আজঃ শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬

সেবায় গাফিলতি হলে নেওয়া হবে বিভাগীয় ব্যবস্থা।

রেলওয়ে সেবার মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেছেন-
বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অনবোর্ড সেবার গুণগত মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কোনো ধরনের অবহেলা বা ব্যত্যয় সহ্য করা হবে না। সেবার মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি রাজধানীর রেলভবনের কনফারেন্স কক্ষেববাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবা ও পরিচালনা বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. রুপম আনোয়ার, বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশন) শহিদুল ইসলাম, পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন, সিসিএম মাহবুবুর রহমান, পশ্চিমাঞ্চলের সিসিএম সুজিত কুমার বিশ্বাসসহ অপারেশন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চার বিভাগের বাণিজ্যিক কর্মকর্তারা।

এছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে অনবোর্ড ও ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনাকারী বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বাংলাদেশ রেলওয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সময় সময় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চলন্ত ট্রেনে খাদ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা, আচরণ ও নিরাপত্তা—সবকিছুতেই যাত্রীদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেলওয়ে অনবোর্ড ও ক্যাটারিং সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং সুরুচি ফাস্টফুডের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, “রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা মালিকপক্ষ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব। যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিক থাকবো।

এস.এ কর্পোরেশনের মালিক প্রতিনিধি মতিউর রহমান সম্রাট বলেন, “রেলওয়ের কর্মকর্তারা সবসময় সঠিক নির্দেশনা ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিআরপি ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত টাস্কফোর্স কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”

হাবীব বাণিজ্য বিতানের স্বত্বাধিকারী মামুন হোসেন বলেন, “দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে বিল পরিশোধ না হলেও আমরা যাত্রীসেবা অব্যাহত রেখেছি। ভবিষ্যতেও রেলওয়ের নির্দেশনা মেনে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাব।বলাকা ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি মতিন বলেন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে আমরা সর্বদা আন্তরিকভাবে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন,চলন্ত ট্রেনে যাত্রীসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু কার্যাদেশের শর্ত পূরণ করলেই হবে না, বরং যাত্রীদের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।”
সভায় রেলসেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রস্তাব, যাত্রী নিরাপত্তা জোরদার, অনবোর্ড খাদ্যসেবার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং তদারকি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরো ৫৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে এলো ২ জাহাজ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরো ৫৩ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে দুটি জাহাজ। শনিবার চীন ও ভারত থেকে আসা এসব জাহাজগুলোর স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাসে ২০টি জাহাজে করে মোট ৬ লাখ ৫ হাজার ২২৭ টন জ্বালানি আমদানি করা হয়েছিল।মে মাসেও ১ লাখ টন ক্রুড অয়েলসহ মোট ৬ লাখ টন জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাইড শিপিং লাইনের তথ্যমতে, চীন থেকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘লিলা কিংস্টন’ ১৯ হাজার টন ডিজেল নিয়ে গত শুক্রবার বিকাল ৩টায় বহির্নোঙরে পৌঁছে। শনিবার ভোরে আরো ৩৪ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘প্রাইভেট সোলানা’ এসে কুতুবদিয়া এঙ্করেজে ভিড়েছে। প্রাইড শিপিং লাইনের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম বলেন, ডলফিন জেটিতে বর্তমানে দুটি জাহাজ আছে এবং বহির্নোঙরে অপেক্ষমান আছে আরো দুইটি। একটি জাহাজ থেকে লাইটারিং চলমান আছে। নতুন আরো দুইটি জাহাজ আসায় বর্তমানে বন্দরে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ