আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

লড়াই হবে অভিজ্ঞ শামসুজ্জামান হেলালীর সাথে অনভিজ্ঞ সাঈদ আল নোমানের।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে জমজমাটভাবে। আসন্ন নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা সাবেক শিক্ষক ব্যাবসায়ী শামসুজ্জামান হেলালী সাথে লড়ছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ‘অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েট’ সাঈদ আল নোমান। তার আছে এমফিল ডিগ্রিও। বনেদি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান উচ্চশিক্ষিত সাঈদ আল নোমান ভোটের মাঠে প্রথমবার। অন্যদিকে সংসদ সদস্য পদে হেলালীও প্রথমবার, তবে ভোটের মাঠে নতুন নন। তিনি আগে একবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের শুলকবর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। আবার প্রথমবার হলেও নির্বাচন নিয়ে একেবারে অনভিজ্ঞ নন সাঈদ আল নোমান। চট্টগ্রামে একসময়ের বিএনপির কাণ্ডারি প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমান তাঁর বাবা। সন্তান হিসেবে বাবার রাজনীতি ও ভোটের মাঠে ছায়াসঙ্গী হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে তার ঝুলিতে।


বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও চট্টগ্রাম-১০ আসনে প্রার্থী আছেন আরও ৭ জন। এরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. ওসমান গণি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সাবিনা খাতুন, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. লিয়াকত আলী, বাসদ (মাকসবাদী) আসমা আক্তার এবং স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আরমান আলী।তবে সমানতালে নির্বাচনি প্রচার চোখে পড়ছে চার প্রার্থীর। এরা হলেন- ধানের শীষ প্রতীকের সাঈদ আল নোমান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের শামসুজ্জামান হেলালী, হাতপাখা প্রতীকের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম এবং কাঁচি প্রতীকের আসমা আক্তার। ভোটারদের মতে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। তবে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের জান্নাতুল জামায়াতের ভোটে ভাগ বসাতে পারেন, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, নগরীর ৮টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১০ আসনটি ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে তিনি বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। নোমানের মৃত্যুর পর এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সেই আসনে ধানের শীষ নিয়ে এসেছেন সাঈদ আল নোমান।
এদিকে গণসংযোগে, পথসভায়, বক্তব্য-বিবৃতিতে সাঈদ আল নোমানের ভাষা, শব্দচয়ন গতানুগতিক নয়।

প্রতিদ্বন্দ্বীকে আক্রমণ করে কিছু বলতে শোনা যাচ্ছে না। চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও বিশ্বমানের নগরীতে রূপান্তরের অঙ্গীকার করছেন। পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সঠিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার স্বপ্নের কথাও বলছেন।আবার বিভিন্ন সভা বাবা আবদুল্লাহ আল নোমানের চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরে বাবার পথে হাঁটার কথাও বলছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা থেকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে নিজের কাজগুলোও তুলে ধরছেন ভোটারদের কাছে।

এ বিষয়ে সাঈদ আল নোমান বলেন, ২০০৩ সালে আমার বাবা আবদুল্লাহ আল নোমান যখন মন্ত্রী ছিলেন, তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে কেবিনেট মিটিংয়ে বাণিজ্যিক রাজধানীর ১৬ দফা পেশ করেছিলেন। দেশনেত্রী চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু গত ২২ বছরে আমরা চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি। চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপ দেয়ার জন্য আমি কাজ করব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে আমার সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা আছে। আমি ভোটারদের কাছে আমার পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরছি। আশা করছি, তারা আমার পক্ষে রায় দেবেন।
এদিকে জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালী জোর দিচ্ছেন এলাকার স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দিকে। বেকারত্ব দূর করা, তরুণদের জন্য আয়ের সুযোগ সৃষ্টি, এলাকায় হাসপাতাল করা, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি থেকে এলাকাকে মুক্ত রাখা, এসব বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে তার বক্তব্যে।শামসুজ্জামান হেলালী বলেন,মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের জন্য মানুষ অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে একজোট হয়েছে। ইনশল্লাহ এবার চট্টগ্রাম-১০ আসনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় সুনিশ্চিত।

জানা গেছে, সাঈদ আল নোমান চট্টগ্রামের বেসরকারি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা। তিনি পড়ালেখা করেছেন আমেরিকার সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। নিয়েছেন এমফিল ডিগ্রিও।আর শামসুজ্জামান হেলালী নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় পড়ালেখা স্নাতকোত্তর উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসায়ী এবং তিনি আগে শিক্ষকতা করতেন বলেও উল্লেখ করেছেন। অবশ্য হেলালী নামের আগে ‘অধ্যক্ষ’ ব্যবহার করেন। অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েট সাঈদ আল নোমান না কি সাবেক শিক্ষক শামসুজ্জামান হেলালী চট্টগ্রাম-১০ আসনের ভোটারেরা কাকে সংসদে পাঠাবেন, তা নিয়ে কৌতুহল আছে এই আসনের জনসাধারণের মধ্যে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ