আজঃ সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

আইইউটি পরিদর্শন গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) স্কুল অব সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি গাজীপুরে অবস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) এর ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (এফইটি) পরিদর্শন করেছে। একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে আয়োজিত এই সফরটি উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পরিদর্শনকালে সিআইইউ’র প্রতিনিধি দল আইইউটি’র অত্যাধুনিক বিভিন্ন গবেষণা ও প্রযুক্তি ল্যাব পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিল রোবোটিক্স ল্যাব, সেমিকন্ডাক্টর ল্যাব, সিজারি ল্যাব, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ, কম্যুনিকেশন্স ল্যাব, সিম্যুলেশন ল্যাব, ডিএসপি ও

ভিএলএসআই ল্যাব, কন্ট্রোল সিস্টেম ল্যাব এবং মেশিন ল্যাব ও ওয়ার্কশপ। পরিদর্শনের সময় তারা এসব ল্যাবে পরিচালিত চলমান গবেষণা কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন। পাশাপাশি, উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেইট (বিএইটিই) এক্রেডিটেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সিআইইউ’র প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিন অধ্যাপক ড. আসিফ ইকবাল, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাজ্জাতুল ইসলাম এবং ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. রুবেল সেন গুপ্ত।

আইইউটি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম অতিথিদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় যৌথ গবেষণা উদ্যোগ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি, সমন্বিত প্রকল্প এবং জ্ঞান বিনিময়ের বিভিন্ন ক্ষেত্র গুরুত্ব পায়।

এসময় আইইউটি’র উপ-উপাচার্য ড. হিসেইন আরাবি নুর, ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলোজি এর ডিন আধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ পাটোয়ারী, মেকানিক্যাল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান আধ্যাপক ড. এম আহসান হাবীব, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান আধ্যাপক ড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, সিআইইউ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব লুৎফি এম আইয়ুব এবং সদস্য জনাব সৈয়দ মাহমুদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এই একাডেমিক সফরের মাধ্যমে চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ) এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) এর মধ্যে একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে অভিমানে ঘরছাড়া কিশোর, নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি পেয়ে টাকা দাবি প্রতারক চক্রের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ঘর ছেড়েছিল কিশোর মুহিন। নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেয় তার পরিবার। আর এই বিজ্ঞপ্তির সুযোগ নিয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বসে একটি প্রতারক চক্র!

এরপর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে চট্টগ্রাম নগরের রেলস্টেশন এলাকার একটি কুলিং কর্নার থেকে ওই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার হওয়া কিশোর মো. মুহিন (১৫) চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুনছুর আলীর ছেলে। সে নগরের কালামিয়া বাজার এলাকায় একটি কার ও মাইক্রো গ্যারেজে কাজ করত।এর আগে, গত ১৯ এপ্রিল সকালে চরলক্ষ্যা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মুহিন।

জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরকে উদ্ধার করা হয় এবং পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মুক্তিপণ দাবি করা প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত চলছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিশোর মুহিন একসময় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। এক বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে সে গ্যারেজে কাজ শুরু করে। কিন্তু গ্যারেজে নিয়মিত না যাওয়ায় মায়ের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। এর জেরেই অভিমান করে সে বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে সে নগরের চট্টেশ্বরী রোডের একটি চায়ের দোকানে কাজ করত বলে জানতে পারে পরিবার।

এদিকে, মুহিন নিখোঁজ হওয়ার পর তার সন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি দেখে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি চক্র। এমনকি ফোনে কিশোরের কণ্ঠস্বরও শোনানো হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে উদ্ধারের পর জানা যায়, অপহরণের ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এটি একটি প্রতারণা।

কিশোরের মামা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, মুহিন মূলত অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে নগরের ভেড়া মার্কেট এলাকায় কয়েক দিন অবস্থান করে রেলস্টেশন-সংলগ্ন একটি কুলিং কর্নারে আশ্রয় নেয় সে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ নিয়ে একটি প্রতারক চক্র ফোন করে নিজেদের ‘অপহরণকারী’ পরিচয় দিয়ে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এমনকি সর্বশেষ অন্য একটি নম্বর থেকে ২ হাজার ২০০ টাকাও দাবি করা হয়।

চট্টগ্রামে নদীপথে ভুয়া চক্রের দৌরাত্ম্য, জনতার হাতে ধরা দুই চাঁদাবাজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া থানার মন্দিরঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে বাল্কহেড শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের সময় দুই প্রতারককে হাতেনাতে আটক করে নৌ পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। আটক দুইজন হলেন-শাহে আলম ওরফে দাদা ভাই (৪৬)। বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার চরমানিকা ইউনিয়নের দক্ষিণ আইসা গ্রামের হানিফ বেপারির ছেলে ও অন্যজন হলেন মোহাম্মদ লিটন (৩৭)। বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় কুমিরা এলাকার আজিজ বলির বাড়ি নোয়া মিয়ার ছেলে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদরঘাট নৌ পুলিশের ওসি মো. মিজানুর রহমান।

জানা গেছে, অভিযুক্তরা ভাড়া করা একটি নৌকা নিয়ে নদীর মাঝখানে গিয়ে চলাচলরত বাল্কহেড থামাত। এরপর কখনো নিজেদের নৌ পুলিশ, কখনো শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা, আবার কখনো সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করত। তাদের সন্দেহজনক আচরণে সতর্ক হয়ে স্থানীয়রা একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করে।

আটকের সময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির নগদ ২ হাজার টাকা, একটি লোহার স্টিক এবং সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের একাধিক ভুয়া পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। তারমধ্যে জেট টিভিরও দুটি কার্ড মিলে। পাশাপাশি নদীর পাড়ে রাখা তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করে নৌ পুলিশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি নদীপথে বিভিন্ন পরিচয়ে শ্রমিকদের হয়রানি করে আসছিল। হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে। পরে খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জনতা তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ