এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেছেন-
বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অনবোর্ড সেবার গুণগত মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কোনো ধরনের অবহেলা বা ব্যত্যয় সহ্য করা হবে না। সেবার মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি রাজধানীর রেলভবনের কনফারেন্স কক্ষেববাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবা ও পরিচালনা বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. রুপম আনোয়ার, বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশন) শহিদুল ইসলাম, পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন, সিসিএম মাহবুবুর রহমান, পশ্চিমাঞ্চলের সিসিএম সুজিত কুমার বিশ্বাসসহ অপারেশন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চার বিভাগের বাণিজ্যিক কর্মকর্তারা।

এছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে অনবোর্ড ও ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনাকারী বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বাংলাদেশ রেলওয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সময় সময় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, চলন্ত ট্রেনে খাদ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা, আচরণ ও নিরাপত্তা—সবকিছুতেই যাত্রীদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেলওয়ে অনবোর্ড ও ক্যাটারিং সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং সুরুচি ফাস্টফুডের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, “রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা মালিকপক্ষ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব। যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিক থাকবো।

এস.এ কর্পোরেশনের মালিক প্রতিনিধি মতিউর রহমান সম্রাট বলেন, “রেলওয়ের কর্মকর্তারা সবসময় সঠিক নির্দেশনা ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিআরপি ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত টাস্কফোর্স কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”
হাবীব বাণিজ্য বিতানের স্বত্বাধিকারী মামুন হোসেন বলেন, “দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে বিল পরিশোধ না হলেও আমরা যাত্রীসেবা অব্যাহত রেখেছি। ভবিষ্যতেও রেলওয়ের নির্দেশনা মেনে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাব।বলাকা ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি মতিন বলেন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে আমরা সর্বদা আন্তরিকভাবে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন,চলন্ত ট্রেনে যাত্রীসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু কার্যাদেশের শর্ত পূরণ করলেই হবে না, বরং যাত্রীদের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।”
সভায় রেলসেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রস্তাব, যাত্রী নিরাপত্তা জোরদার, অনবোর্ড খাদ্যসেবার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং তদারকি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।









