আজঃ সোমবার ২২ জুন, ২০২৬

সেবায় গাফিলতি হলে নেওয়া হবে বিভাগীয় ব্যবস্থা।

রেলওয়ে সেবার মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেছেন-
বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অনবোর্ড সেবার গুণগত মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কোনো ধরনের অবহেলা বা ব্যত্যয় সহ্য করা হবে না। সেবার মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি রাজধানীর রেলভবনের কনফারেন্স কক্ষেববাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবা ও পরিচালনা বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. রুপম আনোয়ার, বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশন) শহিদুল ইসলাম, পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন, সিসিএম মাহবুবুর রহমান, পশ্চিমাঞ্চলের সিসিএম সুজিত কুমার বিশ্বাসসহ অপারেশন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চার বিভাগের বাণিজ্যিক কর্মকর্তারা।

এছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে অনবোর্ড ও ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনাকারী বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বাংলাদেশ রেলওয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সময় সময় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চলন্ত ট্রেনে খাদ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা, আচরণ ও নিরাপত্তা—সবকিছুতেই যাত্রীদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেলওয়ে অনবোর্ড ও ক্যাটারিং সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং সুরুচি ফাস্টফুডের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, “রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা মালিকপক্ষ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব। যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিক থাকবো।

এস.এ কর্পোরেশনের মালিক প্রতিনিধি মতিউর রহমান সম্রাট বলেন, “রেলওয়ের কর্মকর্তারা সবসময় সঠিক নির্দেশনা ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিআরপি ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত টাস্কফোর্স কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”

হাবীব বাণিজ্য বিতানের স্বত্বাধিকারী মামুন হোসেন বলেন, “দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে বিল পরিশোধ না হলেও আমরা যাত্রীসেবা অব্যাহত রেখেছি। ভবিষ্যতেও রেলওয়ের নির্দেশনা মেনে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাব।বলাকা ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি মতিন বলেন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে আমরা সর্বদা আন্তরিকভাবে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন,চলন্ত ট্রেনে যাত্রীসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু কার্যাদেশের শর্ত পূরণ করলেই হবে না, বরং যাত্রীদের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।”
সভায় রেলসেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রস্তাব, যাত্রী নিরাপত্তা জোরদার, অনবোর্ড খাদ্যসেবার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং তদারকি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে কেনা চট্টগ্রাম বন্দরে আনা ৪টি ক্রেন পণ্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারবাহী জাহাজ থেকে দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য ওঠানামার জন্য চারটি অত্যাধুনিক কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন (কিউজিসি) আগামী মাস থেকে পন্য উঠানামায় কাজ করবে বলে জানা গেছে। চীনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্যানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি’ থেকে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে এই ক্রেনগুলো কেনা হয়েছে। বিশেষ করে নিজস্ব ক্রেনবিহীন জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাসে এসব ক্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ক্রেনগুলো বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) জন্য আনা হয়েছে। এসব ক্রেন বহনকারী বিশেষায়িত ডেক জাহাজ এমভি ল্যান হাই হং ইউন গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পিসিটি জেটিতে ভিড়ে। আগামী মাসের (জুলাই) মাঝামাঝি এগুলো দিয়ে পুরোদমে পণ্য ওঠানামা শুরু করা যাবে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান দুটি টার্মিনাল- নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)-তে মোট ১৮টি কী গ্যান্ট্রি ক্রেন সচল রয়েছে। এর মধ্যে এনসিটিতে ১৪টি এবং সিসিটিতে ৪টি ক্রেন ব্যবহৃত হচ্ছে।

জানা গেছে, পিসিটির বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই স্যানি মেরিন থেকে এই ক্রেনগুলো কাস্টমাইজড বা বিশেষভাবে তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। পিসিটির মোট তিনটি জেটির মধ্যে একটিতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান ওঠানামার উচ্চতার কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে ওই জেটিতে কোনো গ্যান্ট্রি ক্রেন বসানো সম্ভব নয়। বাকি দুটি জেটিতেও উচ্চতার সীমাবদ্ধতা থাকায় ক্রেন চারটির উচ্চতা নির্দিষ্ট করে ৪২ ফুট রাখা হয়েছে।

বন্দর ও আরএসজিটি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চারটি কিউজিসি সংগ্রহের জন্য চুক্তি করে আরএসজিটি। এক বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ শেষে ক্রেনগুলো এসেছে। নতুন চারটি ক্রেন চালু হলে পিসিটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বর্তমান ২ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস থেকে বেড়ে ৬ লাখ টিইইউএসে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং লজিস্টিক ব্যয়ও হ্রাস পাবে।

এর আগে পিসিটির জন্য ১৪টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন সংগ্রহে ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে আরএসজিটি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে পিসিটিতে ১ লাখ ৪৩ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।

বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে ইইউ,র ১৪ মিলিয়ন ইউরো অনুদান ঘোষণা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অতিরিক্ত ১৪ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে অংশীদারত্বের মেয়াদ নবায়নের মাধ্যমে এই অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে, যা জরুরি মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হবে।

আজ ১৮ জুন ইইউ ও ইউএনএইচসিআরের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই অর্থায়নের আওতায় কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা এবং প্রায় ৭০ হাজার স্থানীয় বাসিন্দা উপকৃত হবেন। বিশেষভাবে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিয়েছে। তাই শুধু জরুরি ত্রাণ নয়, শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জীবিকা অর্জনের সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন ইইউর ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন- বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এমন সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি তাদের সুরক্ষা, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০ জুন উপলক্ষে এই সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ