এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষে বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে গত শুক্রবার থেকে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ,নরসিংদী, খুলনা, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসেছেন তাদের পণ্য নিয়ে। বেচা-কেনাও জমে উঠেছে।

এদিকে মেলা উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই বৈশাখী মেলাকে ঘিরে এবারও উঠেছে চাঁদাবাজির অভিযোগ। এদিকে বৈশাখী মেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে চারজনকে ধরে থানা হাজতে নিয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। শুক্রবার রাতে তাদের মেলা থেকে ধরে থানায় নিয়ে আসা হয় বলে জানা গেছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, পণ্য নিয়ে আসা প্রতিটি গাড়ির জন্য পুলিশকে দিতে হচ্ছে ২ হাজার টাকা। পাশাপাশি অস্থায়ী দোকান বসানোর জন্য ভাড়ার নামে আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। এর বাইরে দলবেঁধে এসে আরও চাঁদা নিচ্ছে স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র। কোতোয়ালী মোড়, সিনেমা প্যালেস, লালদীঘি, আন্দরকিল্লাসহ আশপাশের এলাকায় বসা ব্যবসায়ীরা এসব কথা জানান।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মেলায় অংশ নিতে হলে কয়েক ধাপে অর্থ গুনতে হয়। প্রথমে মালামাল আনার গাড়িপ্রতি ২ হাজার টাকা, এরপর দোকান বসানোর জন্য ‘ভাড়া’ বাবদ দোকানভেদে ৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সবশেষে দোকান সাজানোর পর রাতে ৫ থেকে ৭ জনের দল এসে আরও ২ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের বছরের তুলনায় এবার চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন।
লালদীঘি ময়দান ঘিরে বসা এই মেলায় রাস্তার ধারে, মূল সড়কে এবং দোকানের আশপাশে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের দৌরাত্ম্য চলছে বলে অভিযোগ।স্থানীয় কিছু ব্যক্তি, দোকানদার ও বিভিন্ন গোষ্ঠী এ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
চাঁদাবাজির বিষয়ে মেলার আয়োজক কমিটির সহ সভাপতি ইসমাইল বালী বলেন, আমাদের লোকজন মাইকিং করে চাঁদা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করছে। যে চাঁদা নিতে আসবে তার ভিডিও ধারণ করার জন্য আমরা বলেছি। আমাদের জানাতে বলেছি। আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কেউ আমাদের কাছে এসে অভিযোগ দিচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, একশো দুইশো টাকা কিংবা রং মেরে জায়গা দখল করে ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি কিছুটা সত্য, যেখানে পাঁচশো থেকে এক হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে পাঁচ-দশ হাজার বা ত্রিশ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য না, একদম মিথ্যা কথা। প্রশাসন এখানে আছে- পুলিশ, এসবি, ডিবি; তারা চাঁদাবাজদের ধরছে না কেন?
মেলার আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাঁদা বা টোল তোলা হয় না। কেউ জোরপূর্বক অর্থ আদায় করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আমাদের ১১ জনের একটা কমিটি আছে। চাঁদা কারা নিচ্ছে, কে করছে-এসব আমরা সবাই কমবেশি জানি। এটা আমি আর নতুন করে বলতে চাচ্ছি না। চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, কিন্তু তারা তবুও নিচ্ছে। এটা দেখার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের। আমাদের আহ্বান—চাঁদাবাজি যে বা যারাই করুক, ধরিয়ে দিন। কারা চাঁদা নিচ্ছে সেটা সবাই জানে। চাঁদাবাজদের ব্যাপারে চট্টগ্রামবাসী নিশ্চয়ই সজাগ আছে।
এদিকে মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, গাড়িপ্রতি পুলিশের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ তার জানা নেই। এটা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। আপনি তথ্য ও ডকুমেন্টস পেলে দিবেন, কর্তৃপক্ষকে জানাবো।এদিকে বৈশাখী মেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে চারজনকে শুক্রবার রাতে ধরে থানা হাজতে নিয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আটকরা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক যুগ্ম আহ্বায়কের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আটকের পর তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য উচ্চ মহল থেকে তদবিরের কারণে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, যাদের ধরে আনা হয়েছে তারা মাইনর, স্কুলের শিক্ষার্থী। ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। তাদের ধরে আনা হয়েছে। তাদের কাগজপত্র নিয়ে আসা হয়েছে, যাচাই-বাছাই করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।










