ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও, বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ-আংশিক) এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) নাজমুল মোস্তাফা আমিন এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ