এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ডিসি হিলে ‘অবশ্যই অনুষ্ঠান হবে’ বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।বুধবার বিকেলে ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ার সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্প উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে কিনা–এ প্রশ্নে জেলা প্রশাসক বলেন, “ডিসি হিলের এই নজরুল স্কয়ারের একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আছে।
সেই কর্মকাণ্ড যাতে আরো বেগবান হয়, এজন্যই আমরা এটাকে সুন্দরভাবে সাজাচ্ছি।“লিমিটেশন হচ্ছে, এখানে যে স্পেস আছে স্পেসের বেশি তো আমরা দিতে পারব না। একটা প্রতিষ্ঠান একদিন একটা অনুষ্ঠান করবে। পরের দিন আরেকটা করবে। কিন্তু একসাথে দুই তিনটা প্রতিষ্ঠান আসলে তো করতে পারবে না। এটাই লিমিটেশন।তিনি বলেন-অবশ্যই প্রোগ্রাম হবে। প্রোগ্রাম হচ্ছে তো। অনুষ্ঠান এখনো হচ্ছে, সামনেও হবে। এই জায়গা লিমিটেড স্পেস। এই জায়গার মধ্যে যতগুলো সম্ভব। একটা জায়গায় তো দশটা গোষ্ঠী এসে করতে পারবে না একই সময়ে। একটার পর একটা এভাবে করতে হবে।এদিন ডিসি হিলের পূর্ব প্রান্তে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নতুন স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন-এই পার্কের এরিয়া মূলত একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। নজরুল স্কয়ার স্থাপন করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় রাস্তা অনেক উঁচু হয়ে গিয়েছিল। ওয়াকওয়ে অনেক বেশি উঁচু হয়ে যায়। বিদ্রোহী কবির মনুমেন্ট অনেক নিচু হয়েছিল। অন্ধকারাচ্ছন্ন ও জীর্নশীর্ন অবস্থায় পড়ে ছিল।“তখনই মনে হয়েছে, ভবিষ্যতে আবারও যদি কখনো কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়, তাহলে তিনি অনুপ্রেরণা হবেন। উনাকে সেই সম্মানের জায়গায় রাখতে হবে। সে লক্ষ্যে নতুনভাবে সাজিয়েছি। যাতে তরুণ প্রজন্ম দেখতে পারে কার লেখনী তাদের আন্দোলিত করছে।
তিনি বলেন-ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নজরুল ছিলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও তার প্রাসঙ্গিকতা তেমনই ছিল। নব্বইয়ের আন্দোলনেও তার প্রাসঙ্গিকতা তেমন ছিল। আবার চব্বিশের আন্দোলনেও বিদ্রোহী কবির প্রাসঙ্গিকতা একই রকম ছিল।
বিদ্রোহী কবি, সাম্যের কবি, গণজাগরণের কবি, আমাদের জাতীয় কবি। তরুণ প্রজন্ম বারংবার তার লেখনি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের যত অর্জন তাতে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তার লেখনী।”ডিসি হিলের পুরো এলাকা সিসি ক্যামরার আওতায় আনা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন-এখানে বয়স্করা সকালে হাঁটতে আসেন। অনেকে বেড়াতে আসেন। এজন্য পুরো জায়গাটা পরিষ্কার করেছি। বসার ব্যবস্থা করেছি। সামনে একটি ওয়াশ ব্লক করা হবে। যাতে সুন্দরভাবে আরামদায়ক পরিবেশে মানুষ রিক্রিয়েশন পায়।
২০১৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে

অপরিচ্ছন্নতার’ কারণ দেখিয়ে সেসময়ের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ডিসি হিলে বছরে তিনটি ছাড়া অন্য অনুষ্ঠান আয়োজন না করার আহ্বান জানান। ওই তিন অনুষ্ঠান হল- পহেলা বৈশাখ এবং রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী।এরপর থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ডিসি হিলে আর কোনো সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া বন্ধ রাখা হয়।এর প্রতিবাদে ‘সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজ’ ও যুব ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আন্দোলনে নামে। ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানায়।এরপর প্রায় পাঁচ মাস পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের একটি আবৃত্তি সংগঠন ডিসি হিলে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি পায়। তবে এরপর আর উল্লেখযোগ্য কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।২০১৮ সালের ২৫ জুলাই চট্টগ্রামের এক অনুষ্ঠানে সে সময়ের সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এ নিয়ে ক্ষোভ জানালেও ডিসি হিল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উন্মুক্ত হয়নি।
সবশেষ গত বছর ডিসি হিলে ‘সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদকে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু পহেলা বৈশাখের আগের রাতে হামলা চালিয়ে মঞ্চ ভাংচুরের পর সেই অনুষ্ঠান আর হয়নি।চট্টগ্রামের ডিসি হিলে উন্মুক্ত মঞ্চের পাশাপাশি পাহাড়ের চূড়ায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবন রয়েছে।ইতোপূর্বে বলা হয়েছিল, ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাইকের আওয়াজে তাদের পারিবারিক জীবনের ব্যাঘাত ঘটায়।











