আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে শীতের তীব্রতায় গরম কাপড়ের জমজমাট বেচাকেনা।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রামে শীত বেড়ে গেছে। এতে গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। ফুটপাতে সেকেন্ড হ্যান্ড কাপড়ের বিক্রি দ্বিগুণ হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, শীত বাড়লে বিক্রি বাড়ে। ক্রেতারা কম দামে শীতের কাপড় কিনতে ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছেন। গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি হলেও বিক্রি চলছে জমজমাট। চট্টগ্রামে শীতের মৌসুমে গরম কাপড়ের ব্যবসা হয় প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা। শীতের মৌসুমে সাধারণত ব্যবসায়ীরা প্রথম দিকে ক্রেতাদের অভাব অনুভব করেন। কিন্তু গত দুই সপ্তাহে চট্টগ্রামে অভিজাত মার্কেট থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান গুলোতে শীতের কাপড়ের বিক্রি জমে উঠেছে। আগের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণ। ক্রেতারা শীতের কাপড় কিনতে নিউমার্কেট, জহুর হকার্স মার্কেট, রিয়াজুদ্দিন বাজার, টেরি বাজার, মতি টাওয়ার, মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স, সানমার ওসিয়ান সিটি, ফিনলে স্কয়ার, আখতারুজ্জামান সেন্টারসহ নানা স্থানে ভিড় জমাচ্ছেন।

এ ছাড়া নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ ভ্রাম্যমাণ হকারদের কাছ থেকে শীতের কাপড় কিনছেন। ফুটপাতের হকারদের বিক্রি আগের থেকে অনেক বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে তাদের দৈনিক বিক্রি ছিল ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। কিন্তু এখন তা বেড়ে ৫/৭ হাজার টাকারও বেশি হচ্ছে।

ফুটপাতে শীতের কাপড় বিক্রেতাদেরও বিক্রি বেড়েছে। আগে তারা ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা বিক্রি করতেন। এখন তারা দৈনিক ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকারও বেশি বিক্রি করছেন। এখানে সেকেন্ড হ্যান্ড শীতের কাপড় কম দামে পাওয়া যায়। তাই ক্রেতাদের ভিড় বেশি।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসংলগ্ন ফুটপাতে সেকেন্ড হ্যান্ড কম্বল ও শীতের কাপড় বিক্রি করা ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বলেন, ‘শীত বাড়ায় তাদের বিক্রি দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তিন দিন সূর্যের দেখা না মিললেও শীতের কাপড়ের বিক্রি বেড়ে গেছে।

ব্যবসায়ী আসিফ জানান, তারা পাইকারি দামে শীতের কাপড় ক্রয় করে খুচরা বিক্রি করেন। সেকেন্ড হ্যান্ড কাপড় হওয়ায় তাদের দাম কম রাখতে হয়। তাই ক্রেতারা এখানে ভিড় করেন। কয়েকজন ক্রেতা বলেন, তারা সেকেন্ড হ্যান্ড কাপড় কম দামে কিনতে আসেন। তবে এ বছর দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।

শীতের পোশাক কিনতে আসা জয়নাল বলেন, ‘কনকনে ঠান্ডা বাতাসের তীব্রতা বেড়েছে। তাই নিজের ও বাচ্চার জন্য শীতের কাপড় কিনতে এসেছি। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের কাপড়ের দামও কিছুটা বেড়েছে। ফুটপাত থেকে শীতের পোশাক কিনতে আসা দিনমজুর আলা উদ্দিন বলেন, ‘কম দামে কিছু কাপড় কিনেছি। ছেলেমেয়েরা এগুলো পেয়ে খুশি হবে।

চট্টগ্রামে শীতের মৌসুমে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার সেকেন্ড হ্যান্ড গরম কাপড়ের ব্যবসা হয়। সোয়েটার ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ছেলেদের জ্যাকেট ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, মেয়েদের সোয়েটার ও জ্যাকেট ২৫০ থেকে ৯০০ টাকায়, মাফলার ৫০ থেকে ২০০ টাকা, গরম টুপি ৫০ থেকে ২৫০ টাকা ও ছোটদের সোয়েটার ১৫০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শীত বাড়লে গরম কাপড়ের ব্যবসাও বেড়ে যায়।

ফুটপাতে ব্যবসায়ীরা জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিক্রি বাড়ছে। খেতমজুর থেকে অভিজাত শ্রেণির মানুষও ফুটপাতে গরম কাপড় কিনতে আসেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পথশিশুদের আইন দিয়ে নয় আদর দিয়ে মূলধারায় ফিরিয়ে আনুন – আমীরুল ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পথশিশুদের প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের ডিসি আমীরুল ইসলাম। তিনি বলেন, পথশিশুরা আমাদেরই সন্তান। অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে উঠলেও এদের মধ্যেও রয়েছে অসীম মেধা ও সম্ভাবনা। সঠিক পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনা পেলে তারাও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে “আমরা চাটগাঁবাসী” সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত পথশিশু ও কিশোরদের জন্য ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং ভালোবাসা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে পথশিশুদের কাছে টানতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে পারলে সমাজে অপরাধ প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবিএম ইমরানের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি গোলাম মওলা মুরাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমী, পাঁচলাইশ থানার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম এবং প্রোগ্রামের স্পন্সর ওয়াহিদ ইলেক্ট্রিশিয়ান্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বাতেন।

আমরা চাটগাঁবাসীর যুগ্ম সম্পাদক জানে আলম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাঁচলাইশ থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল আবসার, স্বর্ণলতা স্কুলের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রবিউল হোসেন, আরটিআর তারেক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠক তাহসান হাবিব, অধরা মেঘ কলি ও মোঃ আলীসহ অনেকে।অনুষ্ঠানে পথশিশুদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয় এবং তাদের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।অনুষ্ঠান শেষে ডিসি মহোদয় বাছাইকৃত শিশু-কিশোরদের নিজ কার্যালয়ে তুলে এনে ঈদের জামা উপহার দেন।

বাবার বন্ধুদের কাছে পেয়ে সম্মান জানাতে ভুললেন না প্রতিমন্ত্রী পুতুল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারি সফরে পাবনা এসে বাবার বাল্যবন্ধুদের সান্নিধ্যে আবেগতাড়িত হলেন প্রয়াত সমাজকল্যান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে বর্তমান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।

সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসে বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রবি, প্রফেসর শিবজিত নাগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম ও অধ্যক্ষ মাহাতাব বিশ্বাসকে দেখে ছুটে কাছে যান এবং পরম শ্রদ্ধায় দোয়া চান প্রতিমন্ত্রী পুতুল। এ সময় মাথায় হাত দিয়ে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন বাবার বন্ধুরা। এরপর পাবনার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।

পাবনা প্রেসক্লাব সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রয়াত প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের কৈশোর তারুণ্য কেটেছে পাবনায়। তিনি পাবনার সাবেক এমপি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এডভোকেট আমিনউদ্দিনের ভাতুষ্পুত্র। শহীদ আমিনউদ্দিনের মধ্য শহরের পুষ্পালয় নামক বাড়িতেই ফজলুর রহমান পটল থাকতেন ও ছাত্র রাজনীতি, মুুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। সে সময়ের তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কয়েকজন জীবিত আছেন। পাবনা প্রেসক্লাব প্রতিমন্ত্রী পুতুলের অনুরোধে তার পিতার বন্ধুদের প্রেসক্লাবে আমন্ত্রন জানান। পিতার বন্ধুদের কাছে পেয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বিনয় ও সম্মান দেখিয়েছেন তা সত্যিই অনুকরণীয়।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক জীবনের কর্মক্ষেত্রে যেখানেই যাই, শুনতে পাই- ও আচ্ছা তুমি পটলের মেয়ে, পটল ভাইয়ের মেয়ে? আমার এগিয়ে যাবার প্রধান নিয়ামক আমার বাবা। আমার বাবা যাদের হাতে হাত মিলিয়ে আড্ডা দিয়েছেন, সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করেছেন। আজ তাদের হাতের স্নেহের পরশ পেয়েছি। সন্তান হিসেবে এটি আমার জন্য ভীষণ সৌভাগ্যের।

পাবনা প্রেসক্লাবের ঐহিত্য ও প্রয়াত সংবাদকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী পুতুল বলেন, বিগত সময়ে আপনারা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে আপনাদের সহযোগিতা ভীষণ প্রয়োজন। আপনারা আমাদের পথ দেখান, ভুলগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করবেন বলে আশা রাখি।

পাবনার প্রতি স্মৃতিচারণ করে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, পাবনা ও নাটোর লালপুরের মাটির গন্ধ একই। কারণ এই পাবনায় আমার শেকড় পোতা। সুতরাং নাটোর লালপুরের মত উন্নয়নের ছোঁয়া পাবনাতেও লাগবে। পাইলটিং পদ্ধতিতে দ্বিতীয় ধাপে পাবনার হতদরিদ্র মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। অন্যান্য সকল উন্নয়নে তিনি পাবনাবাসীর সাথে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাহিত্য সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা ২ আসনের এমপি একেএম সেলিম রেজা হাবিব, প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান,প্রেসক্লাব সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক উৎপল মির্জা প্রমুখ।

 

 

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ