আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

বোয়ালখালীতে এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।

এম মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী ডা. আবু নাসেরের সমর্থনে আয়োজিত একটি মিছিল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বয়কটের স্লোগান প্রদানের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বোয়ালখালী উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

এ উপলক্ষে আজ ২৫ জানুয়ারি (রবিবার) বিকালে বোয়ালখালীতে এনসিপির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণ-অভ্যুত্থান থেকে উদ্ভূত শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টি বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ নামে গঠিত দশ দলীয় জোটে অংশগ্রহণ করেছে। বিষয়টি দেশবাসীর কাছে সুস্পষ্ট ও অবগত।

জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সারা দেশে ৩০টি আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে দুঃখজনকভাবে কয়েকটি আসনে জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিভ্রান্তিকর তৎপরতা ও অসহযোগিতামূলক আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দশ দলীয় জোটের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রামে এনসিপিকে একটি মাত্র আসন চট্টগ্রাম-৮ এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী এনসিপির পক্ষ থেকে জোবাইরুল হাসান আরিফ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করেন। একইসঙ্গে জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোর প্রার্থীরাও মনোনয়নপত্র জমা দেন।

তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টির প্রার্থীরা জোট মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও, দশ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী ডা. আবু নাসের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করে একটি বিভ্রান্তিকর ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামি চট্টগ্রাম মহানগরের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. আবু নাসেরের সরে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধনে বোয়ালখালী এলাকায় জোট মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের বিরুদ্ধে মিছিল আয়োজন করা হয় এবং সেখান থেকে “এনসিপি বয়কট” স্লোগান দেওয়া হয়।

এনসিপি নেতারা বলেন, এ ধরনের স্লোগান ও কর্মকাণ্ড দশ দলীয় জোটের ঐক্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং রাজনৈতিকভাবে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অনভিপ্রেত। বোয়ালখালী উপজেলা এনসিপি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দশ দলীয় জোটের ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মসূচি বা বিভাজনমূলক স্লোগান এনসিপি কখনোই মেনে নেবে না। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জুলাইয়ের ঐক্যবদ্ধ শক্তি, দশ দলীয় জোট এবং পরোক্ষভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমিরের সিদ্ধান্তকেও অবজ্ঞা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ প্রেক্ষাপটে বোয়ালখালী উপজেলা এনসিপি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নিকট সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে—চট্টগ্রাম-৮ আসনটি আদৌ জাতীয় নাগরিক পার্টিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কি না।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যদি চট্টগ্রাম-৮ আসন এনসিপিকে বরাদ্দ দিয়ে থাকে, তবে দশ দলীয় জোটের সকল শরিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে জোট মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। অন্যথায় জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দ্বৈত আচরণ ও অসহযোগিতা চলতে থাকলে জোট গঠনের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

সবশেষে, দশ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলা হয়—জোটকে কার্যকর, শক্তিশালী ও টেকসই রাখতে হলে চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী সংক্রান্ত সংকট দ্রুত, স্পষ্ট ও চূড়ান্তভাবে সমাধান করতে হবে। একইসঙ্গে সকল শরিক দলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, জনমত নির্বিশেষে বোয়ালখালী তথা চট্টগ্রাম-৮ আসনে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’-এর প্রার্থীকে বিজয়ী করে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য।

সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ সেলিম যুগ্ম সমন্বয়কারী চট্টগ্রাম দক্ষিণ এনসিপি, প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠ করেন বোয়ালখালী এনসিপি প্রধান সমন্বয়কারী কাজী ইয়াছিন, আবরার হাবিব যুগ্ম সমন্বয়কারী বোয়ালখালী এনসিপি,ফয়সাল রায়হান , যুগ্ম সমন্বয়কারী বোয়ালখালী এনসিপি,সাঈদ বিন ইব্রাহিম যুবশক্তি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপি।সদস্য আকতার আশিকি, শাহনেওয়াজ মাহিন বোয়ালখালী এনসিপি সহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাটুরিয়াচালা–লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চলছিল। শনিবার রাতে মাটি পরিবহনের সময় একটি ড্রাম ট্রাক চলাচলের সময় মাসুম নামে ওই যুবক ট্রাকের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ