আজঃ সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

নারীদের অহংকার এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা; রাজপথ পেরিয়ে মাননীয় সংসদ সদস্যের দিকে

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমার নাম এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উচ্চারিত হচ্ছে। তবে এই উঠে আসা হঠাৎ নয়-এর পেছনে আছে দীর্ঘদিনের রাজপথের লড়াই, প্রতিকূলতার সঙ্গে আপসহীন অবস্থান, আর দলীয় রাজনীতির প্রতি একধরণের দৃঢ় অঙ্গীকার।

পাবনার চাটমোহরের আফ্রাতপাড়া মহল্লা থেকে উঠে আসা আরিফা সুলতানা রুমা রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই নিজেকে গড়ে তুলেছেন। প্রয়াত বিএনপি নেতা আক্কাস আলী মাস্টারের মেয়ে হিসেবে রাজনীতির পরিবেশে বড় হলেও নিজের জায়গা তৈরি করতে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক অনেক সংগ্রামের পথ। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে চতুর্থ রুমা খুব অল্প বয়স থেকেই সংগঠনের কাজে নিজেকে জড়িয়ে তুলেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ইডেন মহিলা কলেজে পড়াকালীন ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। পরে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সন্মানিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এই পথচলায় ছিল না কোনো সহজ রাস্তা। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার পুলিশি বাধা, হামলা, মামলা ও জেলে যাওয়া সব বাধার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি বার বার।

২০১৮ সালে কারাভোগ এবং টানা ৮ দিনের রিমান্ডে এই অভিজ্ঞতাগুলো শুধু তার রাজনৈতিক পরিচয়কেই নয়, ব্যক্তিত্বকেও আরও দৃঢ় করেছে। যখন দলের দুঃসময়ে অনেকেই দূরে সরে গেছেন, তখনও আরিফা সুলতানা রুমার অবস্থান ছিল সুস্পষ্ট, রাজপথই ছিল তার একমাত্র ঠিকানা।

স্থানীয়দের ভাষায়, “সংগ্রামকে যারা জীবনের অংশ বানাতে পারে, তারাই একসময় নেতৃত্বে আসে,” আরিফা সুলতানা রুমার ক্ষেত্রে এই কথাটি যেন বাস্তব হয়ে উঠেছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ এলাকায় নারী জাগরণে তার সক্রিয় ভূমিকা তাকে নতুনভাবে আলোচনায় নিয়ে আসে।

আরিফা সুলতানা রুমা জানিয়েছেন, তিনি দলের জন্য কখনও আপস করেননি। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থির সময় থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত তিনি মাঠে থেকেছেন, নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য ধরে রেখেছেন। তার এই ধারাবাহিক উপস্থিতি এবং সক্রিয়তা দলীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করছেন তিনি।

তিনি জানান, এখন সামনে নতুন অধ্যায় সংসদ। সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর সামনে তার দায়িত্ব আরও বেড়েছে। শুধু দলের প্রতিনিধিত্ব নয়, বরং এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষ করে নারীদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার দায়ও এখন তার কাঁধে বলে জানান আরিফা সুলতানা রুমা।

রাজনীতিতে অনেকেই আসেন, আবার হারিয়েও যান। কিন্তু যারা প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে নিজেদের তৈরি করেন, তাদের গল্প আলাদা হয়ে থাকে। এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমার গল্প ঠিক তেমনই সংগ্রাম, স্থিতি, আর ধীরে ধীরে সামনে উঠে আসার এক বাস্তব উদাহরণ।

মনোনয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, “ওয়ান ইলেভেন থেকে মাঠে ছিলাম। দলের দুর্দিনে নানা মেরুকরণ হয়েছে। কিন্তু আমার ঠিকানা ছিল বিএনপি ও জিয়া পরিবার। দলের জন্য কখনও কোথাও আপস করিনি। নারী জাগরণের অগ্রদূত ও সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেও আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। তাই সংরক্ষিত নারী এমপি প্রার্থী হিসেবে দল আমাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশা করছি দলকে আরও সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবো,ইনশাল্লাহ।”

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষার্থীরা মেধাবী হয়ে গড়ে ওঠতে প্রশাসন কাজ করছে : ডিসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীরা যেন মেধাবী হয়ে গড়ে ওঠার লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার পরীক্ষাপদ্ধতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রোববার সকাল ১১টার দিকে আনোয়ারা উপজেলায় চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আনোয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং আনোয়ারা সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, পরীক্ষার্থীরা যেন যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে আসে, সে বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন মেধাবী হয়ে গড়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে দেশ ও পরিবারের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে-সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে। কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তাদের প্রস্তুতি অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ভালো হয়েছে এবং তারা সন্তুষ্ট। তিনি জানান, বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা গেছে, পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।পরিদর্শনকালে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র বসুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে বৈশাখী মেলায় ধাপে ধাপে চাঁদাবাজি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষে বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে গত শুক্রবার থেকে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ,নরসিংদী, খুলনা, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসেছেন তাদের পণ্য নিয়ে। বেচা-কেনাও জমে উঠেছে।

এদিকে মেলা উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই বৈশাখী মেলাকে ঘিরে এবারও উঠেছে চাঁদাবাজির অভিযোগ। এদিকে বৈশাখী মেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে চারজনকে ধরে থানা হাজতে নিয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। শুক্রবার রাতে তাদের মেলা থেকে ধরে থানায় নিয়ে আসা হয় বলে জানা গেছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, পণ্য নিয়ে আসা প্রতিটি গাড়ির জন্য পুলিশকে দিতে হচ্ছে ২ হাজার টাকা। পাশাপাশি অস্থায়ী দোকান বসানোর জন্য ভাড়ার নামে আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। এর বাইরে দলবেঁধে এসে আরও চাঁদা নিচ্ছে স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র। কোতোয়ালী মোড়, সিনেমা প্যালেস, লালদীঘি, আন্দরকিল্লাসহ আশপাশের এলাকায় বসা ব্যবসায়ীরা এসব কথা জানান।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মেলায় অংশ নিতে হলে কয়েক ধাপে অর্থ গুনতে হয়। প্রথমে মালামাল আনার গাড়িপ্রতি ২ হাজার টাকা, এরপর দোকান বসানোর জন্য ‘ভাড়া’ বাবদ দোকানভেদে ৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সবশেষে দোকান সাজানোর পর রাতে ৫ থেকে ৭ জনের দল এসে আরও ২ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিয়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের বছরের তুলনায় এবার চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন।
লালদীঘি ময়দান ঘিরে বসা এই মেলায় রাস্তার ধারে, মূল সড়কে এবং দোকানের আশপাশে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের দৌরাত্ম্য চলছে বলে অভিযোগ।স্থানীয় কিছু ব্যক্তি, দোকানদার ও বিভিন্ন গোষ্ঠী এ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

চাঁদাবাজির বিষয়ে মেলার আয়োজক কমিটির সহ সভাপতি ইসমাইল বালী বলেন, আমাদের লোকজন মাইকিং করে চাঁদা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করছে। যে চাঁদা নিতে আসবে তার ভিডিও ধারণ করার জন্য আমরা বলেছি। আমাদের জানাতে বলেছি। আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কেউ আমাদের কাছে এসে অভিযোগ দিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, একশো দুইশো টাকা কিংবা রং মেরে জায়গা দখল করে ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি কিছুটা সত্য, যেখানে পাঁচশো থেকে এক হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে পাঁচ-দশ হাজার বা ত্রিশ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য না, একদম মিথ্যা কথা। প্রশাসন এখানে আছে- পুলিশ, এসবি, ডিবি; তারা চাঁদাবাজদের ধরছে না কেন?

মেলার আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাঁদা বা টোল তোলা হয় না। কেউ জোরপূর্বক অর্থ আদায় করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আমাদের ১১ জনের একটা কমিটি আছে। চাঁদা কারা নিচ্ছে, কে করছে-এসব আমরা সবাই কমবেশি জানি। এটা আমি আর নতুন করে বলতে চাচ্ছি না। চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, কিন্তু তারা তবুও নিচ্ছে। এটা দেখার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের। আমাদের আহ্বান—চাঁদাবাজি যে বা যারাই করুক, ধরিয়ে দিন। কারা চাঁদা নিচ্ছে সেটা সবাই জানে। চাঁদাবাজদের ব্যাপারে চট্টগ্রামবাসী নিশ্চয়ই সজাগ আছে।

এদিকে মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, গাড়িপ্রতি পুলিশের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ তার জানা নেই। এটা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। আপনি তথ্য ও ডকুমেন্টস পেলে দিবেন, কর্তৃপক্ষকে জানাবো।এদিকে বৈশাখী মেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে চারজনকে শুক্রবার রাতে ধরে থানা হাজতে নিয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আটকরা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক যুগ্ম আহ্বায়কের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আটকের পর তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য উচ্চ মহল থেকে তদবিরের কারণে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, যাদের ধরে আনা হয়েছে তারা মাইনর, স্কুলের শিক্ষার্থী। ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। তাদের ধরে আনা হয়েছে। তাদের কাগজপত্র নিয়ে আসা হয়েছে, যাচাই-বাছাই করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ