আজঃ শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম-ফেনীতে র‌্যাবের যৌথ অভিযান, ৪৮ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল জব্দ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোজ্যতেল ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং সরকারি জমি ও ফুটপাথ দখলের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ও ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব সদস্যরা। অভিযানে সাড়ে ৪৮ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল জব্দ ও ১২ একর সরকারি জমি উদ্ধার এবং ফুটপাথের ৯টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া নানা অনিয়মের দায়ে মোট ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। র‌্যাবের চট্টগ্রাম ইউনিটের উদ্যোগে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, বিপিসি ও বিএসটিআইয়ের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।সোমবার র‌্যাব-৭ এর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে ভোজ্যতেল, অকটেন, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং সরকারি জমি ও ফুটপাথ দখল করে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তেল মজুত, অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি এবং স্ট্যাম্পবিহীন ওজন ও পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহারসহ নানা অপরাধের দায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া পণ্যের মেয়াদ না থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন ও মজুত এবং ভুয়া সিল ব্যবহারের দায়ে আরও ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, অভিযানে সরকারি জমি ও ফুটপাথ দখলের অপরাধে অতিরিক্ত ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ১২ একর সরকারি জমি উদ্ধার ও ফুটপাথের ৯টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া লাইসেন্স ছাড়া অপরিশোধিত ফার্নেস অয়েল আমদানি, পরিবহন, মজুত ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েল জব্দ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে ভারতীয় গাঁজাসহ নারী আটক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় গাঁজাসহ এক নারীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (০৮ মে ২০২৬) দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কর্নপুর মাঠের পাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৫ বিজিবি’র একটি বিশেষ টহলদল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে এক নারীকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করতে সক্ষম হন।

আটককৃত নারী মোছাঃ রুবিনা খাতুন (৪০)। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার নায়াডাঙ্গা পোস্টাধীন গোড়কমন্ডল গ্রামের বাসিন্দা এবং মোঃ আকুল উদ্দিনের স্ত্রী।এসময় তার কাছ থেকে ২ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার সিজার মূল্য প্রায় ৭ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটক আসামীর বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর উদ্ধারকৃত গাঁজাসহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য চোরাকারবারীদের শনাক্তে তথ্য সংগ্রহ ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

১৫ বিজিবি’র কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, মানবপাচার ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। চোরাচালানমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারি ও সীমান্ত টহল আরও জোরদার করেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন দুদকের মামলায় একজনের ৩ বছর কারাদণ্ড।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সম্পদ বিবরণী নোটিশ পাওয়ার পরও তা দাখিল না করা এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় একজনকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।দন্ডিত ব্যক্তির নাম হাসান মাঝি প্রকাশ মো. হাছান। হাসান মাঝি আনোয়ারা থানার রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পড়ুয়াপাড়া ছমদ মেম্বারের বাড়ির মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল করিম রনি জানান, ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হাসান মাঝি প্রকাশ মো.হাছানকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা মূলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, দুদকের সম্পদ বিবরণী নোটিশ পাওয়ার পরও তা দাখিল না করা এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩৭ লাখ ৪ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে হাসান মাঝির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। আসামি আইন অমান্য করে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ নিজের দখলে রেখেছেন।

আলোচিত খবর

দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। শুক্রবার সকাল ৮ থেকে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারটিতে পুনরায় পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফ হাসনাত বলেন, কুতুবদিয়ায় অবস্থানরত ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। এর পরপরই চালু করা হয় শোধনাগারটি।ইআরএল সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি। ফলে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে বুধবার দুপুরে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছায়। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকারে তেল খালাস করে পতেঙ্গার ইআরএলে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াকে লাইটারিং বলা হয়।এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা বিপিসির এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের বাকি জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলেরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ