আজঃ শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬

গ্রীন পোর্ট হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর, এটা বড় ধরনের মাইলফলক : চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর গ্রীন পোর্ট হবে, এটা বড় ধরনের মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো উদ্বোধনকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এনবিআর, কাস্টমস ও পোর্ট সংক্রান্ত সব সেবার জন্য পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো (সিপিএ স্কাই) চালু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, বন্দরের অটোমেশনের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করছি।

চুয়েট অত্যন্ত সহযোগিতা করেছে।পুরো টিম এ জটিল কাজটি সময়মতো সুচারুরূপে করতে সক্ষম হয়েছে। এ জন্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, বর্তমানে পৃথিবীর সব পোর্ট ডিজিটাল, অটোমেটেড হয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল করিডোরে যে ট্রানজেকশন হচ্ছে লজিস্টিক সেক্টরে সেটি থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে ছিলাম।
অনেকে বলে আমাদের তো টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম আছে, এনবিআরের অ্যাসাইকুডা সিস্টেম আছে। কিন্তু প্র্যাক্টিক্যালি আমাদের পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো ছিল না।একটা ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো হচ্ছে পুরো দেশের জন্য। সেটি এনবিআর করছে।

বন্দর চেয়ারম্যানবলেন,আরেকটি মেরিটাইম সিঙ্গেল উইন্ডো হচ্ছে। ডিজি শিপিং করছে। আমরা যেটি করেছি সেটি হচ্ছে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম। এখানে সব সংস্থা সংযুক্ত। এক প্লাটফর্মে এসেছে।আগে যে কাজগুলো ফিজিক্যালি করতে হতো, টেবিলে, ডেস্কে, কাস্টমস, ব্যাংক, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডের কাছে যেতে হতো এখন এই কাজগুলো ডিজিটাল প্লাটফর্মে হচ্ছে। যার ফলে আগে যে কাজে পাঁচ দিন লাগত এখন তা আধঘণ্টায় হবে। এতে আমাদের সময় বেঁচে যাবে, ফার্স্ট হবে, কার্গো, ডেলিভারি, জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম অনেক কমে আসবে। এতে আমাদের মুভমেন্ট কমে যাবে।

গ্রীন পোর্ট হবে। এটা বড় ধরনের মাইলফলক। সারা পৃথিবী জেনে যাবে আমাদের চট্টগ্রাম পোর্ট ডিজিটাল পোর্ট হয়ে গেল এবং আন্তর্জাতিক মানের প্লাটফর্মে, ডিজিটাল মেরিটাইম লজিস্টিক করিডোরে আমরা ডাইরেক্ট কানেক্টেড হলাম। কাস্টমসের ইজিএম, আইজিএম কাজগুলো এটার মাধ্যমে করা যাবে। প্রিঅ্যারাইভাল প্রসিডিওর হবে।

তিনি বলেন,আগে আমদানি পণ্য দেশে আনার পর ডেলিভারি প্রক্রিয়া শুরু হতো। কাস্টমস ফরমালিটি, গেটপাস করে ডেলিভারি হতো। এখন লোড পোর্ট থেকে অনলাইন প্লাটফর্মে হবে। আর কোনো টেনশন থাকলো না। ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন যেখান থেকে ইচ্ছে কাজগুলো করা যাবে। আমাদের অফিশিয়াল ফাংশন হবে ডিজিটাল। আমরা পেপারলেস হয়ে যাব। আমি বলে দিয়েছি, আমি টেবিলে পেপার দেখতে চাই না। আর কিছু দিন সময় লাগবে অভ্যস্ত হতে।

বন্দর চেয়ারম্যান আরো বলেন, নতুন সিস্টেমে অ্যাকাউন্টবিলিটি নিশ্চিত হবে। আগে অ্যাকাউন্টিবিলিটির প্রশ্ন থাকত, অনেক সময় মিস ম্যানেজমেন্ট হতো, ডেলিভারি ডিলে হতো এর কারণে ভোক্তারা অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতো। এখন আমাদের কার্গো, টার্ন অ্যারাউন্ড টাইমসহ টোটাল প্রোডাক্টিভিটি এখন যা আছে সবই বেড়ে যাবে। এ প্লাটফরম ভবিষ্যতের দ্বার খুলে দিল। যার সুফল ৫০-১০০ বছর এদেশের মানুষ পাবেন।

তিনি বলেন, পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডোর হেল্প ডেস্ক রাখব। কয়েকটা ক্যাম্পেইন করেছি। এজেন্ট ডেস্ক করেছি। এ সেবার জন্য ন্যূনতম চার্জ দিতে হবে। ঢাকা চট্টগ্রামে কল সেন্টারের মতো এজেন্ট ডেস্ক হওয়া উচিত। এ সুবিধা না থাকলে যে কাজে পাঁচ সাত দিন লাগত তা আধঘণ্টায় হয়ে যাবে। অনেক খরচ সাশ্রয় হবে। সব মিলে আমি বলবো এটি বাস্তবমুখী, যুগান্তকারী এবং ব্যবহার উপযোগী প্লাটফর্ম।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

একযোগে ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের অবস্থানের সঙ্গে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে জামায়াতপন্থি পরিচয়ে ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন।

আজ ২৩ জুন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো পৃথক পৃথক পদত্যাগপত্রে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই চার্টার বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়া, বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, এসব কারণে সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে,পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।

পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা হলেন— অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির, রেজাউল ইসলাম ও জাকির হোসেন।

পদত্যাগপত্রে তারা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের বিবেক ও নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে তারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানী ঢাকাসহ দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এর উৎপত্তিস্থল ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।আজ সোমবার রাত সাড়ে নয়টায় কম্পন অনুভূত হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ