আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে মহাধুমধামে হলো বট-পাকুড়ের গাছের বিয়ে।

​রেজাউল ইসলাম মাসুদ, জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁওঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সনাতন ধর্মীয় রীতি আর গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে ঠাকুরগাঁওয়ে সম্পন্ন হলো এক ব্যতিক্রমী বিয়ে। পাত্র ‘পাকুড়’ আর পাত্রী ‘বট’। দুই গাছের এই বিয়েকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে সাজ সাজ রব পড়ে যায় সদর উপজেলার ৭নং চিলারং ইউনিয়নের কিসমত পাওয়ার ভাঙ্গা এলাকায়। ​সরেজমিনে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের বিয়ের মতোই আয়োজনের কোনো কমতি ছিল না। প্যান্ডেল সাজানো, উলুধ্বনি আর মন্ত্রপাঠে মুখরিত ছিল কালী মন্দির সংলগ্ন পুকুরপাড়। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী বট গাছকে কনে এবং পাকুড় গাছকে বর হিসেবে গণ্য করে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন পুরোহিত শুভন চক্রবর্তী।

তিনি জানান, মানুষের বিয়ের মতোই সব মন্ত্র পড়ে এই বিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত দুটি গাছ পাশাপাশি ১.৫ থেকে ২ ফিটের মধ্যে থাকলে ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই আয়োজন করা হয়, যা এলাকা ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের জন্য মঙ্গলজনক। ​এই বিয়েতে কনেপক্ষের (বটগাছ) পিতার দায়িত্ব পালন করেন ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র বর্মন (৫৫)। তিনি জানান, চার বছর আগে বট এবং তিন বছর আগে পাকুড় গাছটি লাগানো হয়েছিল। প্রবীণদের পরামর্শে প্রকৃতির মঙ্গল কামনায় তিনি এই আয়োজন করেছেন। অন্যদিকে, বরপক্ষের (পাকুড়গাছ) হয়ে সব দায়িত্ব সামলান ৩নং ওয়ার্ডের বলরাম সরকার। তিনি বলেন, পরিবারের বড় ভাই ও দাদুদের নিয়ে আনুষ্ঠানিভাবে এই বিয়ে দিচ্ছি। উৎসবে কোনো কমতি রাখা হয়নি। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর সহ প্রায় ৪০০ পরিবারকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে এবং সবার জন্য ভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই বিয়ে দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকেও ছুটে আসেন কৌতূহলী মানুষ। ৭নং চিলারং ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, জীবনে প্রথম গাছের বিয়ে দেখলাম। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আর আপ্যায়নের ব্যবস্থা দেখে মুগ্ধ হয়েছি।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বট-পাকুড়ের বিয়ে দিলে গ্রাম থেকে অশুভ শক্তি দূরে থাকে। আধুনিক যুগে যখন বন উজাড় হচ্ছে, তখন প্রকৃতির প্রতি এমন মমত্ববোধ আর পুরনো সংস্কৃতিকে ধরে রাখার এই প্রচেষ্টা স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। রুহিয়া এলাকার এই ঘটনাটি এখন জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোরণ সৃষ্টি করেছে। অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সংবাদকর্মী এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ভিড় জমান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাটুরিয়াচালা–লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চলছিল। শনিবার রাতে মাটি পরিবহনের সময় একটি ড্রাম ট্রাক চলাচলের সময় মাসুম নামে ওই যুবক ট্রাকের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ