আজঃ শনিবার ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

দাদি-নাতনি’র খুনের বর্ণনা দিলো ডিবি’র কাছে অভিযুক্ত শরীফ।

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় দাদি ও নাতনি কে খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক যুবক কে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে সম্পর্কে নিহত কিশোরীর চাচা।

শরীফ পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, যৌন হয়রানির চেষ্টা ও তাতে নাতনির বাধার কারণে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকেই তিনি জয়নাল খাঁর মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তারকে (১৫) খুন করে। গ্রেফতার শরীফ ও নিহতরা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ঘটনায় জামিলার বোন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা করে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ কাজের তাগিদে প্রায়শই ঢাকার সাভারে তার বড় মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। জামিলা তার দাদি সুফিয়া খাতুনের সঙ্গেই গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতো। ঘটনার সময়ও জামিলার বাবা বাড়িতে ছিলেন না।
পাবনা ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ট্রাক চালক শরিফুল ইসলাম শরীফ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। শরীফ ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

শরীফ এর বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে সে জামিলাদের বাড়িতে বাজার পৌঁছে দিতে যায়। সে সময় সুফিয়া খাতুন বাড়িতে না থাকার সুযোগে তার নাতনিকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। কিশোরী এতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন এবং তাকে চড় মারেন। সেখান থেকে শরীফ অপমানিত হয়ে ফিরে আসে।

এর কয়েকদিন পর, গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে শরীফ আবারও জামিলাদের বাড়িতে যান। এবার তিনি দাদি সুফিয়া খাতুন ও নাতনি জামিলার কাছে পূর্বের ঘটনার জন্য ক্ষমা চায়। তবে সুফিয়া খাতুন তাকে ক্ষমা না করে চিৎকার করেন। এতে শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শরীফ পাশে পড়ে থাকা একটি কাঠের বাটাম দিয়ে সুফিয়া খাতুনের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। বৃদ্ধা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে জামিলা চিৎকার করতে শুরু করে। এতে শরীফ তাকেও কুন্নি (রাজমস্ত্রিদের প্লাস্টার করার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম) দিয়ে জামিলার মাথায় ও কপালে আঘাত করে। জামিলা মাটিতে পড়ে গেলে শরীফ তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশের একটি খোলা সরিষাক্ষেতের দিকে নিয়ে যায়।

মাঝে পুকুর পাড়ে নিয়ে কিশোরী কে ধর্ষণ করে। এরপর গলা টিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ সরিষাক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত ও পরে সরিষা ক্ষেতে জামিলার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ দুটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পরে ​প্রাথমিকভাবে ঈশ্বরদী থানার ওসি মমিনুজ্জামান এবং ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।পাবনা জেলা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান,​হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পাবনা ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। তারা স্থানীয় তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন হিসেবে শরীফুল ইসলাম কে শনিবার রাত ১০টার দিকে আটক করে। ডিবি কার্যালয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে এবং হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কুষ্টিয়ায় রাসেল ভাইপারের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার চরে রাসেল ভাইপার সাপের কামড়ে রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।বুধবার রাতে পদ্মার চর থেকে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। নিহত রবিউল ইসলাম দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ মন্ডলপাড়া গ্রামের জামাল মালিথার ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০ টার দিকে রবিউল ইসলাম পদ্মার চরে নিজ ক্ষেতে কাজে যায়।এ সময় একটি বিষাক্ত সাপ তাকে কামড় দিলে ঘটনাস্থলেই কৃষক রবিউল ইসলামের মৃত্যু হয়। দিন শেষে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে রাত ৯টার দিকে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা পদ্মার চরের নিজ ক্ষেতে কৃষক রবিউল ইসলামকে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রবিউল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের মুখের লালা ও শরীরের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছিল রাসেল ভাইপার সাপের কামড়েই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সাপটি রাসেল ভাইপার কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল ইসলাম তুহিন জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।
প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সাপের কামড়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণে এটি রাসেল ভাইপারের কামড় ছিল কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে দক্ষিণ ফিলিপনগর মন্ডলপাড়া নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে কৃষক রবিউলের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

দুবাইয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা প্রকৌশলী আবু জাফর চৌধুরীর ইন্তেকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


বাংলাদেশ সমিতি আবুধাবির সাবেক সভাপতি, আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক, চট্টগ্রাম বাঁশখালী উপজেলাধীন এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন প্রকৌশলী আবু জাফর চৌধুরী (৭৫) আর নেই। রোববার সন্ধ্যা ৮টার দিকে শারজাহ্ একটি বেসরকারি হাসপাতালে (মেডকেয়ার) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।প্রকৌশলী আবু জাফর চৌধুরী দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তার নেতৃত্বগুণ, আন্তরিকতা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি কমিউনিটির সব স্তরের মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও প্রিয় ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত এবং ছোট ছেলে শারজাহ্ তে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গতকাল ১৫ ০৪ ২০২৬ ইং বুধবার মরহুম প্রকৌশলী ইন্জিনিয়ার আবু জাফর চৌধুরী সি আই পি জায়নাজার নামাজ স্থান সময় বাদে আসর নামাজের পরপরই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ রোড সংলগ্ন এডনক পেট্রল স্টেশনের পাশের মসজিদ।

তার মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও কমিউনিটির সদস্যরা শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।
মরহুমের জন্য দোয়া করা হচ্ছে- মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করা জন্য সবাই দোয়া করেন।

আলোচিত খবর

সমুদ্রপথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ক্যাডেটরা প্রস্তুত: চট্টগ্রামে নৌ পরিবহনমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেরিটাইম খাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ২৮তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ বিকাশ।আপনারা শুধু ব্যক্তি নন, আপনারা জাতির সম্পদ। বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে গিয়ে আপনারা বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরবেন, দেশের সক্ষমতা ও স্মার্টনেস প্রদর্শন করবেন।যারা এই কোর্স সম্পন্ন করে সমুদ্রে যাবেন, তারা নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখেছেন। জাহাজ ব্যবস্থাপনা কিংবা নৌ চলাচল-যেখানেই থাকুন না কেন, দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশই জলভাগ, যা একসময় ছিল দুর্গম। তবে আধুনিক বিশ্ব সেই সীমাবদ্ধতা জয় করেছে।

কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, একমাত্র অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা অনেক সময় বেকারত্ব তৈরি করে। এর বিপরীতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেয়। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত মেরিটাইম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থেকে ইতোমধ্যে হাজারো দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে এই খাত আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের উদ্দেশে তিনি স্বাস্থ্য সচেতনতার কথাও উল্লেখ করেন। দীর্ঘসময় রোদে প্যারেড করার কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া অনুষ্ঠানে মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ ও দক্ষতা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ