তারুণ্যনির্ভর সংগঠন “তাজকিয়া”র দেড়যুগপূর্তি উৎসব ও বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত।

বলাই আচায্য বলাই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1. একটি মহান উদ্দেশ্য ও কিছু পবিত্র আকাঙ্কা, কিছু স্বপ্নবাজ তরুণ যুবকের ঐশীপ্রেমের দীপ্তশিখায় আলোকিত হতে চাওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আত্মশুদ্ধির চেতনায় উদ্দীপ্ত তারুণ্যনির্ভর সংগঠন ‘তাজকিয়া’ সাফল্যের সাথে ১৭ বছর পেরিয়ে ১৮ বছরে পদার্পণ করেছে। তাজকিয়ার ১৭তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সভাপতি ডাঃ কৌশিক সায়মন শুভ-এর সভাপতিত্বে নগরীর হামজারবাগস্থ, মাদরাসা-ই-শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) মিলনায়তনে নানা আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে উক্ত দিনটি উদযাপন করা হয়।
  2. সঞ্চালক ইরফান হাসান-এর সঞ্চালনায়, শুরুতেই উদ্ভোধন ঘোষণা করেন তাজকিয়া’র সহ-সভাপতি আবু সালেহ সুমন। সম্মিলিত জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজন পরবর্তীতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, পবিত্র নাতে রাসূল (স.) পরিবেশনা করেন মোহাম্মদ তাসিন ফাহাদ, মাইজভাণ্ডারী কালাম পরিবেশনা করেন রুহুল কাদের, নাতে রাসুল পরিবেশনা করেন আহনাফ চোধুরী ও হুজুর গাউসে পাকের শানে পরিবেশনা করেন মোবাররম হায়দার রাকিব।
  3. উক্ত বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন তাজকিয়ার ১৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আহবায়ক সৈয়দ সাদ ইবনে আলম। তাজকিয়া নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সাদাত মোঃ সায়েম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ও সাবেক সভাপতি আরেফিন রিয়াদ। উক্ত বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের তাজকিয়াকে নানা দিক নির্দেশনা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট এর সম্মানিত সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এম. ডি. জাফর। পাশাপাশি শুভাকাঙ্খী হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাউজান সরকারি কলেজের প্রভাষক মাহফুজ আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে অনুভূতিমূলক বক্তব্য রাখেন মাইনুদ্দীন হাসান। পাবলিক স্পিকিং সেশনে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সুন্দর ও গোছালো বক্তব্য উপস্থাপনা করেন সেলিম সিদ্দিক, সাইফুল ইসলাম সাকিব, সাজ্জাদ হোসেন সাবিত। এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাজকিয়ার প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী সৈয়দ আবু নাসের নুর অন্তু, উপদেষ্টা এইচ আর মেহেবুব জিকো, উপদেষ্টা এইচ এম রাশেদ খান, উপদেষ্টা ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মীর মোঃ তরিকুল ইসলাম, আসিফ আমান শাফায়েত, জয়নাল আবেদীন জয়, ইমাম উদ্দীন, লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য বলাই, গাউসিয়া হক কমিটি কেন্দ্রীয় পর্ষদ এর সদস্যবৃন্দ ও মহানগর-এর সমন্বয়কবৃন্দ, প্রমুখ । এছাড়া কেক কাটার মাধ্যমে ১৮ বছরের বর্ষপূর্তি উৎসবের মাহেন্দ্রক্ষণ মুহুর্তটি উদযাপন করা হয়। উক্ত বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বক্তারা তাজকিয়া’র চারটি মিশনকে ধারণ করে, ভিশন “প্রতিটি যুবপ্রাণে ঐশী প্রেমের জাগরণ” এর লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ১ম পর্বে তাজকিয়া সভাপতি ডাঃ কৌশিক সায়মন শুভ উক্ত বর্ষপূর্তি উৎসবে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ১ম পর্ব ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এরই সাথে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সকলের নিঃসার্থ অবদান ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান রেখে বিদায়ী পরিষদের সকলকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। ২য় পর্ব তথা বার্ষিক সাধারণ সভায় উপদেষ্টাগণের বক্তব্য প্রদান পরবর্তীতে সদ্য বিদায়ী পরিষদের সভাপতি ডা. কৌশিক সায়মন শুভ ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন এর উপস্থাপনায় নতুন কেন্দ্রীয় পর্ষদ ঘোষিত হয়।

  1. নতুন কেন্দ্রীয় পর্ষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোঃ রমিজ আলী ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নুরে আহমেদ জিয়াউল হাসান। ২য় পর্বের সভাপতি তাজকিয়া এর প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী সৈয়দ আবু নাসের নুর অন্তু মহোদয় বিদায়ী পরিষদের প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে নতুন পরিষদের সকলের কাছে নতুন প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তার বক্তব্যে তাজকিয়া এর অ্যালামনাই এসোসিয়েশন প্রস্তুতি কমিটিও ঘোষিত হয়। পরিশেষে মোঃ রফিক এর সঞ্চালনায় মিলাদ-কিয়াম ও মোনাজাত পরিচালনা পরবর্তী মাইজভাণ্ডারী গানের আসরে অংশগ্রহণ করেন আহমদ কামার উদ্দীন, মিজানুর রহমান ও হাসিবুল হক তুষার।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ হিন্দু সম্মিলন সংঘের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে উভয় পক্ষের লোকজন উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিরোধ মেটাতে ও পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্মানিত শিক্ষক বাবু মনোরঞ্জন রায় (৫৫)- কে প্রতিপক্ষের লোকজন এলোপাথাড়ি পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

সু-মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতায় বিশ্বাসী সংগঠন ‘বাংলাদেশ হিন্দু সম্মিলন সংঘ, এর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির আপোষহীন সংগ্ৰামী সাধারণ সম্পাদক ডা. মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায় (ডা. এম কে রায়) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা, ঘৃণা ও কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
একজন নিরীহ শিক্ষক, যিনি সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সালিশে মধ্যস্থতা করতে গিয়েছিলেন, তাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, এটি সভ্য সমাজ, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনার উপর সরাসরি আঘাত।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তিন দফা দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন -১. অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল খুনিদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।
২. নিহত শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়ের শোকসন্তপ্ত পরিবারের নিরাপত্তা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৩. পার্বতীপুর সহ সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভূমি দখল ও নির্যাতন বন্ধে এবং জানমালের নিরাপত্তা বিধানে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

একই সাথে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ছিলেন ন্যায়বিচারের প্রতীক : চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ছিলেন শিক্ষা, মানবতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। তিনি নারী শিক্ষা, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর জীবন ও আদর্শ আজও আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক বাঙালি গড়ার কারিগর, অহিংস মতবাদের ধারক ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার মনীষী।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রপথিক ও খ্যাতিমান মনিষী মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর ৭৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানার উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অবিভক্ত বাংলা ও ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রাম, শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজ সংস্কারে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও প্রখ্যাত সাংবাদিক মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর অবদান চিরস্মরণীয়।

এতিমখানা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও এস এম সালাউদ্দীনের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, চবি অধ্যাপক জিনবোধি ভিক্ষু, শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. শামসুদ্দিন শিশির, চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। বক্তব্য রাখেন কদম মোবারক মুসলিম এতিম খানার সিনিয়র সহ সভাপতি এস এম মোর্শেদ হোসেন, সহ সভাপতি হাফেজ আমান উল্লাহ, মুজিবুল হক সিদ্দিকী, সাধারণ সমম্পাদক প্রফেসর ডা. পারভেজ ইকবাল শরীফ, সহ সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম, অর্থ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জাবেদ আবছার চৌধুরী, শিক্ষা সম্পাদক ড. মো. সানা উল্লাহ প্রমুখ।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ