বোয়ালখালীতে মাঠ জুড়ে শীতকালীন সবজি।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মাঠ জুড়েই এখন শোভা পাচ্ছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন, মুলা, সরিষা, টমেটা, পালংশাক, কপিশাক, লালশাকসহ রকমারি শীতকালীন শাক সবজি।

তবে ফুলকপি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা৷ অল্প সময়ে অধিক লাভের জন্য অনেকেই করেছেন ফুলকপি চাষ। বর্তমান বাজারে ফুলকপির ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা। উপজেলার কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন বিভিন্ন সবজিতে মাঠ ভরে গেছে।

এসব ফসল পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক কৃষাণীরা। ভোরে কোদাল, নিড়ানি, বালতি, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন ক্ষেত পরিচর্যায়। বিকেল অবধি মাঠে থেকে সবাই বাড়ি ফিরছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ২৫ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ২০ হেক্টরে বাঁধাকপি চাষ করেছেন কৃষকেরা। সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে বাজারে শীতকালীন সবজি উঠলে ও এবার কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মৌসুমের শুরুতেই সবজি বাজারে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র দে।

তিনি বলেন, চাষিরা এখন জমি থেকে ফুলকপি তুলে বাজারে বিক্রি করছেন। তাদের উৎপাদিত ফুলকপি স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ বছরে ফুলকপির বাম্পার ফলন ও ন্যায্য দাম পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন চাষিরা। কেউ অল্প অল্প করে ফুলকপি বাজারে বিক্রি করছেন। কেউ আবার চুক্তি ভিত্তিতে ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

খরণদ্বীপ এলাকার কৃষক রূপক দে বলেন, এবার অক্টোব মাসের মাঝামাঝি সময়ে ৩৮ শতক জমিতে আগাম মন্টিন (জাপানি) জাতের ফুলকপি লাগিয়েছেন তিনি। সাথী ফসল হিসেবে লাগানো হয়েছে কোরিয়ান জাতের মিষ্টি কুমড়া । এক মাসের মধ্যে ফলন আসবে বলে জানান তিনি। সবকিছু মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জমির সব ফুলকপি পাইকারি ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। খরচ বাদে আড়াই মাসে ৫৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।

আর ১০-১৫ দিন পর বিক্রির উপযুক্ত হবে হাইব্রিড স্নো-বক্স জাতের ফুলকপি ও এটলাস-৭০, এবং গ্লোরী- ১ জাতের বাঁধাকপি। এরপর আসবে স্নো-ওয়াইট জাতের ফুলকপি। যা মৌসুমের শুরু, মাঝামাঝি ও শেষ সময়ে বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যাবে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে খরচ বাদে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।ফুলকপি বিক্রি করে আবার অন্য ফসল লাগানো হবে বলে জানান তিনি।

ফুল কপি চাষে লাভবান হওয়ার কথা জানিয়েছেন একই এলাকার কৃষক সুবল দে, ঝুন্টু দে, করলডেঙ্গা কৃষক আব্দুল হালিম, মো জামাল উদ্দিন, জৈষ্টপুরা গ্রামের কৃষক মো ইছাকসহ অনকেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো শাহানুর ইসলাম বলেন বোয়ালখালীতে এবার শীতকালীন ২৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড মন্টিন ( জাপানি), স্নো বক্স, স্নো ওয়াইড, ওয়াইড কুইন জাতের ফুলকপি চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ অঞ্চলের মানুষ আধুনিক সবজি চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। এছাড়া কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারে ও কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে পরামর্শ প্রদানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে রয়েছেন। চাষিরা শীতকালীন ফুলকপি চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। তারা ফুলকপি চাষ করে দাম ও ফলন দুটোই ভালো পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

লতিকচু চাষে আলোর মুখ দেখছেন ভেড়ামারার শিরিনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করে সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজীহাটা ব্লকের স্বরুপের ঘোপ গ্রামের গৃহিণী মোছাঃ শিরিনা খাতুন (৫২)। এক সময় যে লতিকচুর আবাদ এ অঞ্চলে খুব একটা দেখা যেত না, সেই লতিকচুই এখন তার জন্য সম্ভাবনাময় আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। মাত্র ২০ শতক জমিতে বারি-পানিকচু-১ জাতের চাষ করে তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিরিনার পতিত জমিতে সবুজ কচুগাছে ভরপুর লতি। তিনি নিজেই জমি থেকে লতি সংগ্রহ করছেন। শিরিনা খাতুন জানান, ভেড়ামারা কৃষি অফিসের পরামর্শে এবছরের মে মাসে তিনি কচুর চারা সংগ্রহ করে ২০ শতক জমিতে রোপণ করেন। রোপণের ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই তিনি লতি বিক্রি শুরু করেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ১ থেকে ২ মণ লতি বাজারে সরবরাহ করছি। পুরো মৌসুমে লতি বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। মৌসুম শেষে কচুর কন্দ বিক্রি করেও বাড়তি আয় করা যায়।” লাভজনক হওয়ায় আগামীতে আরও বেশি জমিতে এ চাষ করবেন বলেও জানান তিনি।

ভেড়ামারা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. সদরুল ইসলাম বলেন, বর্ষায় পানিতে ডুবে যাওয়া নিচু জমিতে কৃষকের আগ্রহ ছিল সীমিত। তবে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার সেই জমিগুলোতে এখন সার্থকভাবে চাষ হচ্ছে লতিকচু। শিরিনা খাতুন তার জলন্ত উদাহরণ। স্যাঁতসেঁতে জমিতে কচুর সফল আবাদ শিরিনা খাতুনের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা. মাহমুদা সুলতানা পলি বলেন, যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় লতিকচু চাষে উদ্যোগ নেওয়া হয়। উন্নত জাতের বারি-পানি কচু-১, বারি-পানি কচু-২ এবং স্থানীয় জাতের কচুর চারা, সার ও জৈবসার সরবরাহ করা হয় শিরিনা খাতুনকে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবসের মাধ্যমে শিরিনা খাতুনের পতিত জমিতে এই লতি কচু চাষে উদ্ধুদ্ধ করা হয়। লতিকচু চাষ এখন শুধু নিজস্ব ভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক কৃষির একটি স্থায়ী মডেলে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাত থেকে শিরিনা খাতুন নিয়মিত আয় করতে পারছেন, যা অর্থনৈতিকভাবে তাকে স্বাবলম্বী করে তুলছে।

কুষ্টিয়ায় বস্তায় আদা চাষে সোহাগের নীরব বিপ্লব: বীজ ছড়িয়েছে ১০ উপজেলায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গত মৌসুমে ৭ হাজার বস্তায় আদা চাষ করে তাক লাগানো কুষ্টিয়া মিরপুরের সফল কৃষি উদ্যোক্তা মোঃ আব্দুর রহমান সোহাগ এবার গড়ে তুলেছেন ১৫ হাজার বস্তার বিশাল আদা খামার। পিতা মোঃ আফতাব উদ্দিনের সন্তান সোহাগের এই নীরব কৃষি বিপ্লব শুধু নিজের খামারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ২০২৫-২৬ মৌসুমে তাঁর উৎপাদিত উন্নত জাতের বীজ আদা ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বাইরে অন্তত ১০টি উপজেলায়। পাশাপাশি নিজ গ্রাম নওদা খাঁড়ারার বহু আগ্রহী কৃষকও তাঁর বীজ ব্যবহার করে চলতি মৌসুমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেতে শুরু করেছেন।

সরেজমিনে নওদাখাঁড়ারা ব্লকে সোহাগের খামারে গিয়ে দেখা যায় এক মনোরম দৃশ্য। সুবিন্যস্তভাবে সাজানো ১৫ হাজার বস্তায় লকলকিয়ে বাড়ছে আদা গাছ। খামারের প্রতিটি গাছের উচ্চতা গড়ে প্রায় আড়াই ফুটে পৌঁছেছে। কোনো ধরনের রোগবালাইয়ের লক্ষণ নেই, গাছে গাছে ফুটে উঠেছে সতেজ ও স্বাস্থ্যকর আবহ।

গত মৌসুমে ‘যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প’–এর আওতায় বস্তায় আদা চাষ করে উপজেলা পর্যায়ে সেরা যুব উদ্যোক্তার স্বীকৃতি পান সোহাগ। সেই অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তীতে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এবার তিনি নেমেছেন আরও বড় পরিসরে। আদা চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চফলনশীল ব্যবস্থাপনা সরাসরি দেখতে তিনি সম্প্রতি সফর করেছেন থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া। সেই আন্তর্জাতিক বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং পরীক্ষামূলকভাবে লাগানো বৈচিত্র্যময় জাতের আদা খামারে প্রয়োগ করায় এবারের গাছগুলোর বৃদ্ধি বিগত বছরের চেয়েও অনেক বেশি দৃষ্টিনন্দন।

উদ্যোক্তা মোঃ আব্দুর রহমান সোহাগ জানান, “গত বছরের ভুলত্রুটি ও অভিজ্ঞতা থেকে এবার মাটির মিশ্রণ ও পরিচর্যায় বিশেষ পরিবর্তন এনেছি। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে যে প্রযুক্তি ও আধুনিক কলাকৌশল দেখে এসেছি, তা এই খামারে শতভাগ বাস্তবায়ন করছি। গাছের বর্তমান স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি দেখে আমি শতভাগ আশাবাদী—গতবারের চেয়ে এবার প্রতি বস্তায় ফলন ও গুণগত মান দুটোই বহুগুণ বাড়বে।”

সোহাগের খামার দেখে ও তাঁর কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে উপকৃত স্থানীয় কৃষকরা জানান, অনাবাদী বা ছায়াযুক্ত জমিতে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষের যে পথ সোহাগ দেখিয়েছেন, তা পুরো অঞ্চলের বেকার যুবক ও কৃষকদের মাঝে নতুন আয়ের পথ খুলে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি আর বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সোহাগের এই ১৫ হাজার বস্তার প্রকল্প দেশের মসলা ফসলের ঘাটতি পূরণে একটি শক্তিশালী ও অনুকরণীয় মডেল হতে চলেছে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ