আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অবশ্যই হবে: আশ্বস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ডিসি হিলে ‘অবশ্যই অনুষ্ঠান হবে’ বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।বুধবার বিকেলে ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ার সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্প উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে কিনা–এ প্রশ্নে জেলা প্রশাসক বলেন, “ডিসি হিলের এই নজরুল স্কয়ারের একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আছে।

সেই কর্মকাণ্ড যাতে আরো বেগবান হয়, এজন্যই আমরা এটাকে সুন্দরভাবে সাজাচ্ছি।“লিমিটেশন হচ্ছে, এখানে যে স্পেস আছে স্পেসের বেশি তো আমরা দিতে পারব না। একটা প্রতিষ্ঠান একদিন একটা অনুষ্ঠান করবে। পরের দিন আরেকটা করবে। কিন্তু একসাথে দুই তিনটা প্রতিষ্ঠান আসলে তো করতে পারবে না। এটাই লিমিটেশন।তিনি বলেন-অবশ্যই প্রোগ্রাম হবে। প্রোগ্রাম হচ্ছে তো। অনুষ্ঠান এখনো হচ্ছে, সামনেও হবে। এই জায়গা লিমিটেড স্পেস। এই জায়গার মধ্যে যতগুলো সম্ভব। একটা জায়গায় তো দশটা গোষ্ঠী এসে করতে পারবে না একই সময়ে। একটার পর একটা এভাবে করতে হবে।এদিন ডিসি হিলের পূর্ব প্রান্তে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নতুন স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন-এই পার্কের এরিয়া মূলত একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। নজরুল স্কয়ার স্থাপন করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় রাস্তা অনেক উঁচু হয়ে গিয়েছিল। ওয়াকওয়ে অনেক বেশি উঁচু হয়ে যায়। বিদ্রোহী কবির মনুমেন্ট অনেক নিচু হয়েছিল। অন্ধকারাচ্ছন্ন ও জীর্নশীর্ন অবস্থায় পড়ে ছিল।“তখনই মনে হয়েছে, ভবিষ্যতে আবারও যদি কখনো কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়, তাহলে তিনি অনুপ্রেরণা হবেন। উনাকে সেই সম্মানের জায়গায় রাখতে হবে। সে লক্ষ্যে নতুনভাবে সাজিয়েছি। যাতে তরুণ প্রজন্ম দেখতে পারে কার লেখনী তাদের আন্দোলিত করছে।

তিনি বলেন-ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নজরুল ছিলেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও তার প্রাসঙ্গিকতা তেমনই ছিল। নব্বইয়ের আন্দোলনেও তার প্রাসঙ্গিকতা তেমন ছিল। আবার চব্বিশের আন্দোলনেও বিদ্রোহী কবির প্রাসঙ্গিকতা একই রকম ছিল।

বিদ্রোহী কবি, সাম্যের কবি, গণজাগরণের কবি, আমাদের জাতীয় কবি। তরুণ প্রজন্ম বারংবার তার লেখনি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের যত অর্জন তাতে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তার লেখনী।”ডিসি হিলের পুরো এলাকা সিসি ক্যামরার আওতায় আনা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন-এখানে বয়স্করা সকালে হাঁটতে আসেন। অনেকে বেড়াতে আসেন। এজন্য পুরো জায়গাটা পরিষ্কার করেছি। বসার ব্যবস্থা করেছি। সামনে একটি ওয়াশ ব্লক করা হবে। যাতে সুন্দরভাবে আরামদায়ক পরিবেশে মানুষ রিক্রিয়েশন পায়।
২০১৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে

অপরিচ্ছন্নতার’ কারণ দেখিয়ে সেসময়ের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ডিসি হিলে বছরে তিনটি ছাড়া অন্য অনুষ্ঠান আয়োজন না করার আহ্বান জানান। ওই তিন অনুষ্ঠান হল- পহেলা বৈশাখ এবং রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী।এরপর থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ডিসি হিলে আর কোনো সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া বন্ধ রাখা হয়।এর প্রতিবাদে ‘সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজ’ ও যুব ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আন্দোলনে নামে। ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানায়।এরপর প্রায় পাঁচ মাস পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের একটি আবৃত্তি সংগঠন ডিসি হিলে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি পায়। তবে এরপর আর উল্লেখযোগ্য কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।২০১৮ সালের ২৫ জুলাই চট্টগ্রামের এক অনুষ্ঠানে সে সময়ের সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এ নিয়ে ক্ষোভ জানালেও ডিসি হিল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য উন্মুক্ত হয়নি।

সবশেষ গত বছর ডিসি হিলে ‘সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদকে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু পহেলা বৈশাখের আগের রাতে হামলা চালিয়ে মঞ্চ ভাংচুরের পর সেই অনুষ্ঠান আর হয়নি।চট্টগ্রামের ডিসি হিলে উন্মুক্ত মঞ্চের পাশাপাশি পাহাড়ের চূড়ায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের বাসভবন রয়েছে।ইতোপূর্বে বলা হয়েছিল, ডিসি হিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাইকের আওয়াজে তাদের পারিবারিক জীবনের ব্যাঘাত ঘটায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ