আজঃ সোমবার ৬ এপ্রিল, ২০২৬

মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টনের বেশি ডিজেল এলো চট্টগ্রাম বন্দরে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টনের বেশি ডিজেল নিয়ে ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। রোববার বেলা ১টার দিকে জাহাজটি পতেঙ্গার ৬ নম্বর ডলফিন জেটিতে ভেড়ানোর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

তিনি বলেন, ১৮৪ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ চীনের পতাকাবাহী জাহাজটি গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। তবে জাহাজটির ড্রাফট ১০ মিটারের বেশি হওয়ায় সরাসরি কর্ণফুলী নদীর বন্দর জেটিতে ভিড়ানো সম্ভব হয়নি।

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ড্রাফট কমাতে চারটি ছোট ট্যাংকারে লাইটারিং করে ৭ হাজার ৭২৭ টন ডিজেল খালাস করা হয়। পরে বন্দরের অভিজ্ঞ পাইলটের তত্ত্বাবধানে শক্তিশালী টাগবোটের সহায়তায় রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা ১টার দিকে জাহাজটি পতেঙ্গার ৬ নম্বর ডলফিন জেটিতে ভিড়ানো হয়।

জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন্সের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম বলেন, ড্রাফট কমানোর জন্য চার দফায় লাইটারিং সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে জাহাজে থাকা বাকি ডিজেল খালাস সম্পন্ন হবে। ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে আসা আরেকটি জাহাজ রোববার ডলফিন জেটি ত্যাগ করেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে নিজস্ব ড্রেজারে এক বছরে ড্রেজিং খাতে ৫০ পঞ্চাশ কোটি টাকা সাশ্রয়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবধর্মী পরিকল্পনায় কর্ণফুলী চ্যানেল ও বন্দর সীমানায় ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনায় যুগোপযোগী পরিবর্তন এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সকলের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সরাসরি হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলী নদীর মোহনা হতে বন্দর সীমানার অন্তর্গত প্রধান জেটি এবং কালুরঘাট পর্যন্ত নেভিগেশনাল চ্যানেলে ও বন্দর সীমার অন্যান্য চ্যানেলে নাব্যতা রক্ষায় এখন এক সাশ্রয়ী ও কার্যকর মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত এবং বাস্তবধর্মী কার্যকর উদ্যোগের ফলে ড্রেজিং খাতের ব্যয় অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা সংস্থার আর্থিক সাশ্রয়ে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণ এবং আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে ড্রেজিং খাতের অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রবণতা কমানো সম্ভব হয়েছে।

গত এক বছরে চবক এর নিজস্ব ড্রেজার এর মাধ্যমে ড্রেজিং ও পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং কার্য সম্পাদনের ফলে চবক এর ড্রেজিং খাতে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সহ সংশ্লিষ্ট সদস্য (হারবার ও মেরিন) এর তত্ত্বাবধানে হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত এই ড্রেজিং কার্যক্রমে বর্তমানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ নিশ্চিত করে ড্রেজিংয়ের কাজগুলোকে ছোট ছোট পরিকল্পিত অংশে ভাগ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কাজের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়ায় ঠিকাদাররা অনেক বেশি দায়বদ্ধতার সাথে কাজ সম্পন্ন করতে পারছে।

মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর প্রশাসনিক তদারকি এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। চবক-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়মিত তদারকির ফলে ড্রেজিংয়ের প্রকৃত পরিমাণ ও মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এই কৌশলী উদ্যোগের ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চ্যানেলগুলোতে প্রয়োজনীয় নাব্যতা সার্বক্ষণিক বজায় থাকছে, যার ফলে বড় আকৃতির বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন অনেক বেশি নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে বন্দরে যাতায়াত করতে পারছে। এর ফলে বন্দরের পণ্য খালাস ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-রুটে চট্টগ্রাম বন্দরের বিশ্বস্ততা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

এছাড়া কর্ণফুলী নদীর উপর সীমানায় বিশেষ করে সদরঘাট হতে ৩য় কর্ণফুলী সেতুর উজানে ১.৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় নেভিগেশনাল চ্যানেল ও সংযুক্ত খাল সমূহে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ড্রেজিং কাজ সম্পাদনের ফলে উক্ত এলাকায় লাইটার জাহাজ সহ অন্যান্য নৌযান সমূহ সমন্বিতভাবে শৃংখলাবদ্ধ উপায়ে বার্থিং করা হচ্ছে বিধায় নৌ দূর্ঘটনা অনেকাংশে উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। একইসাথে উক্ত এলাকায় শহরের সাথে সংযুক্ত ৮ টি গুরুত্বপূর্ণ খালের মূখে চবক সীমানায় ড্রেজিং পূর্বক নাব্যতা রক্ষা করার ফলে খাল দিয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে আগত পানি সমূহ নির্বিঘ্নে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে ইহা আগামী বর্ষায় চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে অনেকাংশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এরূপ পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের ফলে কর্ণফুলী নদীর নেভিগেশনাল চ্যানেল ও অন্যান্য অংশে দীর্ঘ মেয়াদী টেকসই হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল অবস্থার তেমন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে না, যা নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সহ নদীতে পলি জমার হার অনেকাংশে কমে আসছে এবং চট্টগ্রাম বন্দর সহ অন্যান্য ব্যাক্তি মালিকানাধীন জেটি/ বার্থ সমূহ এর সুফল পাচ্ছে। উল্লেখ্য, উক্ত খাল সমূহের সম্মুখভাগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ড্রেজিং করা হলে উক্ত সংস্থার খাল ড্রেজিং খাতে অতিরিক্ত কমপক্ষে ৮৫ পঁচাশি কোটি টাকা খরচ হত, যা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ড্রেজিং করার কারণে সাশ্রয় হয়েছে।


ড্রেজিং খাতে সাশ্রয় হওয়া এই বিপুল অর্থ এখন বন্দরের অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে। যথাযথ তদারকির ফলে ঠিকাদার-নির্ভর ড্রেজিং কার্যক্রমে এই ধরনের আর্থিক শৃঙ্খলা ও ব্যয়-সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শুধুমাত্র বন্দরের অভ্যন্তরীণ ভিত্তিকেই শক্তিশালী করেনি, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নের এই ধারা বজায় রেখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের এই প্রধান প্রবেশদ্বারকে বিশ্বমানের আধুনিক বন্দরে রূপান্তর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এবার পর্বতারোহী বাবর আলীর জয়ের লক্ষ্য বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত ‘মাউন্ট মাকালু’।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের পর্বতারোহী বাবর আলীর এবার জয়ের লক্ষ্য নিয়েছেন বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত মাউন্ট মাকালু। এর আগে আট হাজার মিটারের চারটি শৃঙ্গ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করা এই পর্বতারোহী এবার পঞ্চম শৃঙ্গ হিসেবে বেছে নিয়েছেন ৮ হাজার ৪৮৫ মিটার উচ্চতার মাকালুকে। রোববার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ‘এক্সপিডিশন মাকালু: দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

এর আয়োজন করে পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নেপালের উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন বাবর আলী। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে কাঠমান্ডু থেকে টুমলিংটার হয়ে ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে বেস ক্যাম্পে পৌঁছাবেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হবে মূল অভিযান। পুরো অভিযানে সময় লাগতে পারে প্রায় ৫০ দিন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মে মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে চূড়ায় আরোহণের চেষ্টা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাবর আলী বলেন, বিশ্বের ১৪টি আট হাজার মিটার উচ্চতার পর্বত জয়ের স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। এরই মধ্যে সে পথে কিছুটা এগিয়েছেন তিনি। মাকালু সেই লক্ষ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শুরুতে পাকিস্তানের নাঙ্গা পর্বত লক্ষ্য থাকলেও অর্থসংকট ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে পরিকল্পনা বদলে মাকালুকে বেছে নিয়েছেন।

মাকালুকে ‘চ্যালেঞ্জিং’ পর্বত উল্লেখ করে বাবর আলী বলেন, খাড়া ঢাল ও প্রবল বাতাসের জন্য এটি আরোহীদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলে। সেই চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি প্রস্তুত। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অভিযানের ব্যবস্থাপক ও ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের সভাপতি ফরহান জামান। এতে বক্তব্য দেন ক্লাবটির উপদেষ্টা শিহাব উদ্দীন ও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ভিজুয়াল নেটওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ নুর ফয়সাল। অনুষ্ঠানে বাবরের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

২০১৪ সাল থেকে পর্বতারোহণে সক্রিয় বাবর আলী এর আগে এভারেস্ট, লোৎসে, অন্নপূর্ণা-১ ও মানাসলুসহ একাধিক শৃঙ্গ জয় করেছেন। ২০২৫ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া মানাসলু জয় করেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ