আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

দেশে স্থিতিশীলতা নষ্ট করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: চবিতে অর্থমন্ত্রী

চবি সংবাদদাতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যারা দেশে স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্বরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে এক সংবাদকর্মী প্রশ্ন করেন, দুইটা দলই একসঙ্গে অভ্যুত্থান করেছিল; এখন পাল্টাপাল্টি এ ধরনের ঘটনা ঘটছে কেন?জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সমাজে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি থাকে, এদের দল বলে কিছু নেই। এদেরকে বাংলাদেশের আইন ‘টেক কেয়ার’ করবে। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। আইনের বাইরে কারও যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, স্থিতিশীল ও সংবেদনশীল একটি দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমরা নির্বাচনে গিয়েছি এবং নির্বাচিত হয়েছি জনগণের ভোটে। বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা যদি না থাকে, সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যারা স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে, এমন কোনো শক্তি তারা যে-ই হোক, আইনের হাত থেকে কেউ ছাড় পাবে না। স্থিতিশীল, সংবেদনশীল ও সহনশীল রাজনীতির পথে চলছে বাংলাদেশ; এই পথকে যারা বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমি অসাম্প্রদায়িক কথাটা বিশ্বাস করি না। বাংলাদেশের সংবিধানে প্রত্যেকটি নাগরিকের অধিকার সমান-কারো বেশি নয়, কারো কম নয়। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু, সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সাম্প্রদায়িক-এই শব্দগুলো ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। এগুলো ব্যবহার করা মানে কোথাও একটা সমস্যা আছে ধরে নেওয়া। আমরা সবাই সমান নাগরিক, এটিই আমাদের মূল পরিচয় হওয়া উচিত।


তিনি আরও বলেন, বৈচিত্র্য ছাড়া কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র এগোতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা দিয়েছে, আবার একটি দাতব্য পরিবার সহায়তা করেছে- এই সমন্বয়টাই আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজন।একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে মন্দির স্থাপন কোনো সাধারণ বিষয় নয়; এটি দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠে বৈচিত্রের বাস্তব প্রতিফলন। আমরা যে ইউনিটি ইন ডাইভারসিটির কথা বলি, আজকের এই উদ্যোগ সেটিরই উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, সবকিছু সরকার একা করতে পারে না। সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, কিন্তু সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা বাংলাদেশকে একটি রেইনবো নেশন হিসেবে দেখতে চাই। এই দেশের সীমানার মধ্যে যারা বাস করে, তারা সবাই প্রথমে বাংলাদেশি। এরপর তাদের ধর্ম, বর্ণ, সংস্কৃতি-যা আমাদের বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি অনেকদিন পরে এসেছি। মনে হচ্ছে আমি এক অসাধারণ প্রকৃতিতে ঢুকে গেছি। এই পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে হবে। এজন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। একটি সুস্থ ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া আমি উপাচার্যকে আবাসনের জন্য বলেছি আপনারা প্রস্তাব দিন, আমরা সহযোগিতা করব। এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল দরকার।

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এছাড়া অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান অনিতা চৌধুরীও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। ২০১১ সালে সনাতন ধর্ম পরিষদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চবির উত্তর ক্যাম্পাস এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমিতে কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে এটি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে পাশ হয়। এরপর অদুল-অনিতা ট্রাস্টের অর্থায়নে নির্মিত এই মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ