এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহতও হয়েছে। নিহত র্যাব কর্মকর্তা ডিএডি মো. মোতালেব বিজিবি সদস্য।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযানৌমো. সিরাজুল ইসলাম বলেন- র্যাব সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযানে যান। এসময় সন্ত্রাসছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এই দখলদারিত্ব ও প্লট বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে গড়ে উঠেছে সশস্ত্র বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতিপূর্বে একাধিকবার সেখানে অভিযান পরিচালনার সময় সশস্ত্র হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। আলীনগর বহুমুখী সমিতির চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া এবং মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদের কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক ঐ এলাকার সনৃত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করেন।
প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়- এই দুই সংগঠনের সদস্য প্রায় ৩০ হাজার। দখল করা পাহাড়ি জমিতে বসতি স্থাপন, প্লট বাণিজ্য এবং অবৈধ স্থাপনা রক্ষায় সক্রিয় রয়েছে। তারা এতটাই শক্তিশালী যে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বারবার ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও তাদের প্রতিরোধ ও সহিংসতার কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি
চট্টগ্রামে মেয়রকে পদত্যাগে সময়সীমা বেঁধে দিল এনসিপি
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পদত্যাগে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে জানাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগ তুলে এ দাবি জানান হয়। আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে পদত্যাগ না করলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নেতারা। একই সঙ্গে ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারী’কে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজ সোমবার বিকেলে নগরের ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পড়েন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে মহানগরের আরেক যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, আমরা তাকে সম্মান করি। তিনি আদালতের রায়ে মেয়র হয়েছেন। আমরা চাই, তিনি জনগণের রায়ে মেয়র হোন। ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচন হয়েছিল, সেই হিসেবে ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি এর মেয়াদ শেষ হবে। আমরা দাবি করছি, এই সময়ের মধ্যেই তাকে পদত্যাগ করতে হবে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেয়র পদে থেকে ডা. শাহাদাত বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশের সমন্বয় করছেন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনে আবু সুফিয়ানের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী তিনি এটা করতে পারেন না। উদাহরণ হিসেবে তিনি ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

লিখিত বক্তব্যে এরফানুল হক বলেন, মেয়র পদে বহাল থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালালে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে না। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তার অবিলম্বে পদত্যাগ করা প্রয়োজন।
এদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপি নেতারা বলেন, গত ১৭ জানুয়ারি ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারীর’ তালিকা দিয়ে এলাকা ত্যাগের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা রহস্যজনক। তালিকায় জুলাই আন্দোলনের হত্যাকারী, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং আইনজীবী হত্যা মামলার আসামিদের নাম থাকলেও তাদের গ্রেপ্তার না করে শুধু এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এনসিপির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়, ‘পুলিশ যদি জানেই এরা সন্ত্রাসী, তবে তাদের গ্রেপ্তার না করে কেন সতর্ক করা হচ্ছে? তারা চট্টগ্রামে থাকতে পারবে না মানে কি অন্য জেলায় থাকতে পারবে? এই দায়সারা বিজ্ঞপ্তি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।’ অবিলম্বে এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেতা জোবাইর হোছাইন, নিজাম উদ্দিন ও জসিম উদ্দিন।










