আজঃ শুক্রবার ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীতে তলিয়ে গেছে ট্রাক।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের কালুরঘাটে ফেরি না থাকা সত্ত্বেও সামনে এগোতে গিয়ে কর্ণফুলী নদীতে একটি ট্রাক তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে কালুরঘাটের বোয়ালখালী অংশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রাকটি রড বোঝাই করে লোহাগাড়া উপজেলায় পণ্য পৌঁছে দিয়ে খালি অবস্থায় চট্টগ্রাম শহরে ফিরছিল। ফেরার পথে কালুরঘাটে পৌঁছালে সেখানে কোনো ফেরি ছিল না। এরপরও ট্রাকটি সামনে এগিয়ে যেতে থাকে এবং একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কর্ণফুলী নদীতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় চালক মো. ওসমান ট্রাক থেকে নদীতে লাফ দিয়ে প্রাণে বাঁচেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। প্রথম দিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ ট্রাকটিতে চালক ছাড়া আরও একজন থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে পরে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রশাসন নিশ্চিত হয়, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকে চালক ছাড়া অন্য কেউ ছিলেন না। এ কারণে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাদের উদ্ধারকাজে নামতে হয়নি।
আহত চালক মো. ওসমান কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার অলক চাকমা বলেন, দুর্ঘটনার সময় ঘাটে কোনো ফেরি ছিল না। তারপরও ট্রাকটি সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় এ ঘটনা ঘটে। চালক পরিস্থিতি বুঝতে পেরে নদীতে লাফ দেন, এতে তিনি বুকে ও মাথায় আঘাত পান।তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে ট্রাকে অন্য কারও উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে নিখোঁজের কোনো ঘটনা নেই এবং উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তলিয়ে যাওয়া ট্রাকটি উদ্ধারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বিআইডব্লিউটিএ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে মুরগীর ফার্মে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই ফার্মে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও ফায়ার. সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম। এরআগে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের ফাঁড়াবাড়ি সরদারপাড়া গ্রামে অবস্থিত নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। 


জানা যায়, বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ করে নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস  লিমিটেডের ৪ নম্বরjj শেডে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহুর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা  চারদিকে ছড়িয়ে পরে। খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। 

নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস লিমিটেডের ম্যানেজার সুজন অধিকারী বলেন, আমাদের ফার্মে ৭টি শেড রয়েছে। এরমধ্যে ৪ নম্বর শেডে হঠাৎ করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই শেডে মুরগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৫৩০টি। এরমধ্যে অগ্নিকাণ্ডে শেডের ভেতরে থাকা ৪ হাজার ৫০০ পিচ মুরগী মারা যায়। এর পাশাপাশি শেডের ভেতরে থাকা সকল যন্ত্রাংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। তাহলে পূণরায় শেডটি সচল করা সম্ভব হবে। আশা করি সরকার বিষয়টি নজরে নিয়ে সহযোগিতা করবেন। 

ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস  লিমিটেডের ৪ নম্বর শেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আমরা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। 

চট্টগ্রাম মহানগরে হাম-রুবেলা টিকা পাবে ৩ লাখের বেশি শিশু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে হাম-রুবেলা টিকা পাবে ৩ লাখের বেশি শিশু। বৃহস্পতিবার লালদীঘির পাড়ে চসিক পাবলিক লাইব্রেরি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ তথ্য জানান।

এ সময় মেয়র নগরের শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত মাসব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে বলে জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। বক্তব্য রাখেন, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) শেখ ফজলে রাব্বী, সিভিল সার্জন ড. জাহাঙ্গীর আলম, চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ডা. হোসনে আরা, ডা. তপন কুমার, ডা. খাদিজা আহমেদ, ডা. আব্দুল মজিদ শিকদার, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর ডা. ইমং প্রো চৌধুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ফাহমিদা বেগম।

মেয়র আরো বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং পরবর্তীতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।তিনি জানান, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে। প্রতিদিন (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন বাদে) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

চসিক সূত্রে জানা যায়, এবারের ক্যাম্পেইনে ৭টি জোনের ৪১টি ওয়ার্ডে মোট ৩ লাখ ৩০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৪৮টি স্থায়ী টিম, ২০৫টি অস্থায়ী টিম, ৪১টি মপ-আপ টিম এবং ১৪টি সন্ধ্যাকালীন টিকাদান সেশন চালু থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টিকা গ্রহণের জন্য অভিভাবকদের ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে নিবন্ধন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে নিবন্ধন না থাকলেও কোনো শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হবে না। বিশেষ করে বস্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে।

মেয়র আরও জানান, ক্যাম্পেইন সফল করতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতকরণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় সভা, মাইকিং ও গণসচেতনতা কার্যক্রম।

তিনি বলেন, এই কর্মসূচি সফল করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সাংবাদিক, শিক্ষক, ইমাম, পেশাজীবীসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই আমরা একটি সুস্থ, নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে পারবো।
আগামী ২০ এপ্রিল সকাল ১০টায় চসিক জেনারেল হাসপাতাল মিলনায়তনে এ টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন হবে।

আলোচিত খবর

ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ গত রোববার ১২ এপ্রিল বিকালে তেল পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এরপর ক্রুড তেলের সংকটের কারণে মজুত ক্রুড তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে এমনটাই জানা যায়।

পরিশোধনের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয় সংকট মোকাবিলায় মার্চ মাস থেকেই। যেখানে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করা হতো, সেখানে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মজুত শেষ হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ