আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

নতুন প্রজন্মের হাত ধরে কাঙ্খিত সাফল্যের বন্দরে নোঙর করতে পারবো : মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে কাস্টমস দিবস উদযাপিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা অনেকদূর এগিয়ে এসেছি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেছেন, মোবাইলে স্ক্রলিং করছিলাম। দেখলাম একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী অভিযোগ করছেন, তোমরা বিনিয়োগ বিনিয়োগ করো, বিনিয়োগের জন্য রোড শো করো।

সোমবার রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা করেন। এ সময় তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন অনুকূল পরিবেশ পাবেন তখন তাঁরা আমাদের অ্যাম্বাসাডর হবেন বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা অনেকদূর এগিয়ে এসেছি। আমরা এগোচ্ছি, এটাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমার মনে হয় যে গতিতে এগোনোর কথা সেটা পারছি না। তাই সিরিয়াস হতে হবে। আমি আশাবাদী, নতুন প্রজন্ম আমাদের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ। আমি আশা করি, তাদের হাত ধরে আমাদের কাঙ্খিত সাফল্যের যে বন্দর তাতে নোঙর করতে পারবো। জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবো।

সহকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি পাবলিক ট্রাস্ট ও কনফিডেন্ট অর্জন করতে না পারে, আমরা যদি জনগণের আস্থা, বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধা অর্জন করতে না পারি তাহলে আমাদের অস্তিত্ব প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। তাই নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় অধিকতর দায়িত্বশীল, দেশপ্রেমিক হতে হবে।

পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গ খাপ খাইয়ে উন্নয়নের যাত্রা ত্বরান্বিত করতে হবে। মাইন্ডসেট পরিবর্তন করতে হবে। যারা সেবা দিচ্ছি, যারা নিচ্ছেন সবাই দেশের নাগরিক। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যদি আমরা কাজ করি, হৃদয়ে ধারণ করি হৃদয়ঙ্গম করি তাহলে আমরা উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় বাংলাদেশ কাস্টমস’ প্রতিপাদ্যে এবার কাস্টমস দিবস উদযাপিত হচ্ছে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. নেয়ামুল ইসলাম। প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশ কাস্টমসের কার্যক্রমের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাস্টমস বন্ড কমিশনার মো. মাহফুজুল হক ভূঞা বলেন, ২২ বছর কাস্টমস ও ভ্যাটে চাকরি করছি। শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারীদের কাছে সময় গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরে আমদানি পণ্য পড়ে থাকা মানে ডেমারেজ। ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ, আপনাদের স্টাফদের আইনি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন। তাহলে আর সময়ক্ষেপণ হবে না।

চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার শেখ আবু ফয়সাল মো. মুরাদ বলেন, আমি যে চেয়ারে বসেছি তার বিপরীতে যিনি বসেছেন তিনি আমার চেয়ারেও বসতে পারতেন। সেটি বিবেচনায় নিয়ে কাজ করলে সমস্যা থাকে না। মাইন্ডসেট চেঞ্জ করতে হবে।

কক্সবাজার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মো. ফজলুল হক বলেন, কাস্টমসের মূল কাজ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন। এনবিআর অটোমেশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এবার আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল হয়েছে। আমার অনুরোধ, সবাই সঠিক কাজটি করবো।

চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১ এর কমিশনার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কাস্টমস রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ করে। বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ। তাই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাস্টমসের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, সমৃদ্ধ করতে হবে।
চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবিদা সুলতানা বলেন, আশা করি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কাস্টমস সেবা আরও বিস্তৃত হবে। নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ওরিয়েন্টেশন আয়োজন করতে হবে। রপ্তানিতে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চাই আমরা।

স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন বলেন, কাস্টমস বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন আর্থসামাজিক প্রতিষ্ঠান। এটি বর্ডার ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান। মানি লন্ডারিং বন্ধে কাস্টমসের ভূমিকা দৃঢ় হচ্ছে। ই অকশন কার্যক্রম গতিশীল করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়নে কাস্টমস নিরন্তর কাজ করছে। জাতীয় সুরক্ষায় কাজ করছে কাস্টমস।

সভাপতির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদযাপন আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক ও কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট (আপিল) কমিশনার আবুল বাসার মো. শফিকুর রহমান বলেন, কাস্টমসকে জাতীয় ও সমাজের সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হয়। অন্যান্য দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয় আমাদের ব্যবসায়ীদের। তাই সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সর্বোত্তম চেষ্টা করবো দেশের উন্নয়নের জন্য। এ দেশকে ভালোবাসতে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

অবৈধ স্থাপনা, খাল দখলের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিলেন চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি খাল-নালা পরিষ্কার কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি অবৈধ দখল ও নাগরিক অসচেতনতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। সোমবার সকালে মেয়র প্রথমে বহদ্দারহাট কাঁচা বাজার সংলগ্ন সড়ক পরিদর্শন করেন।

এ সময় সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত উচ্ছেদের নির্দেশ দেন মেয়র। পরে বহদ্দারহাট এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চলমান খাল সংস্কার কাজ ঘুরে দেখেন এবং পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বাঁধগুলো অপসারণের নির্দেশনা দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণেরও নির্দেশ দেন মেয়র।এরপর তিনি ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের ফরিদার পাড়া এলাকায় পরিচালিত নালা ও খাল পরিষ্কার অভিযান পরিদর্শন করেন। পরে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খাজা রোড এলাকায় নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।

চসিক সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা ও খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা কমাতে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেললে খাল-নালা আবারও ভরাট হবে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ