চট্টগ্রাম-৯ আসন ভোটারের সমর্থন আদায়ের লড়াইয়ে ব্যাস্ত ধানের শীষের সুফিয়ান, দাঁড়িপাল্লার ফজলুল।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৯ আসনে জয়ের জন্য দিনরাত মাঠ-ঘাট, অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। অন্যান্য আসনের মতো চট্টগ্রামের এ আসনটিতেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভোটারের বিবেচনায় আছেন বিএনপি মনোনীত আবু সুফিয়ান এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ডা. একেএম ফজলুল হক। মূল লড়াইয়ের আগে ভোটারের সমর্থন আদায়ের লড়াইয়ে উভয় প্রার্থীই যেন সমানে-সমান! গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণায় কেউ যেন পিছিয়ে না পড়েন, উভয়ের প্রাণান্ত চেষ্টা নজরে পড়ছে যে কারও। আবু সুফিয়ান না-কি একেএম ফজলুল হক, কাকে বেছে নেবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের ভোটারেরা, না-কি কোনো চমক অপেক্ষা করছে, সেটা জানা যাবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর।
চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসন। শহরের মূল পয়েন্টকে ঘিরে এ আসনের অবস্থান হওয়ায় যে কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত। এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়াকে বিশেষ মর্যাদার বিবেচনা করা হয়, যার কারণে মূল রাজনৈতিক দলগুলোর মরিয়া চেষ্টা থাকে নিজেদের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার। প্রার্থীও মরিয়া হয়ে মাঠে নামেন, অতীত নির্বাচনগুলোর ইতিহাস তাই বলে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় আছেন মোট ১০ জন। এদের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়া প্রচারে ঘাম ঝরাচ্ছেন কাঁচি মার্কায় বাসদের (মার্কসবাদী) প্রার্থী শফি উদ্দিন কবির আবিদ ও চেয়ার প্রতীকে ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ। গণসংযোগ, মিছিল-পথসভার মধ্য দিয়ে এই দুই প্রার্থীও ভোটারদের আলোচনায় এসেছেন।প্রার্থীদের মধ্যে আরও আছেন- নাগরিক ঐক্যের নুরুল আবছার মজুমদার, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ হাসান মারুফ, জনতার দলের হায়দার আলী চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুস শুক্কুর, জেএসডি’র আবদুল মোমেন চৌধুরী এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন।

জানা গেছে, নগরীর কোতোয়ালী, চকবাজার এবং বাকলিয়ার মোট ১৪টি ওয়ার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম-৯ আসনের অবস্থান। এর মধ্যে শিক্ষিত-সচেতন নাগরিকদের আধিক্য আছে কোতোয়ালী-চকবাজার অংশে আর বাকলিয়ায় আছেন শ্রমজীবী ও ভাসমান মানুষের আধিক্য। আবার আসনটিতে সংখ্যালঘু আছেন মোট ভোটারের অন্তত ৩৫ শতাংশ। প্রায় সমসংখ্যক শ্রমজীবী-ভাসমান মানুষ আছে বাকলিয়ায়।

এ আসনে মোট ভোটার সোয়া ৪ লাখের মতো। এর মধ্যে দেড় লাখেরও বেশি সংখ্যালঘু ভোটার বলে ধরা হয়। বাকলিয়ায় আছে সোয়া লাখের মতো ভোটার।
রাজনীতি সচেতন বাসিন্দাদের মতে, বাকলিয়া বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, তবে জামায়াতের সমর্থকের সংখ্যাও একেবারে কম নয়। এবারের প্রেক্ষাপটে বাকলিয়ার ভোট দুই ভাগে ভাগ হবে। সেক্ষেত্রে ভোটে জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর হবে সংখ্যালঘুরা। এ বাস্তবতা মাথায় রেখে ধানের শীষ এবং দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দুজনই সংখ্যালঘুদের কাছে টানার চেষ্টায় যেমন আছেন, তেমনি চষে বেড়াচ্ছেন বাকলিয়ায়ও।

বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান একেবারে ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতা। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সামনের কাতারে আছেন। দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদেও ছিলেন। তিনি মূলত নগরীর চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা, যেটি চট্টগ্রাম-৮ আসনের মধ্যে পড়েছে। ওই আসন থেকে আওয়ামী লীগের আমলে তিনি দুই দফায় সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি এবার তাকে ওই আসন থেকে সরিয়ে এনে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে মনোনয়ন দিয়েছে।

আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও বিএনপির দলীয় কার্যালয় ঘিরে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সরব সুফিয়ান অবশ্য এ আসনের ভোটারদের মধ্যেও পরিচিত মুখ। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করকে পাশে পাওয়ায় নির্বাচনের মাঠে বাড়তি জোর পাচ্ছেন সুফিয়ান।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী একেএম ফজলুল হক চিকিৎসক হিসেবে চট্টগ্রামে পরিচিত মুখ। পারিবারিকভাবেও তার ভালো পরিচিতি আছে। এলাকায় সজ্জন মানুষ হিসেবেই তাকে লোকজন চেনে। রাজনীতির মাঠে অত বেশি পরিচিত না হলেও সমাজসেবার কারণে তার আলাদা একটি ভাবমূর্তি আছে। তবে আমেরিকার নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতায় প্রথম দফায় তার মনোনয়ন বাতিল হলে তিনি কিছুটা পিছিয়ে পড়েন। পরে অবশ্য প্রার্থিতা ফেরত নিয়ে এসে মাঠে নেমে গেছেন জোরশোরে।

মাঠের ‘পোড়খাওয়া’ নেতা আবু সুফিয়ান এবং ‘ভদ্রলোক’ ফজলুল হককে ঘিরেই আবর্তিত চট্টগ্রাম-৯ আসনের ভোটের মাঠ। প্রচারে নেমে মাঝেমধ্যে অবশ্য দুজন দুজনের দিকে খানিকটা তীর ছুড়ছেন। যেমন- ফজলুল হকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আমলের কোনো মামলা নেই। অথচ সুফিয়ানের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা। সুফিয়ানের সমর্থকরা যখন ভোটারের কাছে সেটা তুলে ধরে সহানুভূতি চাচ্ছেন, তখন ফজলুল হক সুফিয়ানের ‘আয়ের উৎস’ জানতে চেয়ে কামান দাগেন। জবাবে সুফিয়ান তার মার্কিন নাগরিকত্ব ও নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আয় বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ করেন।

তবে এসব কথার যুদ্ধ ছাপিয়ে উভয়ের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিই ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে বেশি। সন্ত্রাস, মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাংয়ের লাগাম টানা; এসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে সুফিয়ানের প্রচার। তবে গণসংযোগে যেসব অলিগলিতে যাচ্ছেন, সেখানকার বাসিন্দাদের সমস্যা, অভাব-অভিযোগ শুনে সমাধানের আশ্বাসও মিলছে সুফিয়ানের কাছ থেকে। এক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের চেয়ারে আছেন বিএনপি নেতা শাহাদাত, যা নিয়ে ইতোমধ্যে এনসিপি অভিযোগ তুলেছে।
আবু সুফিয়ান বলেন, আমাদের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব আছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সেটা অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে। আরেকটা হচ্ছে, স্থানীয়ভাবে নানা সমস্যা আছে। যেমন-জলাবদ্ধতা। এটা সমাধানে জোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাকলিয়ার অনেক এলাকা অনুন্নত রয়ে গেছে। সেখানে মানুষের নানা অভিযোগ আছে। আমি সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করব। ভোটারদের কাছে আমার বার্তা হচ্ছে; আমি যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারি, আমি সেটাকে পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে আমানত হিসেবে গ্রহণ করব।

ক্ষমতার দাপট দেখানো, মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, সন্ত্রাস, মাদক, কিশোর গ্যাং; এসব চলতে পারবে না।অন্যদিকে ফজলুল হক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এলাকায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, চাঁদাবাজি প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বাকলিয়ায় গণসংযোগে গিয়ে ঘোষণা করেছেন, তিনি নির্বাচিত হতে না পারলেও বাকলিয়ায় ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল করে দেবেন। ফজলুলের এই প্রতিশ্রুতি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বাকলিয়াকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাবদ্ধতা, মাদক ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাসও দিচ্ছেন। ফজলুল হক প্রতিদিনই চট্টগ্রাম-৯ আসনের বিভিন্ন অলিগলিতে একাধিক মিছিল, পথসভা করছেন। পুরো এলাকাকে শান্তিতে বসবাসের জন্য নিরাপদ হিসেবে গড়ে তোলা, তরুণদের কর্মসংস্থান, নাগরিক সেবা সহজ ও দুর্নীতি করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রচারে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস গণতন্ত্র, অধিকার ও ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের এক গৌরবময় স্মারক দিপ্তী-শাহেদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আমাদের গণতন্ত্র, অধিকার ও জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের একটি গৌরবময় স্মারক। আগামী ৪ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন র‌্যালির মাধ্যমে আমরা সেই সব শহীদ ও আহত সংগ্রামীদের গভীর শ্রদ্ধা জানাই, যাদের আত্মত্যাগে দেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছে।

তিনি আজ ০৩ আগস্ট সোমবার বিকালে কাজীর দেউরীস্থ নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয় সম্মুখ মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আগামীকাল ৪ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের র‌্যালি ও ১৪ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে মহানগর বিএনপি আয়োজিত শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট সফল করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিজ্ঞতা করছে শহীদের স্বপ্নে বাংলাদেশ গড়তে যুব সমাজকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস কেবল একটি স্মরণীয় দিন নয়, এটি অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে তরুণদের সাহসী অবস্থানের প্রতীক। আগামী কালকের র‌্যালি থেকে আমরা দেশের যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং দেশ গঠনে ইতবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই। তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কখনো বৃথা না যায়, সে লক্ষ্যে আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায় বিচার এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাব। নগর বিএনপি আয়োজিত শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট সফল করার লক্ষ্যে যুবদল সার্বিক শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করবে।

প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, ফজলুল হক সুমন, মোহাম্মদ মুসা, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, নাসির উদ্দিন চৌধুরী নাসিম, মুজিবুর রহমান, জসিমুল ইসলাম কিশোর, অরুপ বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলী সাকী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির, রাশেদুল হাসান লেবু, এরশাদ হোসেন, সেলিম উদ্দিন রাসেল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা, মোরশেদ আলম, রাজন খাঁন, তানভীর মল্লিক, হেলাল হোসেন, গুলজার হোসেন, সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান টিপু, জাহাঙ্গীর আলম বাঁচা, ওসমান গনি সিকদার, শাহজালাল পলাশ, মুজিবুর রহমান রাসেল, সাবেক সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মহিউদ্দিন মুকুল,

এস এম বখতিয়ার উদ্দিন, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম, মোহাম্মদ ইকবাল, আসাদুজ্জামান রুবেল, সাবেক সহ- সম্পাদকবৃন্দ আতিকুর রহমান, মনোয়ার হোসেন মানিক, কমল জৌতি বড়ুয়া, কামরুল ইসলাম, কোরবান আলী, শাহেদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, জিয়াউল হক মিন্টু, গুলজার হোসেন মিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ হাসান, আবুল কালাম, মনজুর আলম মনজু, মিজানুর রহমান দুলাল, হোসেন জামান, ইয়াছিন আজাদ, আবদুল্লাহ আল জিতু, মোহাম্মদ জসিম, সাবেক সদস্য শাবাব ইয়াজদানী, কলিম উল্লাহ, প্রফেসর সাইদুল হক সিকদার, শাখাওয়াত কবির সুমন, থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজম, মোশাররফ আমীন , বজল আহমেদ, কুতুবউদ্দিন কুতুব, মোহাম্মদ সেলিম, সাবেক সদস্য সচিব শেখ রাসেল, মোহাম্মদ হাসান, শওকত খান রাজু, মোহাম্মদ মুসা, মোরশেদ কামাল, আশিক মল্লিক আরসি, মনজুর আলম মনজু, মোহাম্মদ সোহেল, ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আকতার, এস এম আলী, আবু বক্কর বাবু, সাইফুল আলম, জহিরুল ইসলাম, মাসুদ আলম, জাহাঙ্গীর আলম বাবলু প্রমুখ।

ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতির ফেসবুক পোস্ট তীব্র বিতর্ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিলেট ও হবিগঞ্জে এনসিপি নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।পোস্টে হামলার পেছনে ‘সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য’ থাকতে পারে বলে মন্তব্য করায় শুরু হয় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেয়ার পরও বিতর্ক থামেনি।

একদিকে এপোস্টকে নিয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ একাধিক নেতা জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। মনিরা শারমিন নিজের ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের সাম্প্রতিক বিতর্কিত একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে ‘ডিপ প্ল্যান’ খোঁজার প্রবণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

অন্যদিকে, শিবির-সমর্থিত বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জাহিদুল ইসলামের বক্তব্যের পক্ষের পোস্টও যথেষ্ট দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে এনসিপি ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ