আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে ছয় মাসে আড়াই হাজারেরও বেশি নিষিদ্ধ ক্রিম জব্দ, চর্মরোগের ঝুঁকি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে একের পর এক ঢুকছে নিষিদ্ধ ক্রীম। এসব নিষিদ্ধক্রীমগুলো মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ঢুকছে চট্টগ্রামে।পাকিস্তানে তৈরি এসব ক্রিম পাঁচ বছর আগে ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও প্রায়ই যাত্রীদের লাগেজ থেকে জব্দ করছে বিমানবন্দর কাস্টমস ও এনএসআই।

গত ছয় মাসে আড়াই হাজারেরও বেশি নিষিদ্ধ ক্রিম জব্দ করা হয়েছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, অতিমাত্রায় পারদ থাকায় ত্বকের জন্য ক্ষতিকর এসব ক্রিম ‘লাগেজ পার্টি’র মাধ্যমে এনে গোপনে বিক্রি করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এতে করে মারাত্মক চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।সূত্র জানায়, গৌরী ক্রিম মূলত তৈরি হয় পাকিস্তানে। দুবাই হয়ে এই নিষিদ্ধ ক্রিম চট্টগ্রামে ঢুকছে। এরপর দেশে বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। আর এসবের নেপথ্যে রয়েছে দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। আমদানি নিষিদ্ধ হওয়ায় ‘আকাশপথ’ ব্যবহার করে যাত্রীদের মাধ্যমে এসব ক্রিম আনা হচ্ছে।
এদিকে গত

এদিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ২২ ডিসেম্বর রাত ১০টায় চার যাত্রীর লাগেজ তল্লাশি করে ৫০ পিস নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের কাছ থেকে ৮৬৭ কার্টন সিগারেটও জব্দ করা হয়। চার যাত্রী হলেন,রেজাউল করিম, মিজানুর রহমান, রিদওয়ানুল হক ও মো. সালাউদ্দিন। তারা দুবাই থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ওই রাত সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রামে পৌঁছান।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, জব্দ করা সিগারেটের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ ২৪ হাজার টাকা। ওই চার যাত্রীকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

এর আগে গত ২২ নভেম্বর সকালে কাস্টমস এনএসআই ও কাস্টমস ইন্টেলিজেন্সের যৌথ তল্লাশিতে দুই যাত্রীর ব্যাগ থেকে জব্দ করা হয় ২৫০ পিস গৌরী ক্রিম। মো. ফখরুল ইসলাম ও মো. আশরাফুল ইসলাম নামে দুই যাত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে করে চট্টগ্রামে আসেন। এচাড়া ৮ নভেম্বর সকালে দুবাইফেরত যাত্রীর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের কাছ থেকে ১২টি নিষিদ্ধ ক্রিম উদ্ধার করে এনএসআই ও শুল্ক গোয়েন্দা। অন্যদিকে ২০ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় দুই যাত্রী ইমিগ্রেশন শেষ করে ব্যাগেজ নিয়ে গ্রিন চ্যানেল (শুল্ককরযুক্ত পণ্য না থাকলে এই পথে যাওয়া যায়) অতিক্রম করার সময় এনএসআই কর্মকর্তারা তাদের তল্লাশি করে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ২ হাজার ৭৬ পিস গৌরী ক্রিম জব্দ করা হয়। দুবাই থেকে আসা ও দুই ছিলেন ফেনী সদরের মো. আরিফুল ইসলাম এবং চট্টগ্রামের রাউজানের মোশাররফ হোসেন। তাদের পাসপোর্ট নম্বর নথিভুক্ত করে জরিমানা করা হয় এবং সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।১৮ জুন মধ্যপ্রাচ্যের ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এই দুই যাত্রী কাছ থেকে ১৪০ পিস গৌরী ক্রিম জব্দ করা হয়। ওই দুই যাত্রী ছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মোহাম্মদ আবু নাসের এবং নগরের চাঁন্দগাও থানা এলাকার মিন্টু দেবনাথ।

জানা গেছে, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন’ (বিএসটিআই) ২০২০ সালে আটটি রং ফর্সাকারী ক্রিমে ক্ষতিকর মাত্রায় পারদ ও হাইড্রোকুইনোন পায়। এসব প্রসাধনী ব্যবহার করলে চর্মরোগসহ নানা জটিল রোগ হতে পারে, এমন সতর্কতা জারি করে সেগুলো বিক্রি, বিপণন ও আমদানিনিষিদ্ধ করে সংস্থাটি। এই আটটি ক্রিমের একটি হলো ‘গৌরী ক্রিম’ ও ’ডিউ ক্রিম’ অন্যতম।

এরপর ২০২৩ সালের নিষিদ্ধের তালিকায় যোগ হয় আরও ১০টি ক্রিম। নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে, পাকিস্তানের গৌরী কসমেটিকসের (প্রা.) ‘গৌরী ক্রিম’, এসজে এন্টারপ্রাইজের ‘চাঁদনী ক্রিম’, কিউসি ইন্টারন্যাশনালের ‘নিউ ফেস’, ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ‘ডিউ’, নুর গোল্ড কসমেটিকসের ‘নুর হারবাল বিউটি ক্রিম’, নুর গোল্ড কসমেটিকসের ‘নুর গোল্ড বিউটি ক্রিম’, গোল্ডেন পার্ল কোম্পানির ‘গোল্ডেন পার্ল ক্রিম’, হোয়াইট পার্ল কসমেটিকস ইন্টারন্যাশনালের ‘হোয়াইট পার্ল ক্রিম’, পুনিয়া ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেডের ‘ফাইজা ক্রিম’, লোয়া ইন্টারন্যাশনালের ‘পাক্স’ ও ‘নাভিয়া ক্রিম’, লাইফ কসমেটিকসের ‘ফ্রেশ অ্যান্ড হোয়াইট ক্রিম’, ফেস লিফট কসমেটিকসের ‘ফেস লিফট ক্রিম’, শাহিন কসমেটিকসের ‘ফেস ফ্রেশ ক্রিম’ ও আনিজা কসমেটিকসের ‘আনিজা গোল্ড’।

বিএসটিআইয়ের ল্যাব পরীক্ষায় পাওয়া গেছে, গৌরি ক্রিমে পারদের পরিমাণ ৭৫৫.৮৫ পিপিএম—যেখানে গ্রহণযোগ্য মাত্রা মাত্র ১ পিপিএম! শুধু গৌরি নয়, বাজারের আরও সাতটি ব্র্যান্ডেও পাওয়া গেছে বিপজ্জনক মাত্রার পারদ ও হাইড্রোকুইনোন। তাই এসব ক্রিম আমদানি ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বিএসটিআই।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ