আজঃ শুক্রবার ১ মে, ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে: ডিআইজি আহসান হাবীব

নিজস্ব প্রতিবেদক

পৃথক তিনটি মামলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 সন্ত্রাসীদের অভয়ারন্য চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকার পাহাড়ি ও দুর্গম স্থানে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের খুলশী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, সোমবার পরিচালিত এ অভিযানে মোট ৩ হাজার ১৭৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় ৫০০ জন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের প্রায় ১৫০ জন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) প্রায় ৮০০ জন, রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের প্রায় ৪০০ জন, পার্বত্য জেলা থেকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় ১৫০ জন এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) প্রায় ৪০০ জন সদস্য ছিলেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি (আর্মড পার্সোনাল ক্যারিয়ার), সিএমপি ও র‌্যাবের তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল ব্যবহার করে জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম স্থানে একযোগে চিরুনি অভিযান চালানো হয়।

ডিআইজি বলেন, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন আস্তানা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড়ি পথ, গোপন স্থাপনা ও সম্ভাব্য অপরাধীদের অবস্থানস্থলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে মোট তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি দেশীয় পিস্তল, একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি এলজি রয়েছে। এছাড়া ২৭টি দেশীয় তৈরি পাইপগান, তিনটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, অস্ত্র তৈরির ২৭টি পাইপ, ৬১টি কার্তুজ এবং বিভিন্ন ধরনের প্রায় এক হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১১টি ককটেল, ১৮টি হেক্সোব্লেড এবং হাতুড়ি, প্লাস, রেঞ্চ, ড্রিল মেশিনসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি আরো জানান, অভিযানের সময় পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের স্থাপন করা বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার শনাক্ত করা হয়। এসব স্থাপনার মাধ্যমে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত। অভিযানের সময় এসব নজরদারি ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযানের সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং বর্তমানে পুরো এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, আমরা যদিও উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে পাইনি। তবে এলাকায় আমাদের ডমিনেশন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে সেখানে অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দুটি ক্যাম্পই যথেষ্ট। নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট ও টহলের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এলাকায় কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুদের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা সহায়তা পেত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সেখানে যারা বসবাস করছেন, তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। প্রয়োজন হলে পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।এদিকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র-বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা তিনটি করেন পুলিশ আর র‌্যাব-৭।

মামলার বিষয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল জানান, অস্ত্র-বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় ইতোমধ্যে ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় তিনটির অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে করা হয়েছে। মামলা দুইটির বাদী পুলিশ ও একটির বাদী র‌্যাব।
এর আগে গত সোমবার (৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ৩ হাজার ১৮৩ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অভিযান চালিয়ে ছিল।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র মজুদ, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি, অপরাধীদের আশ্রয়স্থল তৈরি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এছাড়া অভিযানকে কার্যকর করতে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি (আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার), র‌্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান সরেজমিনে উপস্থিত থেকে অভিযান তদারকি করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হালদা নদীর চার জায়গায় কার্প-জাতীয় রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ প্রজাতির মা মাছ প্রজনন মৌসুমের প্রথম দফায় নমুনা ডিম ছেড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ও দুপুরে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র এই হালদা নদীর গড়দুয়ারা, আজিমের ঘাট, মাছুয়া ঘোনা ও কাগতিয়া এলাকাসহ কয়েকটি অংশ থেকে নমুনা ডিম সংগ্রহ করেন সংগ্রহকারীরা।ডিম সংগ্রহকারীদের কেউ কেউ ১০০ গ্রাম থেকে ২০০ গ্রাম করে ডিম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আবার দুপুরে এক থেকে দেড় কেজি ডিম পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন জেলে।

হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই এই চার মাস হালদায় কার্প জাতীয় মাছের প্রজনন মৌসুম। এই মৌসুমের যেদিন বজ্রসহ বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নামে, সেদিন ডিম ছাড়ে মা মাছ। প্রজনন মৌসুমে মা মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহের অপেক্ষায় থাকেন ৫০০ থেকে ৭০০ জন সংগ্রহকারী। তবে গত কয়েকবছর ডিমের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় ডিম সংগ্রহকারীর সংখ্যা কমে এসেছে।

হালদা-গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়ার আগে অল্প পরিমাণ ডিম ছাড়ে। এর কারণ ডিমভর্তি মা মাছেরা বজ্রপাতের কারণে বা জোয়ার–ভাটার পানির চাপে কিছু কিছু ডিম ছেড়ে দেয়। এগুলোকে নমুনা ডিম বলি আমরা। নমুনা ডিম পাওয়া গেলে বোঝা যায় পুরোদমে ডিম ছাড়ার সময় আসন্ন।
মৎস্য অধিদফতর জানিয়েছে, এই নদী থেকে গত বছর ১৪ হাজার কেজি মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে আহরণকারীরা। এর আগে ২০২০ সালে রেকর্ডসংখ্যক ২৫ হাজার কেজি ডিম পাওয়া যায়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে মিতসুই অ্যান্ড কোং-এর প্রতিনিধি দলের বৈঠক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাপানের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানির বাংলাদেশের কান্ট্রি চেয়ারম্যান কেনিচিরো কাওয়ামোটো’র নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এর সাথে ঢাকায় সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে উক্ত প্রতিনিধিদল বিস্তারিত আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর সফর করেন। এ সময় তারা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পর্ষদ সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। সাক্ষাতকালে সদস্য (হারবার ও মেরিন) চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন: ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন, রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিং, আইএসপিএস জিরো অবজারভেশন এবং জিরো ওয়েটিং টাইম অর্জনসহ প্রভৃতি উন্নয়ন প্রতিনিধিদলের সামনে তুলে ধরেন ।

বৈঠকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের উন্নয়ন এবং এর বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিৎসুই-এর বিভিন্ন প্রস্তাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় । প্রতিনিধিদলটি চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগ সম্ভাব্যতা ও সুনীল অর্থনীতির উন্নয়নে একসাথে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন মিৎসুই-এর ডেপুটি কান্ট্রি চেয়ারম্যান রেইজি নাকানিশি এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড এনার্জি ডিভিশনের ডেপুটি ম্যানেজার মো. মোহাইমিনুল ইসলাম।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ