আজঃ বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে শীতের তীব্রতায় গরম কাপড়ের জমজমাট বেচাকেনা।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রামে শীত বেড়ে গেছে। এতে গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। ফুটপাতে সেকেন্ড হ্যান্ড কাপড়ের বিক্রি দ্বিগুণ হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, শীত বাড়লে বিক্রি বাড়ে। ক্রেতারা কম দামে শীতের কাপড় কিনতে ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছেন। গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি হলেও বিক্রি চলছে জমজমাট। চট্টগ্রামে শীতের মৌসুমে গরম কাপড়ের ব্যবসা হয় প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা। শীতের মৌসুমে সাধারণত ব্যবসায়ীরা প্রথম দিকে ক্রেতাদের অভাব অনুভব করেন। কিন্তু গত দুই সপ্তাহে চট্টগ্রামে অভিজাত মার্কেট থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান গুলোতে শীতের কাপড়ের বিক্রি জমে উঠেছে। আগের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণ। ক্রেতারা শীতের কাপড় কিনতে নিউমার্কেট, জহুর হকার্স মার্কেট, রিয়াজুদ্দিন বাজার, টেরি বাজার, মতি টাওয়ার, মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স, সানমার ওসিয়ান সিটি, ফিনলে স্কয়ার, আখতারুজ্জামান সেন্টারসহ নানা স্থানে ভিড় জমাচ্ছেন।

এ ছাড়া নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ ভ্রাম্যমাণ হকারদের কাছ থেকে শীতের কাপড় কিনছেন। ফুটপাতের হকারদের বিক্রি আগের থেকে অনেক বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে তাদের দৈনিক বিক্রি ছিল ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। কিন্তু এখন তা বেড়ে ৫/৭ হাজার টাকারও বেশি হচ্ছে।

ফুটপাতে শীতের কাপড় বিক্রেতাদেরও বিক্রি বেড়েছে। আগে তারা ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা বিক্রি করতেন। এখন তারা দৈনিক ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকারও বেশি বিক্রি করছেন। এখানে সেকেন্ড হ্যান্ড শীতের কাপড় কম দামে পাওয়া যায়। তাই ক্রেতাদের ভিড় বেশি।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসংলগ্ন ফুটপাতে সেকেন্ড হ্যান্ড কম্বল ও শীতের কাপড় বিক্রি করা ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বলেন, ‘শীত বাড়ায় তাদের বিক্রি দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তিন দিন সূর্যের দেখা না মিললেও শীতের কাপড়ের বিক্রি বেড়ে গেছে।

ব্যবসায়ী আসিফ জানান, তারা পাইকারি দামে শীতের কাপড় ক্রয় করে খুচরা বিক্রি করেন। সেকেন্ড হ্যান্ড কাপড় হওয়ায় তাদের দাম কম রাখতে হয়। তাই ক্রেতারা এখানে ভিড় করেন। কয়েকজন ক্রেতা বলেন, তারা সেকেন্ড হ্যান্ড কাপড় কম দামে কিনতে আসেন। তবে এ বছর দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।

শীতের পোশাক কিনতে আসা জয়নাল বলেন, ‘কনকনে ঠান্ডা বাতাসের তীব্রতা বেড়েছে। তাই নিজের ও বাচ্চার জন্য শীতের কাপড় কিনতে এসেছি। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের কাপড়ের দামও কিছুটা বেড়েছে। ফুটপাত থেকে শীতের পোশাক কিনতে আসা দিনমজুর আলা উদ্দিন বলেন, ‘কম দামে কিছু কাপড় কিনেছি। ছেলেমেয়েরা এগুলো পেয়ে খুশি হবে।

চট্টগ্রামে শীতের মৌসুমে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার সেকেন্ড হ্যান্ড গরম কাপড়ের ব্যবসা হয়। সোয়েটার ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ছেলেদের জ্যাকেট ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, মেয়েদের সোয়েটার ও জ্যাকেট ২৫০ থেকে ৯০০ টাকায়, মাফলার ৫০ থেকে ২০০ টাকা, গরম টুপি ৫০ থেকে ২৫০ টাকা ও ছোটদের সোয়েটার ১৫০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শীত বাড়লে গরম কাপড়ের ব্যবসাও বেড়ে যায়।

ফুটপাতে ব্যবসায়ীরা জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিক্রি বাড়ছে। খেতমজুর থেকে অভিজাত শ্রেণির মানুষও ফুটপাতে গরম কাপড় কিনতে আসেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের বাংলাবাজারে রেলের বগিতে আগুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের মাঝিরঘাট বাংলাবাজার এলাকায় রেলের কয়েকটি বগিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের একজন কর্মকর্তা বলেন, বারিকবিল্ডিং এলাকার পাশে এসআরবি স্টেশনে রেলের পুরাতন বগিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নির্বাপণে কাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।

বোয়ালখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে মুরগির খামারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রনি চৌধুরী (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল সকালে বোয়ালখালী উপজেলার ১০ নং আহলা করলডেঙ্গা ইউনিয়নের ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের নন্দীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত রনি চৌধুরী নন্দীপাড়ার বাবুল মাস্টার বাড়ির মৃত বুলবুল চৌধুরীর ছেলে। রনি খামারে মুরগী পালনের পাশাপাশি এলাকায় প্রাইভেট টিউশনি করাতেন। প্রতিবেশী আজিম জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রনি খামারে বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলো। নাস্তা করার জন্য ডাকতে গিয়ে তার মা মাটিতে পড়ে থাকায় অবস্থায় তাকে দেখতে পান।

পরে রনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মুনতাহিনা বলেন, সকাল ১০টার দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া রনি চৌধুরী নামের এক যুবককে হাসপাতালে স্বজনরা নিয়ে আসলে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ