আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম-৮ আসন জামায়াত-এনসিপির সমঝোতা হয়নি, খালি মাঠে গোল দেবেন বিএনপি প্রার্থী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আসনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনে একমাত্র ‘জুলাই আন্দোলনকারী’ তরুণদের দল এনসিপির প্রার্থী আছে। কিন্তু ওই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু নাছের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। কিন্তু প্রত্যাহারের শেষদিনে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামী সংবাদ সম্মেলন করে তাদের প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে ঘোষণা দেয়। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’র সমঝোতা অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর একাংশ) আসনটি পেয়েছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

এর পর গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের হাতে শাপলাকলি প্রতীক তুলে দিয়ে তাকে ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করে দেন। কিন্তু ভোটের আগমুহূর্তে হঠাৎ করেই জামায়াত নেতা আবু নাছের গত তিনদিন ধরে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে গেছেন। নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন, গণসংযোগ, পথসভা, কবর জিয়ারতসহ আরও নানাভাবে শুরু করেছেন প্রচার।এতে নতুন দল এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ কার্যত নির্বাচনের মাঠে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

এ অবস্থায় দলটির হতাশ ও ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতের প্রার্থীর সমালোচনায় সরব হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি প্রার্থীর এই ‘রশি টানাটানিতে’ বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। স্থানীয় ভোটারদের মতে, শুরুতে প্রচারের মধ্য দিয়ে জোরালো অবস্থান তৈরি হলেও মাঝপথে এসে প্রার্থী হওয়া নিয়ে দোলাচলে পিছিয়ে গেছেন আবু নাছের। এতে এরশাদ উল্লাহ অনেকটা খালি মাঠে গোল দেবেন বলে ধারণা ভোটারদের।

মহানগরীর উপকণ্ঠে বোয়ালখালী উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৮ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপি ছাড়াও এখানে তিনজন প্রার্থী আছেন। এরা হলেন- ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ এমদাদুল হক (আপেল), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম (হাতপাখা) ও ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান (মোমবাতি)।
ভোটারদের মতে, যথারীতি বিএনপির ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। তবে ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতিও চমক দেখাতে পারে।

চট্টগ্রাম-৮ আসন বরাবরই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান এ আসন থেকেই নির্বাচিত ছিলেন। ২০০৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবশ্য এরশাদ উল্লাহকে এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নৌকার জোয়ারে তিনি টিকতে পারেননি। সেখানে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তির ধারে-কাছেও এতদিন জামায়াতে ইসলামী দৃশ্যমান ছিল না। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ আগেভাগেই মাঠে নেমে যান ডা. আবু নাছের। গত দেড় বছর ধরে ধারাবাহিক সাংগঠনিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তিনি মোটামুটি জামায়াতকে আলোচনায় আনতে সক্ষম হন।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, প্রার্থীদের মধ্যে এরশাদ উল্লাহ, আবু নাছের ও সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান পরিচিত মুখ। চিকিৎসক হিসেবে আবু নাছেরের আলাদা পরিচিতি ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আছে। পক্ষান্তরে এনসিপির জোবাইরুল হাসান আরিফ ভোটের মাঠে নতুন, ভোটারদের কাছে তেমন পরিচিত নন। সৈয়দ মুহাম্মদ হাসানের রাজনৈতিক দল ইসলামী ফ্রন্টের এ আসনে সাংগঠনিক ভিত্তি আছে।

এরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও বনেদি পরিবারের সন্তান। নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রমের শুরুতে গতবছরের গত ৩ নভেম্বর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার চালিতাতলী এলাকায় এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা। এ ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে এরশাদ উল্লাহর প্রতি সহানুভূতি তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

তবে এরশাদ উল্লাহ নির্বাচনের মাঠ একেবারে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন দেখছেন না। তিনি বলেন, আমি কাউকে দুর্বল প্রার্থী হিসেবে দেখছি না। ভোট করতে যখন নেমেছি, সব প্রার্থীই আমার কাছে সমান। আর ভোট মানেই চ্যালেঞ্জ। ভোটাররাও এখন অনেক সচেতন। আমি আমার বক্তব্য তুলে ধরছি। অন্য প্রার্থীরা উনাদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। ভোটাররা সবকিছু নির্ধারণ করবেন।
নির্বাচনি প্রচারে এরশাদ উল্লাহকে মূলত ‘বোয়ালখালীর দুঃখ’ হিসেবে খ্যাত কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন, বোয়ালখালীকে একটি উপশহর হিসেবে গড়ে তোলা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ বোস্তামি এলাকা থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর ভোটের মাঠে ফেরা নিয়ে জানতে চাইলে দলটির বোয়ালখালী উপজেলার আমির মোরশেদুল আলম বলেন, এনসিপির জোবাইরুল আমাদের ১১ দলের প্রার্থী। আমরা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সাংগঠনিকভাবে অবশ্যই তার পাশে আছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, জোবাইরুলকে এলাকায় কেউ চেনে না। তার সঙ্গে ১০০-২০০ লোক থাকলেও হতো। কিন্তু নাছেরের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বেশি। তার ব্যক্তিগত ভিত্তি জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তির চেয়েও বেশি। দলমত, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে এলাকার মানুষ তাকে ভালোবাসে।

আমরা তাকে নির্বাচনের মাঠে আসতে নিষেধ করেছিলাম। এজন্য উনি আটদিন বাসা থেকে বের হননি। আমিরে জামায়াতের জনসভায়ও যাননি। তখন এলাকার লোকজন গিয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে আনে। এই লোকগুলো জামায়াত করে না, তাদের আমরা নিয়ন্ত্রণ করব কীভাবে! সাধারণ লোকজন নাছেরকে আবার নির্বাচনের মাঠে টেনে এনেছে।আর জোবাইরুল হাসান আরিফের আশা, জামায়াতে ইসলামীসহ শরিক দলগুলো যদি শক্তভাবে এনসিপির পাশে দাঁড়ায়, তাহলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

অন্যদিকে ডা. আবু নাছের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি নির্মূল, কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন, নদীভাঙন রোধসহ আরও নানা প্রতিশ্রুতি এতদিন যা দিয়ে এসেছিলেন, সেগুলো অব্যাহত রেখেছেন। এনসিপির জোবাইরুল তার মূল প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরছেন কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নকে।

বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামের বাসিন্দা ব্যাংকার ইসমাইল হোসেন বলেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এখানে বিএনপির সাপোর্টার বেশি। তবে নাছেরও একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো প্রার্থী নন। আওয়ামী লীগ যেহেতু নির্বাচন করতে পারছে না, তাদের সমর্থকরা যদি ভোটকেন্দ্রে যান, তাহলে ভোট ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে ভাগ হবে। কিছু ভোট মোমবাতির দিকেও যেতে পারে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কার হবে না: নাহিদ ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে (প্রস্তাবিত) দেশের অর্থনৈতিক কোনো সংস্কার হবে না। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা মূলত বাস্তবতাবিবর্জিত। কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান যে কর বা রাজস্ব আদায়ের কাঠামো রয়েছে, তার মধ্য দিয়ে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের এই বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আসবে; কিন্তু বর্তমান বাজেটের যে রূপরেখা, তাতে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব হবে না।

বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কিছু সৃজনশীল জায়গা দেখিয়েছে। কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও শেষ পর্যন্ত তা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে— তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এত কম সময়ের ব্যবধানে আগে কখনো এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, তার লাগাম টেনে ধরতেই আমরা প্রতিটি বিভাগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করছি।

বাজেটে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে— তার কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। বড় বাজেট মানেই তা নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি করারও সুযোগ তৈরি হওয়া। এই যে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কিংবা খাল খনন কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে; সেখানে ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা বরাদ্দ পাচ্ছেন, কিন্তু বিরোধীদলীয় এমপিরা পাচ্ছেন না— তারা সেটি কীভাবে করছেন? অর্থাৎ কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। বাজেটে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপিদের রুখতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আনন্দ মিছিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয়বাদী যুবদল কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটি পূর্ণাঙ্গ ঘোষিত হওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন এর নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে শহরের বহরদ্দার হাট বাস টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুরাদপুর চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক দীপংকর ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, এতে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ শাহেদুল ইসলাম, সহ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম আজাদ, সদস্য শাখাওয়াত হোসেন টিপু, চান্দগাও থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আলী আজম মাসুম, আরিফ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ এরশাদ, মোহাম্মদ ফরহাদ, আলী আসমান, মোহাম্মদ ছাবের, ইমতিয়াজ নিশান, সহাব উদ্দিন শিহাব, মোহাম্মদ মোরশেদ, অহিদুল ইসলাম ওয়াহিদ, মো: খোরশেদ আলম, মো: মিনহাজ, জয়নাল আবেদীন মানিক, মোহাম্মদ আরিফ, আবদুর রহমান, আবদুল্লাহ আল মামুন, ওমর ফারুক, মোহাম্মদ দুলাল, মোহাম্মদ নুর নবী, আবদুল আজিজ, সহ চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল,থানা ও ওয়ার্ড যুবদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মোশাররফ হোসাইন নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যুবদল দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সফলতা কামনা করে এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা বা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর মতো চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলও প্রায়ই আনন্দ মিছিল ও স্বাগত কর্মসূচি পালন করেছে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে স্বাগত জানাতে এবং দলীয় প্রধানকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রামের রাজপথে সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে এই আনন্দ আয়োজনে অংশ নেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ