আজঃ মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম থেকেই স্বাধীনতার ডাক এসেছিল : বিভাগীয় কমিশনার।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গণহত্যার শিকার হয়েছিল। এই হত্যাকান্ডের সূত্র ধরে চট্টগ্রাম থেকেই মহান স্বাধীনতার ডাক এসেছিল। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধকে সফল করে বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা ৯ মাস ধরে যে যুদ্ধ করেছিলেন সে জন্য কৃতজ্ঞতার দাবীদার সেটি কখনো জানিয়ে শেষ করা যাবেনা। এ জন্য চট্টগ্রাম গৌরবের জায়গা। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সর্বোচ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিশিষ্ট ব্যক্তি/ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ২৫ মার্চ গণহত্যা, ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক আলাচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, বর্তমানে যারা সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী পর্যায়ের যারা রয়েছি তারা প্রত্যেকে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মের। মহান স্বাধীনতাকে কিভাবে দেখলাম, আপনাদের কাছ থেকে কি শেখলাম-তা নতুন প্রজন্মকে জানাতে না পারলে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ সফল হবে না।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্য আমাদের এখন সময় এসে গেছে। আগামীতে বৈষম্যহীন নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে সকলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ট বসতিপূর্ণ স্থান হিসেবে শ্রেষ্ট রাষ্ট্রের মর্যাদা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি সে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ সফিজুল ইসলাম, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ ফয়সাল আহমদ, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম। গণহত্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল্লাহ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এএইচএম জিলানী চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দিলীপ কান্তি দাশ। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, নিরস্ত্র বাঙালিদের নিশ্চিহ্ন করতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকাসহ সারা দেশে গণহত্যা চালায়, যা আমরা ‘কালো রাত’ হিসেবে জানি। গণহত্যা করে পৃথিবীতে কেউ রক্ষা পায় না। যারা এ ধরণের অপরাধ করে তারা শেষ পর্যন্ত পরাজিত শক্তিতে পরিণত হয়। জন্মভূমির জন্য আত্মত্যাগ শহিদী মর্যাদা এনে দেয়। দেশপ্রেম, মানবপ্রেম ও সেবাকে ব্রত ধারণ করে সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, ‘২৫ মার্চ আমাদের জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিন। শহীদদের ত্যাগ এবং সাহস আমাদের জন্য চিরস্মরণীয়। এ দিনটি আমাদের ইতিহাসের সত্য উদঘাটন করে আগামী প্রজন্মকে শিক্ষিত করার দায়িত্ব দেয়। গণহত্যার স্মৃতিকে ধরে রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। এটি শুধুমাত্র অতীতকে স্মরণ করা নয়, বরং একটি ন্যায়পরায়ণ ও শক্তিশালী সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতিও বয়ে আনে। সভায় বিভিন্ন বক্তারা বীর শহীদদের ত্যাগ স্মরণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রূপগঞ্জের এশিয়ান হাইওয়ে নীলভিটা টোলপ্লাজায় সড়কে ধস, ঝুঁকিতে যানবাহন ও পথচারী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের নীলভিটা টোলপ্লাজা এলাকায় অতিবর্ষনে সড়কের নীচের মাটি সরে বড় ধরনের ধসের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যস্ত এই মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে হঠাৎ করে সড়কের একাংশ নিচের দিকে দেবে যাওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে অন্যাংশে চলাচল করছেন হাজারো যানবাহন ও পথচারী। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম জামান জানান,
কয়েকদিন ধরে সড়কের নীচের অংশ ধীরে ধীরে সরে যেতে শুরু করে। বর্তমানে সেখানে রাস্তার নীচে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সড়ক কাঁপতে থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে চালক ও সাধারণ মানুষের মাঝে।
সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করার কারণেই এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। দুর্ঘটনা রোধে
অবিলম্বে সড়ক সংস্কার, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার কারণেই এই ধসের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। ফলে সামান্য অসতর্কতায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় পথচারী ও পরিবহন চালকরা জানান, রাতের বেলায় ধসে যাওয়া অংশটি স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। অনেক মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহন চালক অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলেও জানা গেছে।

টাংগাইলে ট্রাক উল্টে খাদে পড়ে ১৫ জন ঘটনাস্থলেই নিহত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর জোগারচর সড়াতৈল এলাকায় রড বোঝাই ট্রাক উল্টে খাদে পড়ে ১৫ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন আর আহত হয়েছেন ১০ জন।নিহত ১৫ জনের ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ভারশো ইউনিয়নের রাজেন্দ্রবাটি ও চিকলাভোলা এলাকার। মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার জাহান সাথী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।৪বাকি দুইজনের বাড়ি রাজশাহীর চাপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস। নিহত আহতরা সকলেই রড বোঝাই ট্রাক যোগে উত্তর বঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন। সোমবার ভোর ৫ টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আলোচিত খবর

পবিত্র ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, ২৩ মে।শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি থাকছে। তবে ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে আগামীকাল শনিবারের ২৩ মে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ঈদের ছুটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এর আগে ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও পরদিন ২৪ মে রোববার অফিসগুলো খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ