আজঃ শুক্রবার ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষায় চট্টগ্রামে আসছে আরও ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থায় দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সৌদি আরব থেকে নতুন করে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল কেনা হয়েছে। এই নতুন আমদানিকৃত তেল লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হবে বলে জানা গেছে। একই সাথে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) দ্রুত ছাড় করিয়ে আনতে ইরানের সঙ্গে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহা-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, এই পরিমাণ জ্বালানি দেশে পৌঁছালে সংকট অনেকটা কাটলেও বাড়তি চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে আরও ডিজেল আমদানির প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত মার্চ মাসে বিকল্প উৎস থেকে অন্তত ৩৯টি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের তৎপরতারই প্রতিফলন।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যে এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি দেশে পৌঁছালে চলমান সংকট অনেকটাই লাঘব হবে। বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামক একটি জাহাজে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। জাহাজটি বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না।যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ৬টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, তবে এই তেলের জাহাজটি সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

এ বিষয়ে বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, এই জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয় করা হয়েছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা চলছে। জাহাজটি অনুমতি পেলে সরাসরি চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবে। হরমুজ প্রণালির এই জটিলতা এড়াতে এবার ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে বাংলাদেশ। নতুন করে কেনা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল লোহিত সাগরের কাছাকাছি অবস্থিত সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় তেল পরিবহনে কোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা নেই।

ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০ এপ্রিল এই তেল জাহাজে লোড করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজ মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্টিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই তেল রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের পর বাজারজাত করা হবে।পরিশোধন প্রক্রিয়ার পর এই ২ লাখ মেট্টিক টন ক্রুড অয়েল থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ৫২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৩২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৪৮ হাজার মেট্টিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ গত রোববার ১২ এপ্রিল বিকালে তেল পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এরপর ক্রুড তেলের সংকটের কারণে মজুত ক্রুড তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে এমনটাই জানা যায়।

পরিশোধনের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয় সংকট মোকাবিলায় মার্চ মাস থেকেই। যেখানে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করা হতো, সেখানে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মজুত শেষ হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

ভূটানের মান্যবর রাষ্ট্রদূতের চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত কিংডম অব ভূটান এর রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম বন্দরে আগমন করেন। চট্টগ্রাম বন্দরে পেৌছালে মাননীয় চেয়ারম্যান চবক, রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, ওএসপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। এসময় চেয়ারম্যান তাঁর সময়কালে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন অগ্রগতির বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। চেয়ারম্যান আনন্দের সাথে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর কন্টেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিং এ রের্কড গড়াসহ, জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্যে নামানো, অটোমেশন এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত এবং ISPS টিম কর্তৃক জিরো অবজারভেশন অর্জনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

মান্যবর রাষ্ট্রদূত চবক এর সাফল্যে অভিভূত হন এবং চেয়ারম্যান, চবক কে ভূটান সরকারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। মান্যবর রাষ্ট্রদূত ইতোপূর্বে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ভূটানে কন্টেইনার প্রেরনের বিষয়ে সহযোগিতার জন্য চবক চেয়ারম্যানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহার করে ভূটানের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম আরো গতিশীল করা সম্ভব হবে। পরিশেষে মান্যবর রাষ্ট্রদূত ও চেয়ারম্যান, চবক দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে ভবিষ্যতে দুদেশের সম্পর্ককে আরো উচ্চতায় নিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে মান্যবর রাষ্ট্রদূত বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সরেজমিনে পরির্দশন করেন এবং কার্যক্রম দেখে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ