আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামবাসীকে ন্যায়বিচার উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার- সিএমএম চট্টগ্রাম।

প্রেস রিলিজ

চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

৩১ জানুয়ারি ২০২৬: চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের উদ্যোগে আদালতের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মো. মহিদুল ইসলাম, বিজ্ঞ স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জনাব মোঃ সোয়েব খান, বিজ্ঞ স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জনাব হামীমুন তানজীন, বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আবু বকর সিদ্দিক, জনাব মো: আলমগীর হোসেন, জনাব মোহাম্মদ মোস্তফা ও জনাব মুহাম্মদ আবুল মনছুর এবং সঞ্চালনায় ছিলেন বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব ফাহমিদা সাত্তার।


পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে ডিসি (দক্ষিণ) জনাব হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, ডিসি (প্রসিকিউশন) জনাব মো: হাসান ইকবাল চৌধুরী, শিল্প পুলিশের এডিশনাল পুলিশ সুপার জনাব সাইদুর রহমান, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব বিজয়া সেন, এসি (প্রসিকিউশন) জনাব মো: আরিফ ইকবাল, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ সালাউদ্দিন, পিবিআিইয়ের পরিদর্শক (প্রশাসন) জনাব মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি উত্তর) সিএমপি চট্টগ্রাম জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল, এসি ট্রাফিক (নর্থ) কবির উদ্দিন সরকার, এসি ট্রাফিক (উত্তর) জনাব মো: সালাউদ্দিন, চমেক পরিচালকের প্রতিনিধি জনাব ডা. ইমরান হেসেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর আইন কর্মকর্তা জনাব মাসুম রেজা, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জনাব রোমানা আক্তার, র‌্যাবের প্রতিনিধি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য অংশীজনসহ চট্টগ্রাম মহনগর এলাকার ১৬ থানার অফিসার ইন-চার্জবৃন্দ এবং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ পরিদর্শকগণ উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি জনাব আবদুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ হাসান আলী চৌধুরী এবং মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যডভোকেট জনাব মোঃ মফিজুল হক ভূইয়া।

আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সৈয়দ মাহবুবুল হক, কমান্ডার ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রতিনিধি মেজর তানভীর।
কনফারেন্সের শুরুতে বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মো. মহিদুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি বিগত সভার সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে আজকের কনফারেন্সের আলোচ্য সূচী উপস্থাপন করেন।

এরপর বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকারের পরিচালনায় উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে কনফারেন্সে উপস্থিত মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানার অফিসার ইন-চার্জগণ তদন্তকাজে তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয় তুলে ধরেনে এবং সভাপতি মহোদয় তাদের সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন আইনগত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি ডিসি (দক্ষিণ) জনাব হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, নিরাপদ ব্যক্তিকে মামলা হতে অব্যহতির লক্ষ্যে সংশোধিত ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩-বি ধারা অনুযায়ী অন্তবর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রিমান্ড আবেদনে পর্যাপ্ত যৌক্তিক তথ্য উল্লেখ করার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান। ক্রোকি পরোয়ানামূলে জব্দকৃত মালামাল রাখার পর্যাপ্ত স্থান নেই মর্মে জানান।চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: হাসান আলী চৌধুরী বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিচার বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জনাব আবদুস সাত্তার বলেন, বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হতে রিমান্ড না-মঞ্জুর হলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে বিজ্ঞ মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করতে পারে।
কমান্ডার ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রতিনিধি মেজর তানভীর বলেন, মাঠ পর্যায়ে পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছেন। আইন-শৃংঙ্খলা উন্নতিতে একযোগে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, বিনা ময়না তদন্তে লাশ দাফনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানা অফিসার ইন-চার্জ আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন। তিনি আরো বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারার মামলায় শান্তি-শৃংঙ্খলার আদেশ মানে মামলার কার্যক্রম বন্ধ করা নয় বরঞ্চ মামলার কার্যক্রম চালু রেখে শান্তি-শৃংঙ্খলা বজায় রাখাকে বুঝায়।

বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার বলেন, শুধুমাত্র আসামীর দোষস্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে তদন্ত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী ও সাক্ষী উপস্থাপন বিষয়ে নিয়মিত NER প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে পলাতক আসামীর সম্পত্তির বিবরণ প্রদান, জব্দকৃত আলামতের মালিককে মামলার সাক্ষী কিংবা আসামী করা ও মেডিকেল অফিসারদের হোয়াটসআপ মোবাইল নম্বর উল্লেখ করারও নির্দেশ দেন।

তিনি পিআরবির বিধি ২৮৩ অনুযায়ী মামলার আসামীকে আদালত চলাকালীন সময়ে উপস্থাপন করা এবং আসামীকে সনাক্ত করার জন্য টিআই প্যারেডের আয়োজন করারও নির্দেশ দেন। সঠিক সময়ে মেডিকেল সনদ সরবরাহের জন্য কমিটি বা বোর্ড গঠন করা যায় কিনা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালকের প্রতিনিধিকে নির্দেশ প্রদান করেন।

আদালতের চাহিতমতে জেলখানা থেকে আসামীদেরকে নিয়মিত উপস্থাপন না করা গেলে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপযুক্ত কারণ উল্লেখে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য সিনিয়র জেল সুপারকে নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সকল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স, মোবাইল টিম প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেন।মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যডভোকেট জনাব মোঃ মফিজুল হক ভূইয়া আদালতের বিজ্ঞ বিচারক, আইনজীবী, সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় বিচার প্রশাসন, নির্বাহী প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ একে অপরের পরিপূরক। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে একযোগে ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বিচার প্রার্থী মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। বিচারপ্রার্থীর অধিকার নিশ্চিতে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে মামলা নিষ্পত্তিতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

পারস্পরিক মত বিনিময়ের মাধ্যমে ও বিদ্যমান সমস্যাসমূহ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করলে কাজের মুল্যায়ন হয় এবং পারষ্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। তিনি সামনের দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর পারষ্পরিক সমন্বয়ে আইনের অধীনে থেকে জবাবদিহিতার মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসীকে ন্যায়বিচার উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আগত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রামে ব্যাংকের ৪৭ টাকা আত্মসাৎ মামলায় ব্যবসায়ীর ১১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে একটি ব্যাংকের প্রায় ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় সীতাকুণ্ডের তনহা স্টিলের মালিক গিয়াস উদ্দিন প্রকাশ কুসুম নামের এক ব্যবসায়ীকে ১১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গিয়াস উদ্দিন প্রকাশ কুসুম (৫৩) সীতাকুণ্ড থানার উত্তর ছলিমপুর এলাকার মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে। আরেক আসামি মোহাম্মদ নুরুন্নবীকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে। রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এবি ব্যাংক লিমিটেড জুবিলী রোড শাখার এই টাকা আত্মসাৎ এর মামলায় এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গিয়াস উদ্দিন পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আদালত ষূত্রে জানা গেছে, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় গিয়াস উদ্দিনকে পাঁচ বছর এবং ৪২০ ধারায় এক বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় আরও পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, আসামিকে ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন এবি ব্যাংক লিমিটেডের জুবিলী রোড শাখা থেকে বৈদেশিক ও স্থানীয় এলসির মাধ্যমে প্রায় ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এলসির বিপরীতে আনা পণ্য ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে না রেখে বিক্রি বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয় এবং ঋণের অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৩ মার্চ এবি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ