আজঃ রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বোয়ালখালীতে এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।

এম মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী ডা. আবু নাসেরের সমর্থনে আয়োজিত একটি মিছিল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বয়কটের স্লোগান প্রদানের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বোয়ালখালী উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

এ উপলক্ষে আজ ২৫ জানুয়ারি (রবিবার) বিকালে বোয়ালখালীতে এনসিপির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণ-অভ্যুত্থান থেকে উদ্ভূত শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টি বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ নামে গঠিত দশ দলীয় জোটে অংশগ্রহণ করেছে। বিষয়টি দেশবাসীর কাছে সুস্পষ্ট ও অবগত।

জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সারা দেশে ৩০টি আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে দুঃখজনকভাবে কয়েকটি আসনে জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিভ্রান্তিকর তৎপরতা ও অসহযোগিতামূলক আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দশ দলীয় জোটের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রামে এনসিপিকে একটি মাত্র আসন চট্টগ্রাম-৮ এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী এনসিপির পক্ষ থেকে জোবাইরুল হাসান আরিফ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করেন। একইসঙ্গে জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোর প্রার্থীরাও মনোনয়নপত্র জমা দেন।

তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টির প্রার্থীরা জোট মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও, দশ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী ডা. আবু নাসের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করে একটি বিভ্রান্তিকর ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামি চট্টগ্রাম মহানগরের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. আবু নাসেরের সরে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধনে বোয়ালখালী এলাকায় জোট মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের বিরুদ্ধে মিছিল আয়োজন করা হয় এবং সেখান থেকে “এনসিপি বয়কট” স্লোগান দেওয়া হয়।

এনসিপি নেতারা বলেন, এ ধরনের স্লোগান ও কর্মকাণ্ড দশ দলীয় জোটের ঐক্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং রাজনৈতিকভাবে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অনভিপ্রেত। বোয়ালখালী উপজেলা এনসিপি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দশ দলীয় জোটের ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মসূচি বা বিভাজনমূলক স্লোগান এনসিপি কখনোই মেনে নেবে না। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জুলাইয়ের ঐক্যবদ্ধ শক্তি, দশ দলীয় জোট এবং পরোক্ষভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমিরের সিদ্ধান্তকেও অবজ্ঞা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ প্রেক্ষাপটে বোয়ালখালী উপজেলা এনসিপি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নিকট সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে—চট্টগ্রাম-৮ আসনটি আদৌ জাতীয় নাগরিক পার্টিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যদি চট্টগ্রাম-৮ আসন এনসিপিকে বরাদ্দ দিয়ে থাকে, তবে দশ দলীয় জোটের সকল শরিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে জোট মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। অন্যথায় জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দ্বৈত আচরণ ও অসহযোগিতা চলতে থাকলে জোট গঠনের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

সবশেষে, দশ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলা হয়—জোটকে কার্যকর, শক্তিশালী ও টেকসই রাখতে হলে চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী সংক্রান্ত সংকট দ্রুত, স্পষ্ট ও চূড়ান্তভাবে সমাধান করতে হবে। একইসঙ্গে সকল শরিক দলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, জনমত নির্বিশেষে বোয়ালখালী তথা চট্টগ্রাম-৮ আসনে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’-এর প্রার্থীকে বিজয়ী করে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য।

সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ সেলিম যুগ্ম সমন্বয়কারী চট্টগ্রাম দক্ষিণ এনসিপি, প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠ করেন বোয়ালখালী এনসিপি প্রধান সমন্বয়কারী কাজী ইয়াছিন, আবরার হাবিব যুগ্ম সমন্বয়কারী বোয়ালখালী এনসিপি,ফয়সাল রায়হান , যুগ্ম সমন্বয়কারী বোয়ালখালী এনসিপি,সাঈদ বিন ইব্রাহিম যুবশক্তি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপি।সদস্য আকতার আশিকি, শাহনেওয়াজ মাহিন বোয়ালখালী এনসিপি সহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কর্ণফুলী টানেলে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও এক আনসার সদস্যের মৃত্যু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল সড়কে সংঘটিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত আনসার সদস্যদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল দুইজনে। শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনসার সদস্য সুলতান মিয়া মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাহিনীর উপপরিচালক মো. আশিকউজ্জামান।এর আগে একই দুর্ঘটনায় আনসার সদস্য মো. আব্দুল জব্বার ঘটনাস্থলেই ইন্তেকাল করেন।

মো. আশিকউজ্জামান জানান, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল সড়কের চৌরাস্তামোড় এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে মোট ২৩ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য আহত হন।আহতদের মধ্যে ১৫ জনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ছাড়পত্র দিয়েছে।

বর্তমানে চিকিৎসাধীন সদস্যদের একজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন, একজন (গাড়িচালক) হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি, তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের সিএমএইচে রেফার্ড করা হয়েছে। এছাড়া একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ চিকিৎসা-সহায়তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে জুতার কারখানায় আগুন, দগ্ধ ১

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরের মাদারবাড়ি এলাকায় একটি জুতার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন দগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স–এর আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের কন্ট্রোল রুম জানায়, বিকেল ৩টায় আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ইউনিট পাঠানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল ৫টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।অগ্নিকাণ্ডে একজন আহত হয়েছেন। তবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

আলোচিত খবর

নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে চীনের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ভারত-পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন সরকার।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ