আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে: ডিআইজি আহসান হাবীব

নিজস্ব প্রতিবেদক

পৃথক তিনটি মামলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 সন্ত্রাসীদের অভয়ারন্য চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকার পাহাড়ি ও দুর্গম স্থানে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের খুলশী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, সোমবার পরিচালিত এ অভিযানে মোট ৩ হাজার ১৭৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় ৫০০ জন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের প্রায় ১৫০ জন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) প্রায় ৮০০ জন, রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের প্রায় ৪০০ জন, পার্বত্য জেলা থেকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় ১৫০ জন এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) প্রায় ৪০০ জন সদস্য ছিলেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি (আর্মড পার্সোনাল ক্যারিয়ার), সিএমপি ও র‌্যাবের তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল ব্যবহার করে জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম স্থানে একযোগে চিরুনি অভিযান চালানো হয়।

ডিআইজি বলেন, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন আস্তানা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড়ি পথ, গোপন স্থাপনা ও সম্ভাব্য অপরাধীদের অবস্থানস্থলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে মোট তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি দেশীয় পিস্তল, একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি এলজি রয়েছে। এছাড়া ২৭টি দেশীয় তৈরি পাইপগান, তিনটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, অস্ত্র তৈরির ২৭টি পাইপ, ৬১টি কার্তুজ এবং বিভিন্ন ধরনের প্রায় এক হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১১টি ককটেল, ১৮টি হেক্সোব্লেড এবং হাতুড়ি, প্লাস, রেঞ্চ, ড্রিল মেশিনসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি আরো জানান, অভিযানের সময় পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের স্থাপন করা বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার শনাক্ত করা হয়। এসব স্থাপনার মাধ্যমে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত। অভিযানের সময় এসব নজরদারি ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযানের সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং বর্তমানে পুরো এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, আমরা যদিও উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে পাইনি। তবে এলাকায় আমাদের ডমিনেশন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে সেখানে অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দুটি ক্যাম্পই যথেষ্ট। নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট ও টহলের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এলাকায় কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুদের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা সহায়তা পেত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সেখানে যারা বসবাস করছেন, তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। প্রয়োজন হলে পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।এদিকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র-বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা তিনটি করেন পুলিশ আর র‌্যাব-৭।

মামলার বিষয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল জানান, অস্ত্র-বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় ইতোমধ্যে ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় তিনটির অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে করা হয়েছে। মামলা দুইটির বাদী পুলিশ ও একটির বাদী র‌্যাব।
এর আগে গত সোমবার (৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ৩ হাজার ১৮৩ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অভিযান চালিয়ে ছিল।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র মজুদ, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি, অপরাধীদের আশ্রয়স্থল তৈরি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এছাড়া অভিযানকে কার্যকর করতে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি (আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার), র‌্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান সরেজমিনে উপস্থিত থেকে অভিযান তদারকি করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ