আজঃ শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম থেকেই স্বাধীনতার ডাক এসেছিল : বিভাগীয় কমিশনার।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গণহত্যার শিকার হয়েছিল। এই হত্যাকান্ডের সূত্র ধরে চট্টগ্রাম থেকেই মহান স্বাধীনতার ডাক এসেছিল। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধকে সফল করে বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা ৯ মাস ধরে যে যুদ্ধ করেছিলেন সে জন্য কৃতজ্ঞতার দাবীদার সেটি কখনো জানিয়ে শেষ করা যাবেনা। এ জন্য চট্টগ্রাম গৌরবের জায়গা। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সর্বোচ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিশিষ্ট ব্যক্তি/ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ২৫ মার্চ গণহত্যা, ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক আলাচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, বর্তমানে যারা সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী পর্যায়ের যারা রয়েছি তারা প্রত্যেকে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মের। মহান স্বাধীনতাকে কিভাবে দেখলাম, আপনাদের কাছ থেকে কি শেখলাম-তা নতুন প্রজন্মকে জানাতে না পারলে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ সফল হবে না।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্য আমাদের এখন সময় এসে গেছে। আগামীতে বৈষম্যহীন নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে সকলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ট বসতিপূর্ণ স্থান হিসেবে শ্রেষ্ট রাষ্ট্রের মর্যাদা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি সে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ সফিজুল ইসলাম, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ ফয়সাল আহমদ, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম। গণহত্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল্লাহ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এএইচএম জিলানী চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দিলীপ কান্তি দাশ। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, নিরস্ত্র বাঙালিদের নিশ্চিহ্ন করতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকাসহ সারা দেশে গণহত্যা চালায়, যা আমরা ‘কালো রাত’ হিসেবে জানি। গণহত্যা করে পৃথিবীতে কেউ রক্ষা পায় না। যারা এ ধরণের অপরাধ করে তারা শেষ পর্যন্ত পরাজিত শক্তিতে পরিণত হয়। জন্মভূমির জন্য আত্মত্যাগ শহিদী মর্যাদা এনে দেয়। দেশপ্রেম, মানবপ্রেম ও সেবাকে ব্রত ধারণ করে সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, ‘২৫ মার্চ আমাদের জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিন। শহীদদের ত্যাগ এবং সাহস আমাদের জন্য চিরস্মরণীয়। এ দিনটি আমাদের ইতিহাসের সত্য উদঘাটন করে আগামী প্রজন্মকে শিক্ষিত করার দায়িত্ব দেয়। গণহত্যার স্মৃতিকে ধরে রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। এটি শুধুমাত্র অতীতকে স্মরণ করা নয়, বরং একটি ন্যায়পরায়ণ ও শক্তিশালী সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতিও বয়ে আনে। সভায় বিভিন্ন বক্তারা বীর শহীদদের ত্যাগ স্মরণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২জন নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।উপজেলার বেনিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন— নাচোল উপজেলার আজিপুর গ্রামের সালামের ছেলে মো. সোহাগ (১৭) এবং শিবগঞ্জ উপজেলার বালুটঙ্গি গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে রবিউল আওয়াল জিসান (২৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরবেলা সোহাগ ও জিসান মোটরসাইকেলে করে আজিপুর থেকে ধানসুরার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বেনিপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই আরোহীর মৃত্যু হয়।

নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ট্রাকটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।াঅ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে বিজিবি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৭ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ টহলদল এ অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি সূত্র জানায়, মনোহরপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের রামনাথপুর গ্রামে টহল চলাকালে একজন চোরাকারবারী বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি বস্তার ভেতর থেকে ২৭ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪১ হাজার টাকা।জব্দকৃত মদ শিবগঞ্জ থানায় জমা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান (পিএসসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে।তিনি আরও জানান, বর্তমানে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত ও নদীপথে অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট কার্যক্রম এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। শুক্রবার সকাল ৮ থেকে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারটিতে পুনরায় পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফ হাসনাত বলেন, কুতুবদিয়ায় অবস্থানরত ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। এর পরপরই চালু করা হয় শোধনাগারটি।ইআরএল সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি। ফলে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে বুধবার দুপুরে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছায়। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকারে তেল খালাস করে পতেঙ্গার ইআরএলে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াকে লাইটারিং বলা হয়।এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা বিপিসির এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের বাকি জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলেরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ