আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে শীতের তীব্রতায় গরম কাপড়ের জমজমাট বেচাকেনা।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রামে শীত বেড়ে গেছে। এতে গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। ফুটপাতে সেকেন্ড হ্যান্ড কাপড়ের বিক্রি দ্বিগুণ হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, শীত বাড়লে বিক্রি বাড়ে। ক্রেতারা কম দামে শীতের কাপড় কিনতে ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছেন। গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি হলেও বিক্রি চলছে জমজমাট। চট্টগ্রামে শীতের মৌসুমে গরম কাপড়ের ব্যবসা হয় প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা। শীতের মৌসুমে সাধারণত ব্যবসায়ীরা প্রথম দিকে ক্রেতাদের অভাব অনুভব করেন। কিন্তু গত দুই সপ্তাহে চট্টগ্রামে অভিজাত মার্কেট থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান গুলোতে শীতের কাপড়ের বিক্রি জমে উঠেছে। আগের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণ। ক্রেতারা শীতের কাপড় কিনতে নিউমার্কেট, জহুর হকার্স মার্কেট, রিয়াজুদ্দিন বাজার, টেরি বাজার, মতি টাওয়ার, মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স, সানমার ওসিয়ান সিটি, ফিনলে স্কয়ার, আখতারুজ্জামান সেন্টারসহ নানা স্থানে ভিড় জমাচ্ছেন।

এ ছাড়া নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ ভ্রাম্যমাণ হকারদের কাছ থেকে শীতের কাপড় কিনছেন। ফুটপাতের হকারদের বিক্রি আগের থেকে অনেক বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে তাদের দৈনিক বিক্রি ছিল ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। কিন্তু এখন তা বেড়ে ৫/৭ হাজার টাকারও বেশি হচ্ছে।

ফুটপাতে শীতের কাপড় বিক্রেতাদেরও বিক্রি বেড়েছে। আগে তারা ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা বিক্রি করতেন। এখন তারা দৈনিক ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকারও বেশি বিক্রি করছেন। এখানে সেকেন্ড হ্যান্ড শীতের কাপড় কম দামে পাওয়া যায়। তাই ক্রেতাদের ভিড় বেশি।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসংলগ্ন ফুটপাতে সেকেন্ড হ্যান্ড কম্বল ও শীতের কাপড় বিক্রি করা ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বলেন, ‘শীত বাড়ায় তাদের বিক্রি দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তিন দিন সূর্যের দেখা না মিললেও শীতের কাপড়ের বিক্রি বেড়ে গেছে।

ব্যবসায়ী আসিফ জানান, তারা পাইকারি দামে শীতের কাপড় ক্রয় করে খুচরা বিক্রি করেন। সেকেন্ড হ্যান্ড কাপড় হওয়ায় তাদের দাম কম রাখতে হয়। তাই ক্রেতারা এখানে ভিড় করেন। কয়েকজন ক্রেতা বলেন, তারা সেকেন্ড হ্যান্ড কাপড় কম দামে কিনতে আসেন। তবে এ বছর দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।

শীতের পোশাক কিনতে আসা জয়নাল বলেন, ‘কনকনে ঠান্ডা বাতাসের তীব্রতা বেড়েছে। তাই নিজের ও বাচ্চার জন্য শীতের কাপড় কিনতে এসেছি। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের কাপড়ের দামও কিছুটা বেড়েছে। ফুটপাত থেকে শীতের পোশাক কিনতে আসা দিনমজুর আলা উদ্দিন বলেন, ‘কম দামে কিছু কাপড় কিনেছি। ছেলেমেয়েরা এগুলো পেয়ে খুশি হবে।

চট্টগ্রামে শীতের মৌসুমে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার সেকেন্ড হ্যান্ড গরম কাপড়ের ব্যবসা হয়। সোয়েটার ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ছেলেদের জ্যাকেট ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, মেয়েদের সোয়েটার ও জ্যাকেট ২৫০ থেকে ৯০০ টাকায়, মাফলার ৫০ থেকে ২০০ টাকা, গরম টুপি ৫০ থেকে ২৫০ টাকা ও ছোটদের সোয়েটার ১৫০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শীত বাড়লে গরম কাপড়ের ব্যবসাও বেড়ে যায়।

ফুটপাতে ব্যবসায়ীরা জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিক্রি বাড়ছে। খেতমজুর থেকে অভিজাত শ্রেণির মানুষও ফুটপাতে গরম কাপড় কিনতে আসেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভাঙ্গুড়ায় ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আওতায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার ১৩ জুন ২০২৬ ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা পৌর প্রশাসক, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আজম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বৃক্ষরোপণ শেষে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেশি বেশি করে গাছ লাগানোর কোন বিকল্প নেই। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাই কে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ উদ্যোগ ভাঙ্গুড়ার পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

বোয়ালখালীতে ট্রেনে কাটা পড়া অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পূর্ব কালুরঘাট ১২ নম্বর ব্রিজ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তার পরনে লুঙ্গি ও নীল রঙের গেঞ্জি ছিল। বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ অলক চাকমা বলেন, “ট্রেনে কাটা পড়ে লোকটির দেহ কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর হবে। ঘটনাটি রেলওয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গোমদণ্ডী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কাঞ্চন ভট্টাচার্য বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন কালুরঘাট সেতু পার হয়ে আসার পথে এক ব্যক্তি কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন। ট্রেনটি বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিটে গোমদণ্ডী স্টেশন ত্যাগ করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ