আজঃ শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে মহাধুমধামে হলো বট-পাকুড়ের গাছের বিয়ে।

​রেজাউল ইসলাম মাসুদ, জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁওঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সনাতন ধর্মীয় রীতি আর গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে ঠাকুরগাঁওয়ে সম্পন্ন হলো এক ব্যতিক্রমী বিয়ে। পাত্র ‘পাকুড়’ আর পাত্রী ‘বট’। দুই গাছের এই বিয়েকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে সাজ সাজ রব পড়ে যায় সদর উপজেলার ৭নং চিলারং ইউনিয়নের কিসমত পাওয়ার ভাঙ্গা এলাকায়। ​সরেজমিনে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের বিয়ের মতোই আয়োজনের কোনো কমতি ছিল না। প্যান্ডেল সাজানো, উলুধ্বনি আর মন্ত্রপাঠে মুখরিত ছিল কালী মন্দির সংলগ্ন পুকুরপাড়। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী বট গাছকে কনে এবং পাকুড় গাছকে বর হিসেবে গণ্য করে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন পুরোহিত শুভন চক্রবর্তী।

তিনি জানান, মানুষের বিয়ের মতোই সব মন্ত্র পড়ে এই বিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত দুটি গাছ পাশাপাশি ১.৫ থেকে ২ ফিটের মধ্যে থাকলে ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই আয়োজন করা হয়, যা এলাকা ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের জন্য মঙ্গলজনক। ​এই বিয়েতে কনেপক্ষের (বটগাছ) পিতার দায়িত্ব পালন করেন ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র বর্মন (৫৫)। তিনি জানান, চার বছর আগে বট এবং তিন বছর আগে পাকুড় গাছটি লাগানো হয়েছিল। প্রবীণদের পরামর্শে প্রকৃতির মঙ্গল কামনায় তিনি এই আয়োজন করেছেন। অন্যদিকে, বরপক্ষের (পাকুড়গাছ) হয়ে সব দায়িত্ব সামলান ৩নং ওয়ার্ডের বলরাম সরকার। তিনি বলেন, পরিবারের বড় ভাই ও দাদুদের নিয়ে আনুষ্ঠানিভাবে এই বিয়ে দিচ্ছি। উৎসবে কোনো কমতি রাখা হয়নি। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর সহ প্রায় ৪০০ পরিবারকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে এবং সবার জন্য ভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই বিয়ে দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকেও ছুটে আসেন কৌতূহলী মানুষ। ৭নং চিলারং ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, জীবনে প্রথম গাছের বিয়ে দেখলাম। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আর আপ্যায়নের ব্যবস্থা দেখে মুগ্ধ হয়েছি।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বট-পাকুড়ের বিয়ে দিলে গ্রাম থেকে অশুভ শক্তি দূরে থাকে। আধুনিক যুগে যখন বন উজাড় হচ্ছে, তখন প্রকৃতির প্রতি এমন মমত্ববোধ আর পুরনো সংস্কৃতিকে ধরে রাখার এই প্রচেষ্টা স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। রুহিয়া এলাকার এই ঘটনাটি এখন জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোরণ সৃষ্টি করেছে। অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সংবাদকর্মী এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ভিড় জমান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আসামিপক্ষের ‘জেরা’র জবাব দিলেন নিহত আইনজীবী আলিফের পিতা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বহুল আালোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের জেরার জবাব দিয়েছেন মামলার বাদী নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের পিতা জামাল উদ্দিন। বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শুনানি চলাকালে তিনি কথা বলেন। এছাড়া শুনানিকালে আসামি চন্দন কুমার ধর প্রকাশ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য্য পুনরায় সময়ের আবেদন করেন।

যা আদালত মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে আসামি দুর্লভ দাশ ও রুমিত দাশের পক্ষে আইনজীবী কে পি শর্মা জেরা সম্পন্ন করেন। স্বীকারোক্তি প্রদানকারী আসামি রাজীব ভট্টাচার্য্য নিজেই বাদীকে জেরা করেন। অন্য আসামিদের পক্ষ থেকেও সময়ের আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ৯ মার্চ নির্ধারণ করেন।আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন আসামিদের পক্ষে জেরার জন্য দিন ধার্য ছিল। নিহত আইনজীবীর পিতা ও মামলার বাদী জামাল উদ্দিন আদালতে উপস্থিত থেকে জেরার উত্তর দেন। একপর্যায়ে অসুস্থবোধ করায় তিনি চেয়ারে বসেই জেরার জবাব দেন।

শুনানি শেষে বাদীপক্ষের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করলেও বারবার সময় নেওয়ায় মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। ৭৬ বছর বয়সী বাদী অসুস্থ শরীর নিয়ে আদালতে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ছাড়া অন্য সব আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে জেলহাজত থেকে ভার্চুয়ালি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।এর আগে, ২ ফেব্রুয়ারি বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার সাক্ষ্য পর্ব শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে প্রায় ৫০ জন সাক্ষীর তালিকা দিয়েছেন।

চুয়েটে প্রজেক্ট অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের যাত্রা শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)এর গবেষণা ও সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইআইসিটি) এর কারিগরি তত্ত্বাবধানে “ডিআরই (উজঊ) প্রজেক্ট অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম” চালু হয়েছে। উক্ত কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া মহোদয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট পরিচালকবৃন্দ এবং সকল বিভাগীয় প্রধানগণ।

উল্লেখ্য, উক্ত সিস্টেমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে রিসার্চ প্রপোজাল দাখিল, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরীক্ষণ এবং সামগ্রিক গবেষণা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াটি পূর্বের তুলনায় দ্রুত ও সহজসাধ্য হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

আলোচিত খবর

একুশের রক্তাক্ত পথ ধরে অর্জন হয়েছে স্বাধীনতা: তারেক রহমান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন- একুশের রক্তাক্ত পথ ধরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা। মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি দেয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন তারেক রহমান।

একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে শহিদ হন আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বারসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে রচিত হয় শত বছরের শাসন ও শোষণে জর্জরিত তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুক্তির প্রথম সোপান।

তিনি বলেন-মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এআন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেনি, বরং বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিকে করেছে আরো মজবুত ও সুদৃঢ়। একুশের এই রক্তাক্ত পথ ধরেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন- মাতৃভাষার জন্য আমাদের ত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। একুশের চেতনা আজ বিশ্বজুড়ে সকল ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সুরক্ষার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা। এ চেতনাকে ধারণ করে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম পার হয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রের এই অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ