আজঃ বুধবার ১১ মার্চ, ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে: ডিআইজি আহসান হাবীব

নিজস্ব প্রতিবেদক

পৃথক তিনটি মামলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 সন্ত্রাসীদের অভয়ারন্য চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকার পাহাড়ি ও দুর্গম স্থানে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের খুলশী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, সোমবার পরিচালিত এ অভিযানে মোট ৩ হাজার ১৭৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় ৫০০ জন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের প্রায় ১৫০ জন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) প্রায় ৮০০ জন, রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের প্রায় ৪০০ জন, পার্বত্য জেলা থেকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় ১৫০ জন এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) প্রায় ৪০০ জন সদস্য ছিলেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি (আর্মড পার্সোনাল ক্যারিয়ার), সিএমপি ও র‌্যাবের তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল ব্যবহার করে জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম স্থানে একযোগে চিরুনি অভিযান চালানো হয়।

ডিআইজি বলেন, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন আস্তানা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড়ি পথ, গোপন স্থাপনা ও সম্ভাব্য অপরাধীদের অবস্থানস্থলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে মোট তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি দেশীয় পিস্তল, একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি এলজি রয়েছে। এছাড়া ২৭টি দেশীয় তৈরি পাইপগান, তিনটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, অস্ত্র তৈরির ২৭টি পাইপ, ৬১টি কার্তুজ এবং বিভিন্ন ধরনের প্রায় এক হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১১টি ককটেল, ১৮টি হেক্সোব্লেড এবং হাতুড়ি, প্লাস, রেঞ্চ, ড্রিল মেশিনসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি আরো জানান, অভিযানের সময় পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের স্থাপন করা বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার শনাক্ত করা হয়। এসব স্থাপনার মাধ্যমে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত। অভিযানের সময় এসব নজরদারি ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযানের সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং বর্তমানে পুরো এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, আমরা যদিও উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে পাইনি। তবে এলাকায় আমাদের ডমিনেশন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে সেখানে অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দুটি ক্যাম্পই যথেষ্ট। নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট ও টহলের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এলাকায় কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুদের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা সহায়তা পেত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সেখানে যারা বসবাস করছেন, তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। প্রয়োজন হলে পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।এদিকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র-বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা তিনটি করেন পুলিশ আর র‌্যাব-৭।

মামলার বিষয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল জানান, অস্ত্র-বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় ইতোমধ্যে ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় তিনটির অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে করা হয়েছে। মামলা দুইটির বাদী পুলিশ ও একটির বাদী র‌্যাব।
এর আগে গত সোমবার (৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ৩ হাজার ১৮৩ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অভিযান চালিয়ে ছিল।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র মজুদ, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি, অপরাধীদের আশ্রয়স্থল তৈরি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এছাড়া অভিযানকে কার্যকর করতে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি (আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার), র‌্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান সরেজমিনে উপস্থিত থেকে অভিযান তদারকি করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

২৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলা ও প্রকৃত ঘটনা গোপনের অভিযোগে করা এক মামলায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।ওই মামলায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ ১০৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল। মামলাটিতে আসামিদের তালিকায় চট্টগ্রামের ২৮ জন সাংবাদিকও ছিলেন।দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংস্থাটি, যা অতি সম্প্রতি জানাজানি হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় বাদীকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য চারবার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি হাজির হননি এবং মামলার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যও দেননি। এমনকি বাদীর বাসায় গিয়ে যোগাযোগ করা হলেও তিনি পরে আর কোনো সাড়া দেননি। তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলায় যেসব ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, তাদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তদন্তে জব্দ করার মতো কোনো আলামতও মেলেনি।

এ বিষয়ে মামলার বাদী হাসিনা মমতাজ বলেন, তিনি বাড়িতে ছিলেন এবং তার ভাই পিবিআই কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশের এই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরোধিতা করে তিনি দাবি করেন, পুলিশ এভাবে প্রতিবেদন দিতে পারে না এবং তিনি এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরের মোহরা সায়রা খাতুন কাদেরিয়া গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হাসিনা মমতাজ আদালতে এই মামলাটি করেছিলেন। পরে আদালত পিবিআইকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনের সময় সাংবাদিকেরা প্রকৃত ঘটনা গোপন করে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করেছিলেন। গত ৪ আগস্ট নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থানকালে বাদী দেখেন আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলি চালাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা গলিতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে কয়েকজন সাংবাদিক তাদের মারধর করে আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে তুলে দেন এবং উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ পরিবেশন করেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

মামলায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ছাড়াও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর মা ও চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৮ জন সাংবাদিক এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এ ছাড়া আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

চট্টগ্রাম নগরে ৫ হাজার ৫৭৫ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেয়া হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে এই নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়ন করে প্রমাণ করেছে যে, নেতৃত্ব ঠিক থাকলে সব সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড একটি স্মার্ট কার্ড। ভবিষ্যতে জাতীয় সব সুযোগ-সুবিধা এই কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

এছাড়া কৃষকদের কল্যাণে ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি কার্ডের মতো আরও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম নগরের ৫ হাজার ৫৭৫ জন নারীর হাতে এই কার্ড তুলে দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন।

আমির খসরু বলেন, আমাদের সীমিত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আমরা এই ঝুঁকি নিয়েছি। এই কার্ড বিতরণে কোনো দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি। সরকারি কর্মকর্তারা নির্দ্বিধায় ও স্বাধীনভাবে কাজ করে হতদরিদ্রদের খুঁজে বের করেছেন।

তিনি বলেন, পরিবারের নারী প্রধানকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী না করলে আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মহিলারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবারের সব দায়িত্ব পালন করলেও তাদের এই সেবার যথাযথ মূল্যায়ন আগে কখনো হয়নি। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান ঘোষিত এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোকে মূল্যায়নের জন্য গৃহকর্তীদের বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা পৌঁছে যাচ্ছে, যা তাদের হাতে একটি অর্থনৈতিক শক্তি তৈরি করবে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ