আজঃ সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

সরকারি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ

চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঘাটে অলস বসেসমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা * বিপাকে কয়েক হাজার জেলে পরিবার আছে শত শত ট্রলার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা * বিপাকে কয়েক হাজার জেলে পরিবার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞায় জেলে পরিবারগুলোর জীবনে মেনে এসেছে দূর্ভোগ। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পড়ায় চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন এসব পরিবারগুলো। এর মধ্যে সরকারি খাদ্যসহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ জেলের অভিযোগ, এখনো তাদের হাতে পৌঁছেনি সেই সহায়তা। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন ঘাটে নোঙর করে আছে শত শত ট্রলার, থমকে গেছে মাছ ধরার ব্যস্ততা, স্থবির হয়ে পড়েছে মৎস্যনির্ভর অর্থনীতি।
জানা গেছে, সমুদ্রে ৫৮ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে এক সপ্তাহের বেশি সময় আগে। দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ প্রতিবছরের মতো এবারও কার্যকর করা হয়েছে।

এর প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে উপকূলীয় জেলেদের জীবনে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার কয়েক হাজার জেলে পরিবার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম মহানগরসহ ছয়টি উপজেলার মোট ৪৬ হাজার ৯৭ জন সমুদ্রগামী জেলেকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে ৫৮ দিনের জন্য খাদ্যসহায়তার চাল দেওয়ার কথা।
তবে অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ জেলে পরিবারে এখনো পৌঁছায়নি এই সরকারি সহায়তা। মো. বাবুল নামে এক জেলে বলেন, আমরা সাগরে অনেক কষ্ট করে মাছ ধরি। এখন সরকার সাগরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমরা শুধু সাগরে জাল ফেলা আর টানা শিখেছি, অন্য কোনো কাজ জানি না।

সরকারি চালও পাচ্ছি না। এখন বাড়িতে বসে থাকা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। আমরা চলব কী দিয়ে?
তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগমের দাবি, নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করতে জেলেদের কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, মৎস্যজীবীদের হালনাগাদ কার্যক্রম সারা বছরই চলে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, জেলেদের নিবন্ধনের জন্য মৎস্য অফিসে আবেদন করতে হয়। তারা কোন নৌকায় সাগরে যান, তার প্রত্যয়নপত্র স্থানীয় চেয়ারম্যান বা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরের কাছ থেকে নিতে হয়।

এরপর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে তা মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠানো হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে তালিকাভুক্ত করা হয়। অনেক সময় জেলেরা সঠিক তথ্য বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দেওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়, ফলে ভোগান্তি বাড়ে। তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে যেসব জেলে এখনো নিবন্ধনের বাইরে আছেন, পর্যায়ক্রমে তাদের সবাইকে সহায়তার আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে জেলেদের দূর্ভোগের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ফিশারিঘাট, রানী রাশমনি ঘাট, উত্তর কাট্টোলি ঘাটসহ জেলার উপকূলবর্তী ঘাটগুলোতে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে শত শত সমুদ্রগামী ট্রলার। গত ১৫ এপ্রিল থেকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর ঘাটে ফিরতে শুরু করে এসব ট্রলার। জেলেদের কেউ নতুন জাল বুনছেন, কেউ চায়ের আড্ডায় সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ নিজেদের ট্রলার ও ফিশিং বোট পুনরায় চলাচল উপযোগী করে নিচ্ছেন।

রতন দাশ নামে নগরের ফিশারিঘাটের জেলে জানান, সরকারি খাদ্যসহায়তা কেউ পাচ্ছে, আবার কেউ পাচ্ছে না। পরিবারে আটজন সদস্য। আমার কার্ড থাকলেও এখনো চাল পাইনি। বলা হয়েছে, আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তবে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম।

তিনি বলেন, সাগরে যারা মাছ ধরতে যেতে পারছেন না, তাদের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যে তালিকাভুক্ত জেলেরা নির্ধারিত চাল পেয়ে যাবেন। নিবন্ধিত জেলেরা যেন সঠিকভাবে চাল পান, সে জন্য মাঠপর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম মনিটর করা হচ্ছে।এদিকে চালের গুণগতমান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক জেলে। পাশাপাশি ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।

সরকারিভাবে নিবন্ধিত হতে বিভিন্ন পর্যায়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করে শংকর কুমার দাশ বলেন, সরকার অনুদান দেয়, কিন্তু আমরা পাই না। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা যাদের পছন্দ করেন, শুধু তাদেরই অনুদান দেন। আমার পরিবারে বারো জন সদস্য। আমরা সমুদ্রে যাই তিনজন, কিন্তু শুধু আমাকে কার্ড দেয়া হয়েছে। তাও কার্ড পেতে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা স্বাক্ষর আর কাগজপত্রের জন্য হাজার হাজার টাকা নেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলায় ৩০০ খুঁটির মঞ্চে ১০৮ বলীর লড়াই চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের লালদীঘি ময়দানে ঐতিহ্যবাহী ১১৭তম আবদুল জব্বারের বলীখেলার আসরে অংশ নিয়েছে ১০৮ জন বলী। শনিবার বিকেল তিনটার দিকে ৩০০টিরও বেশি খুঁটি দিয়ে নির্মিত বিশেষ মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী আসরের উদ্বোধন করেন। তবে এই আসরেন চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ। ফাইনালে তিনি রাশেদ বলীকে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছেন তিনি।এ নিয়ে টানা চতুর্থবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন শরীফ। ফাইনালে দুই বলীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেন দুই জন। ২৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের খেলায় রাশেদকে পরাজিত করে জয়ী হন বাঘা শরীফ।


এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় মিঠু ও রাশেদ।এ খেলায় মিঠুকে হারিয়ে রাশেদ ফাইনালে যান। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় বাঘা শরীফ ও শাহ জালাল। যদি সমঝোতার ভিত্তিতে বাঘা শরীফকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ফলে ফাইনালে মুখোমুখী হন গতবারের দুই ফাইনালিস্ট বাঘা শরীফ ও রাশেদ। এ নিয়ে টানা তিন আসরে ফাইনালে মুখোমুখী হয়েছেন তারা।

এদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জিতেছেন মিঠু।রাশেদ বলী কুমিল্লা সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের নসরাইল গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে বাঘা শরীফ কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মণিপুর গ্রামের বাসিন্দা।খেলা শেষে জয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

এদিকে খেলা শুরুর আগেই মাঠ ও আশপাশ এলাকায় জড়ো হন হাজারো দর্শক। প্রতিটি লড়াই ঘিরে তৈরি হয় তুমুল উত্তেজনা, করতালি ও উচ্ছ্বাস। পুরো এলাকা জুড়ে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ।এদিকে, বলীখেলাকে ঘিরে লালদীঘি মাঠে বসেছে তিন দিনের বৈশাখি মেলা। মেলায় রয়েছে মাটির সামগ্রী, বাঁশ ও কাঠের হস্তশিল্প, খেলনা, লোকজ অলংকার এবং দেশীয় খাবারের নানা দোকান। শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে নাগরদোলা ও অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার।পুলিশ সদস্যরা ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আবদুল জব্বার সওদাগরের হাত ধরে এই বলীখেলার সূচনা হয়। সময়ের সঙ্গে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। শত বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও লালদীঘির এই বলীখেলা এখনও সমানভাবে টানে দর্শকদের। শক্তি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন হয়ে উঠেছে এই আয়োজন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ