আজঃ মঙ্গলবার ২৪ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেছে সাময়িকীটি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে জনমত জরিপ ও নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে চলছে বিচার বিশ্লেষণ। এনিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট তাদের সর্বশেষ বিশ্লেষণে যা ফুটে উঠেছে, তাই প্রকাশ করেছে তাদের নিজস্ব মাধ্যমে। তাদের প্রকাশিত তথ্যে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।প্রকাশিত সাময়িকীটির সাম্প্রতিক সংখ্যায় বলা হয়, রাজনৈতিকভাবে সুপরিচিত একটি পরিবারের উত্তরসূরি ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের পর দেশের নেতৃত্বে আসার প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।


ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর এই আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের শাসনের অবসান ঘটে।বিগত সরকারের বিরুদ্ধে হত্যা, দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবেও সমালোচনা ছিল। দ্য ইকোনমিস্ট আরও জানায় , গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ খুলে দেবে।


নির্বাচনের পূর্বে তারেক রহমানকে নিয়ে এমন সময়ে এপূর্বাভাস দেয়া হলো, যখন টাইম ম্যাগাজিন, ব্লুমবার্গসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও তাকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনমতে এগিয়ে থাকার বিষয়টি গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে সাময়িকীটিতে । ঐপ্রতিবেদনে বলা হয়, বুলেটপ্রুফ বাসে করে রাজধানীতে প্রবেশের সময় বিপুল সংখ্যক সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন। উচ্ছ্বাসের কারণে বাসটি কয়েক মাইল পথ খুব ধীরগতিতে চলতে থাকে, যেন সমর্থকেরা কাছ থেকে তাকে দেখতে পারেন।


বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেছে সাময়িকীটি। সেপ্রতিবেদনে আরও বলা হয়- ২০০৮ সালের পর দেশে আর কোনো বাস্তব ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি। প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে আনুমানিক ৪০ শতাংশ নাগরিক কখনো প্রকৃত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি।বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচনই হবে শেষ বড় দায়িত্ব। অধিকাংশ মানুষের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সরকার অর্থনীতিতে একটি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এমন কিছু সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদের জন্য একটি নতুন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব।সংসদে ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অতীত অভিজ্ঞতা কম জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে দ্যা ইকোনমিস্ট লিখেছে-দলটি ক্ষমতায় গেলে সংযত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে তাদের উত্থান উদ্বেগ তৈরি করেছে। দলটি নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি, কিন্তু কর্মীদের দ্বারে দ্বারে পাঠাচ্ছেন নারীদের ভোট দাঁড়ি পাল্লায় দেয়ার জন্য। এই রাজনৈতিক বাস্তবতাই তারেক রহমানের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করে সাময়িকীটিতে। কারণ বিভিন্ন জনমত জরিপে তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি এগিয়ে রয়েছে।

বিএনপি দীর্ঘদিন তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। তার পূর্বে বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন তার বাবা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নব্বই ও দুই হাজারের দশকে তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে বলা হয়, তারেক রহমান নির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিস্তারিত না দিলেও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চ আয়ের চাকরির সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেছেন।
তিনি দেশের পানিসংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং প্রতিবছর পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে উপযুক্ত মনে করেন এবং তাকে একজন বাস্তববাদী ব্যবসায়ী হিসেবে দেখেন।দ্য ইকোনমিস্ট আরও লিখেছে, তারেক রহমানের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া। তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার অবশ্যই হবে।

তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে—যে সরকার জনগণের জন্য কার্যকর কর্মসূচি দিতে ব্যর্থ হয়, তাদের পতন অনিবার্য। প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির বিরোধিতা করে তিনি বলেন- প্রতিশোধ সমাজের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।বিশ্লেষকদের মতে-লন্ডন থেকে ফিরে আসা এই রাজনীতিককে আগের তুলনায় অনেক বেশি সংযত ও পরিণত মনে হচ্ছে। দেশে ফেরার পর জনমানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে চলছেন।

সংগৃহীত –

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেছেন-বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া যতবারই দেশ পরিচালনা করেছে ততবারই দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দেখা পেয়েছে। জিয়া পরিবারের সুুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের প্রতিশ্রুতি পূরণে দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

 

মানুষের যে মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিটি মৌলিক চাহিদা পূরণ করে; দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছেন। নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রুপ নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, ই হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ডের মত কল্যাণমুখী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডে মরহুম আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত “ঈদবস্ত্র বিতরণ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১৫০০ মানুষের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। জনগণের জন্য কাজ করা, জনগণের সেবা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে, জনগণের কাছে আমরা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।

বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপি-কাউন্সিলররা জনগণের পাশে ছিলনা। জনগণের ভাগ্যন্নোয়নের কথা বলে তারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। সে পাচারের টাকায় আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী ও নেতাকর্মীরা এখন বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছে।

৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আবু তালেব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. ইসমাঈল বালি, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজ সেবক বাবু দিলীপ মজুমদার, পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. শহিদুল হক, আশরাফুল ইসলাম মামুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শফিকুল আলম, মোহাম্মদ হামিদ, জিয়া সাইবার ফোর্স বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী বাহাউদ্দিন ফারুক মুন্না, কোতোয়ালি থানা তাঁতি দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. শেখ আলী মিঠু , প্রবাল কৃষ্ণ, মোহাম্মদ সেলিম, যুবদলের মো. সাইফুল ইসলাম, মো. নাদিম, রিয়াজ, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ তুহিন,  সদস্য সচিব মো. জসিম, কোতোয়ালী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মারুফ,  কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. হোসেন মোহাম্মদ নাসির প্রমুখ।

স্পিকার হলেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্পিকার  মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে বর্ণ্যাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। 

(more…)

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ