আজঃ শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬

যশোরে উদ্ধার হওয়া প্রাইভেটকারকে ঘিরে রহস্য

ইয়ানূর রহমান

???????
সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যশোরে উদ্ধার হওয়া প্রাইভেটকারকে ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে, যার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে সোনা পাচারসহ হুমকি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ। গাড়িটির মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে।

মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিরা খাতুন নিজেকে গাড়িটির মালিক দাবি করেছেন। তিনি জানান, তার স্বামী আলী আহমেদ, যিনি নিজেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসেবে পরিচয় দিতেন, গত ৫ জানুয়ারি মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই বেনাপোল এলাকার ‘গোল্ড শহিদ’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা তাকে ফোনে হুমকি দিতে শুরু করে। তাদের দাবি, আলী আহমেদ তাদের অনেক সোনার বার আত্মসাৎ করেছেন এবং সেগুলো ফেরত দিতে হবে। না হলে তাকে ও তার ছেলেকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

হিরা খাতুন আরও জানান, ক্রমাগত হুমকির মুখে তিনি একপর্যায়ে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। এসব সোনা বা বিরোধের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেন। প্রাইভেটকারটি ফেরত পেতে তিনি আদালতের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হিরা খাতুনের ছেলে ফাইমুর রহমান সান, যিনি যশোর আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের শিক্ষার্থী, গত ৮ জানুয়ারি শহরের আরবপুর এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের শিকার হন। অজ্ঞাত ৩-৪ জন ব্যক্তি তার চোখ বেঁধে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং তার ব্যবহৃত একটি আইফোন ও প্রাইভেটকারটি ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পরে পুলিশি তৎপরতায় মাগুরা থেকে গাড়িটি উদ্ধার করে যশোরে আনা হয়। জানা যায়, গাড়িটি আইনজীবী কল্লোল নামে এক ব্যক্তির কাছে ছিল। তিনি শনিবার রাত ৮টার দিকে গাড়িটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে গাড়িটি কোতোয়ালি থানার হেফাজতে রয়েছে।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, আলী আহমেদ নিজেই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ওই প্রাইভেটকার ব্যবহার করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে সোনা পাচারে ভূমিকা রাখতেন। বেনাপোলের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সুযোগ বুঝে তিনি কিছু সোনার বার আত্মসাৎ করেছিলেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।পুলিশের ধারণা, তার মৃত্যুর পর সেই সোনা উদ্ধারে চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং এরই অংশ হিসেবে গাড়িটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, “মূলত দুই পক্ষের মধ্যে অর্থনৈতিক লেনদেন ছিল। সেই সূত্রে একটি পক্ষ গাড়িটি নিজেদের হেফাজতে নেয়, যা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ গাড়িটি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রকৃত মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারলে গাড়িটি তার জিম্মায় দেওয়া হবে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।#

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি দোকানে ড্রেসিং, মানুষ ক্যান্সার জীবাণুর ঝুঁকিতে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় সদবাজার ও চন্দ্রা এলাকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগ উঠেছে। একই পানিতে দীর্ঘসময় ধরে শত শত মুরগি ড্রেসিং করায় জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাজারের মুরগি পট্টিতে একাধিক দোকানে গ্যাসের চোলাই গরম পানি দিয়ে পানিতে মুরগি চুবাচ্ছেন। পাশে ময়লাযুক্ত ড্রেসিং মেশিন ও ঝাড়ু পড়ে আছে। মেঝে কাদা-পানিতে একাকার। মেঝেতে বসে মুরগির পালক ছাড়ানো হচ্ছে, খাঁচায় গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে জীবন্ত মুরগি, আরেকজন কর্মচারী ড্রামের পানিতে মুরগি ধুচ্ছেন। পুরো জায়গাটি নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে। এক ড্রামে ৩০০ মুরগি, পানি বদলানোর বালাই নেই।
সরেজমিনে সদর বাজারসহ মুরগি পট্টিতে গিয়ে দেখা যায় ১৫-২০টি দোকানে একই চিত্র। প্রতিটি দোকানের সামনে বড় ড্রামে পানি গরম করা হচ্ছে। সকাল ৭টায় গরম করা পানি দিয়েই সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০০-৩০০ মুরগি ড্রেসিং করা হয়। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে পানি কালো হয়ে যায়, ভেসে ওঠে রক্ত, পালক ও নাড়িভুঁড়ির অংশ। তীব্র দুর্গন্ধে টেকা দায়।

এক মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, ঘন ঘন পানি বদলাইতে গেলে গ্যাস বেশি লাগে, সময়ও নষ্ট হয়। কাস্টমার দাঁড়াইয়া থাকে। সকালের পানিই সারাদিন চালাই। সবাই তো এমনে করে। বাজারে মুরগি কিনতে আসা স্কুল শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, চোখের সামনে দেখতেছি কালো পানিতে মুরগি চুবাইতেছে। গন্ধে বমি আসে। বাসায় নিয়া আবার গরম পানি, লবণ, ভিনেগার দিয়া ধুই। তবুও ভয় লাগে। বাচ্চারা খায়। এইভাবে রোগজীবাণু ছড়াইতেছে।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বলেন, একই পানিতে শত শত মুরগি ড্রেসিং করলে সালমোনেলা, ই-কোলাই, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর ও কলেরার জীবাণু সহজেই ছড়ায়। একটা অসুস্থ মুরগির জীবাণু বাকি সব মুরগিতে যায়। এই মাংস খেলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ফুড পয়জনিং, এমনকি কিডনি বিকলও হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এই বিষয়টি খুব স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা ইউএনও মহোদয়ের অনুমতিক্রমে এসিল্যান্ড মহোদয়কে সাথে নিয়ে দ্রুত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যেসব দোকানে এই ধরনের কার্যক্রম করে তাদের তথ্য আপনারা দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হোসাইন বলেন, “জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ ধরনের কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। প্রানী সম্পদ অফিসার কে সাথে নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও দোকান সিলগালা করা হবে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও কার্যকর নজরদারির অভাবে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত তদারকি জোরদার করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২জন নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।উপজেলার বেনিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন— নাচোল উপজেলার আজিপুর গ্রামের সালামের ছেলে মো. সোহাগ (১৭) এবং শিবগঞ্জ উপজেলার বালুটঙ্গি গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে রবিউল আওয়াল জিসান (২৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরবেলা সোহাগ ও জিসান মোটরসাইকেলে করে আজিপুর থেকে ধানসুরার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বেনিপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই আরোহীর মৃত্যু হয়।

নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ট্রাকটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।াঅ

আলোচিত খবর

দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হলো ইস্টার্ন রিফাইনারি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দীর্ঘ ২১ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে উৎপাদনে ফিরেছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। শুক্রবার সকাল ৮ থেকে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারটিতে পুনরায় পরিশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফ হাসনাত বলেন, কুতুবদিয়ায় অবস্থানরত ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল রিফাইনারিতে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। এর পরপরই চালু করা হয় শোধনাগারটি।ইআরএল সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি। ফলে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে বুধবার দুপুরে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি কুতুবদিয়া চ্যানেলে এসে পৌঁছায়। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশে আসা প্রথম ক্রুড অয়েলের চালান। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি বাংলাদেশে আসে। ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়তে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকারে তেল খালাস করে পতেঙ্গার ইআরএলে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়াকে লাইটারিং বলা হয়।এদিকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামের আরেকটি জাহাজে থাকা বিপিসির এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের বাকি জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন ও জেট ফুয়েলেরও উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ